ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৩, জুলাই ২০২৬ ১২:০৩:০৮ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

আলী ইমামের এক গুচ্ছ কবিতা

প্রকাশিত : ১১:১১ এএম, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৩ শুক্রবার | আপডেট: ০৯:৫১ এএম, ২৫ অক্টোবর ২০১৩ শুক্রবার

ALI EMAMবৈরি কোথায় তোমার সবুজ আঁচল বনের সীমারেখা, ধূসর পাহাড় সমান হলো এমনতর দেখা। বৃষ্টিধারার প্রবল তোড়ে পাহাড়ভূমি ধসে, পলবিত বৃক্ষশাখা থেকে পাতা খসে। দাবানলে বন-বনানি হচ্ছে পুড়ে ছাই, সবুজ এখন হারিয়ে গেছে তাকে কোথায় পাই? আকাশ হলো তামাবরণ মাটি পুড়ে খাক, পাখিদলে থাকছে শুধু ধূসর পাতিকাক। শহরগুলো ধূসর হলো ডাঁই জমানো বর্জ্য নদীর ছোবল টেনে নিল অযুত লোকের ঘর যে। সকল কিছুই ধসিয়ে দিতে পরিবেশটা তৈরি, সময় হলো প্রতিকূল এবং ভীষণ বৈরি। নদী নদীর বুকে বালু জমায় সোঁত হারিয়ে যায়, এমন জীর্ণ দশা দেখে কান্না শুধু পায়। ওরে আমার ঢেউ দোলানো ছলছলানো নদী, তোমার কথাই জেনেছিলাম আমরা নিরবধি। কোথায় গেল তোমার এমন তরতরানো রূপ, