ঢাকা, বুধবার ১৫, জুলাই ২০২৬ ২২:০৯:২১ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

আজ মে দিবস, নারী আজও মজুরি বৈষম্যের শিকার

সালেহীন বাবু

উইমেননিউজ২৪.কম

প্রকাশিত : ০৪:০৬ পিএম, ১ মে ২০১৮ মঙ্গলবার | আপডেট: ০২:৫৭ পিএম, ২ মে ২০১৮ বুধবার

আজ ১ মে মঙ্গলবার মহান মে দিবস। শ্রমিক শ্রেণীর শোষণমুক্তির সুদীর্ঘ যাত্রাপথে প্রথম পদক্ষেপের দিন। ১৮৮৬ সালের ১ মে আমেরিকার শিকাগো শহরে শ্রমিকরা সে যুগের বৃহত্তম শ্রমিক ধর্মঘটের আয়োজন করেছিল। মূলত ৮ ঘণ্টা শ্রমের দাবি ছিলো তাদের।

 

তৎকালীন মার্কিন সরকার এবং মালিক পক্ষ স্বভাবতই শ্রমিকদের এই আন্দোলনকে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে স্তব্ধ করতে চেয়েছিল। পুলিশ এবং মালিকদের পেটোয়া বাহিনী নিরস্ত্র শ্রমিকদের ওপর নৃশংস আক্রমণ চালিয়েছিল, রক্ত ঝরিয়েছিল। হে মার্কেটের শ্রমিকদের রক্তরাঙা পতাকা হাতে নিয়ে ১২৯ বছর ধরে দুনিয়াব্যাপী শ্রমিকরা শোষণ-নিপীড়নের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াই-সংগ্রামের নতুন নতুন অধ্যায় রচনা করে চলেছে।


বাংলাদেশে নানা আয়োজনে মে দিবস উদযাপন করা হচ্ছে। এবারে মে দিবসের প্রতিপাদ্য, ‘শ্রমিক-মালিক ভাই ভাই সোনার বাংলা গড়তে চাই।’ প্রতিপাদ্যে সমতার কথা বলা হলেও আজও বাংলাদেশের মেয়েরা কর্মক্ষেত্রে চরম বৈষম্যের শিকার এর মধ্যে অন্যতম বেতম বৈষম্য।

 

গত বেশ কয়েক বছর ধরে মেয়েরা সামাজিক ও ধর্মীয় বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে বেঁচে থাকার প্রয়োজনেই অধিক হারে কর্মক্ষেত্রে যোগদান করছে। জাতীয় উৎপাদন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। শ্রমজীবী-কর্মজীবী নারীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়লেও সে অনুযায়ী নারীর উপযোগী কর্মপরিবেশ দেশে তৈরি হয়নি। কর্মক্ষেত্রে নারীদের নানা বৈষম্য, নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।

 

বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নারী শ্রমিকদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। কর্মক্ষেত্রে নারীরা এখন আর পিছিয়ে নাই। এমন কোনো খাত নেই যেখানে নারীরা কাজ করছে না। দেশ-বিদেশে, গ্রামে-শহরে, কলকারখানা, শিল্প-প্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত, কৃষি, গৃহকর্ম- সব জায়গায় নারীর অংশগ্রহণ চোখে পড়ে। সমগ্র অর্থনীতিতে নারীর অবদান দৃশ্যমান।

 


এখনও কোনো কোনো ক্ষেত্রে কর্মক্ষেত্রে নারী অনিরাপদ। কাজের পরিবেশ থেকে শুরু করে মজুরি সব ক্ষেত্রে নারী কর্মীর অধিকার ও কল্যাণে সুনজর প্রয়োজন। কারণ বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নারীরা ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পুরুষ শ্রমিকের তুলনায় নারী শ্রমিকরা নিরাপদ কর্মপরিবেশ, ন্যায্য মজুরি, শ্রমিকের অধিকার ও কল্যাণ বা সেবা কম পেয়ে থাকে। এছাড়া নারী শ্রমিকরা বেশি ঝুঁকিতে থাকে।

 

 

সম্প্রতি পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে ১৫ বছরের ঊর্ধ্বে অপ্রাতিষ্ঠানিক কর্মে নিয়োজিত রয়েছেন ৫ কোটি ১৭ লাখ ৩৪ হাজার মানুষ। এর মধ্যে নারী শ্রমিক রয়েছেন ১ কোটি ৭১ লাখ ২১ হাজার আর পুরুষ রয়েছেন ৩ কোটি ৪৬ লাখ ১৩ হাজার।

 


বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘শ্রমশক্তি জরিপ (২০১৬-১৭)’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত শ্রমশক্তির মধ্যে ব্যবস্থাপক পর্যায়ে কর্মরত রয়েছেন ৬ লাখ ৬১ হাজার মানুষ। তাদের মধ্যে নারীর সংখ্যা ৬৪ হাজার এবং পুরুষ ৫ লাখ ৯৭ হাজার। পেশাদার রয়েছেন ১৯ লাখ ৪০ হাজার। এর মধ্যে পুরুষ সাড়ে ১২ লাখ এবং মহিলা ৬ লাখ ৯০ হাজার। প্রযুক্তি এবং তৎসংশ্লিষ্ট কর্মে রয়েছেন ৭ লাখ ২৭ হাজার, এর মধ্যে পুরুষ ৬ লাখ ২১ হাজার এবং মহিলা ১ লাখ ৭ হাজার।

 


করনিক সহায়ক কর্মে নিয়োজিত আছে ৫ লাখ ৩৭ হাজার। এর মধ্যে পুরুষ ৪ লাখ ৩৬ হাজার এবং মহিলা ১ লাখ ১ হাজার। সেবা এবং বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করছেন ৬১ লাখ ২৭ হাজার, এর মধ্যে পুরুষ ৫৪ লাখ ২৭ হাজার এবং মহিলা ৭ লাখ। দক্ষ কৃষি-বনায়ন ও মৎস্য খাতে নিয়োজিত রয়েছেন ১ কোটি ৮৬ লাখ ৫০ হাজার, এর মধ্যে পুরুষ ৯৩ লাখ ৫০ হাজার এবং মহিলা ৯৩ লাখ।

 


কারুশিল্প এবং এ সংশ্লিষ্ট কর্মে নিয়োজিত আছে ৯১ লাখ ৫৯ হাজার, এর মধ্যে পুরুষ ৬১ লাখ ৬৬ হাজার এবং মহিলা ২৯ লাখ ৯৪ হাজার। উৎপাদক-যন্ত্র পরিচালনাকারী এবং সংযুক্তকরণ কাজে নিয়োজিত আছে ৩৮ লাখ ৩১ হাজার।

 


এর মধ্যে পুরুষ ৩৪ লাখ ৫২ হাজার এবং মহিলা ৩ লাখ ৭৯ হাজার। প্রাথমিক পেশায় যুক্ত ১ কোটি ৮১ হাজার, এর মধ্যে পুরুষ ৭২ লাখ ৯৮ হাজার এবং মহিলা ২৭ লাখ ৮৪ হাজার। এছাড়া অন্যান্য পোশায় যুক্ত রয়েছে ২১ হাজার মানুষ, এর মধ্যে পুরুষ ১৭ হাজার এবং বাকিরা মহিলা।


বাংলাদেশে নিম্নোক্ত ক্ষেত্রগুলোতে নারীরা বৈষ্যমের স্বীকার হচ্ছে -
গৃহস্থালী শ্রম:
বাংলাদেশের প্রতিদিন নিজের সংসারে শ্রম দিচ্ছেন নারী। অথচ দেশের অর্থনীতিতে তাদের শ্রমের কোনো মূল্যায়ন নেই। দেশের মোট নারীর ৭০ শতাংশই সরাসরি গৃহস্থালি কাজে নিয়োজিত। দৈনিক গড়ে ১৬ থেকে ২০ ঘণ্টায় বিভিন্ন ধরনের কাজ করেন তারা। আইএলও’র এক জরিপে দেখা যায়, নারীর মোট গৃহস্থালি শ্রম যোগ করলে তা অনেক দেশের মোট জাতীয় উৎপাদনের অর্ধেক হবে। অথচ এই অবদানের সরাসরি কোনো পরিসংখ্যানে স্বীকৃতি নেই। অনুযায়ী পাঁচ হতে ১৭ বছরের বেশি গৃহশ্রমিকেরা নামমাত্র বেতন এবং দুবেলা খাবারের বিনিময়ে প্রায় ১৮-২০ ঘন্টা শ্রম দিয়ে যাচ্ছে। তাদের কোন নিয়োগপত্র নেই,নেই কোন বিনোদনের ব্যবস্থা,তারা কোন সাপ্তাহিক ছুটি পায় না। মজুরি বৈষম্যের পাশাপাশি গৃহশ্রমিক নির্যাতন দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে।

 

গার্মেন্টস সেক্টর এ মজুরী বৈষম্য:
তৈরি পোশাক শিল্পে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী শ্রমিক কাজ করছে। দেশের অর্থনীতিতে পোশাক শিল্প রাখছে বিশেষ অবদান। এই শিল্পের মালিকদের বিত্তবৈভব ক্রমাগত বাড়লেও শ্রমিকদের কিন্তু মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে। পোশাক শিল্পে নিয়োজিত নারী শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত। তাদের অনেককেই দৈনিক ৮ ঘণ্টার বেশি পরিশ্রমিক করতে হয় কিন্তু অতিরিক্ত মজুরি পাওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। অনেক ক্ষেত্রে নারী শ্রমিকরা লাগাতার প্রতিদিন ১২-১৪ ঘন্টাও পরিশ্রম করেন। অনেক ক্ষেত্রে নিয়োগপত্র দেওয়া হয় না। অধিকাংশ কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার না থাকায় পোশাক শিল্পের নারী শ্রমিকরা যখন তখন ছাঁটাইয়ের শিকার হয়। সমান কাজে সমান মজুরি পায় না বেশির ভাগ নারী শ্রমিক। গার্মেন্টস কারখানাগুলোতে কর্মরত শ্রমিকদের ৮০ শতাংশ হলো নারী। এখনও এরকম অনেক গার্মেন্টস আছে যেখানে তাদের যথাযথ নিয়োগপত্র, কাজের নিশ্চয়তা, মাতৃত্বকালীন ছুটি ও ভাতা, নিয়মিত মজুরি, এমনকি কোনো ক্ষেত্রে প্রভিডেন্ট ফান্ডও নেই।

 

গ্রামের ক্ষেত-খামারে কর্মরত নারী শ্রমিকদের অবস্থা:
গ্রামে একই ক্ষেতে কাজ করে পুরুষ শ্রমিকরা পায় দিন ৫০০ টাকা। আর নারী শ্রমিকরা পায় মাত্র ২৫০ টাকা। কিন্তু তারপরও শ্রমের সঠিক মজুরি পাচ্ছে না নারী শ্রমিক। অপরদিকে একই জায়গায় মাটিকাটার কাজ পুরুষ শ্রমিকরা বেলা ১২টা পর্যন্ত পায় ৫০০ টাকা কিন্তু নারী শ্রমিকরা সারাদিন কাজ করে পায় ৩০০ টাকা। পাহাড়ি এলাকাতেও নারী শ্রমিকরা মজুরী বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। ঝিনাইগাতীতে পাহাড়ি এলাকার পুরুষরা যেখানে সারাদিন কাজ করে পায় ৬০০ টাকা, সেখানে নারী শ্রমিকদের ৩০০ টাকা।

 

নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে মজুরী বৈষম্য:
নির্মাণ শ্রমিকদের মধ্যে গাঁথুনি কাজের জন্য দৈনিক পুরুষ শ্রমিক ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা। অপরদিকে নারী শ্রমিকদের যোগ্যতা থাকলেও তাদের মিস্ত্রি হিসেবে নেয়া হয় না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাদের হেল্পার হিসেবে দেওয়া হয় নামমাত্র মজুরী। অনেক নারী মাত্র ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা পায়। আসমিয়া একজন নির্মাণ শ্রমিক,সকাল ৮ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত হাড়ভাঙা খেটে মজুরী পান মাত্র ৫০০ টাকা। একই কাজ একজন পুরুষ শ্রমিক পায় ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। নারীদের কম পাওয়ার পিছনে মালিক হেতু হিসেবে দাড় করান নারীদের শারীরিক শক্তি কম অথচ বাস্তবে দেখা যায় নারী পুরুষের সাথে পাললা দিয়ে কাজ করছে।

 

বিদেশেও মজুরী বৈষম্য:
বিদেশে যেসব বাঙালি নারী শ্রমিক কাজ করে সেখানেও তাদের প্রতারণা ও বিড়ম্বনার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। অনেকে শারীরিক অত্যাচার, নীপিড়ন সহ্য করতে না পেরে দেশে ফিরে আসছে। এসব বিষয় থেকে উত্তরণের জন্য বিশেজ্ঞরা নিম্নোক্ত পদক্ষেপের উপর বিশেষ জোর দিয়েছেন-
- প্রাতিষ্ঠানিক বা অপ্রাতিষ্ঠানিক সব খাতের নারী শ্রমিকদেরই চাকরির নিশ্চয়তা এবং ন্যূনতম মজুরির ব্যবস্থা করতে হবে। চাকরিতে যোগদানের সময়ই নিয়োগপত্র দিতে হবে এবং নিয়োগের শর্ত ও মেয়াদ উলে¬খ করতে হবে।
- সব ক্ষেত্রেই কর্মরত নারীদের কর্মঘণ্টা নিশ্চিত করতে হবে। ৮ ঘণ্টা কাজ, যথাযথ বিশ্রামের সময় এবং সাপ্তাহিক ছুটির ব্যবস্থা থাকতে হবে। জরুরি প্রয়োজনে অতিরিক্ত সময় কাজ করাতে হলে ওভারটাইমের ব্যবস্থা করতে হবে। রাত্রিকালীন কাজে নারীদের যথাযথ নিরাপত্তা দিতে হবে। লাগাতার প্রতিদিন ১২ - ১৪ ঘন্টা ডিউটি করানো যাবে না।
- কাজের ক্ষেত্রে নারী শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণের সময় তাদের বেঁচে থাকার জন্য ন্যূনতম প্রয়োজন পূরণের বিষয়টি সহ,ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিতদের জন্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা থাকতে হবে।
- নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। কর্মক্ষেত্রে নারীদের জন্য পৃথক শৌচাগারের ব্যবস্থা থাকতে হবে। কর্মক্ষেত্রে জরুরি ও প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হবে। কর্মজীবী নারীদের কর্মস্থলে নিরাপদ যাতায়াত বা পরিবহন ব্যবস্থা করতে হবে। যেখানে বেশি সংখ্যক নারীশ্রমিক কাজ করে সেখানে তাদের আবাসিক নিরাপদ বাসস্থান এবং শিশু স্বাস্থ্য পরিচর্যার ব্যবস্থা থাকতে হবে।
- অভিবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে।
-সংবিধানে বর্ণিত অধিকার অনুযায়ী কর্মক্ষেত্রে সব ধরনের কাজে সম মজুরির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। নিয়োগ, পদোন্নতি, দায়িত্ব ও কাজ বণ্টনে বৈষম্য করা চলবে না।
- কর্মক্ষেত্রে নারীদের কোনো ধরনের অশালীন ও যৌন হয়রানির শিকার হতে না হয় তার জন্য পর্যাপ্ত প্রতিরোধমূলক আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। নারী কর্মীদের প্রতি বখাটেদের উৎপাত বন্ধ এবং রাত্রিকালীন কাজ শেষে ঘরে ফেরার পথে নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
- নারী শ্রমিকদের সব ক্ষেত্রেই ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার দিতে হবে। তাদের যৌথ দরকষাকষির অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
- দেশে সর্বক্ষেত্রে কর্মরত নারীদের শ্রম আইনের আওতাভুক্ত করে তাদের জন্য আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার ঘোষণাপত্রের ২৩নং ধারায় উল্লেখ আছে, কোনরূপ বৈষম্য ছাড়া সব কাজের জন্য সমান বেতন পাওয়ার অধিকার প্রত্যেকের আছে। এই অধিকার অর্জনে শ্রমজীবী সংগঠনগুলোর পাশাপাশি সোচ্চার হতে হবে প্রতিটি সচেতন নাগরিককে।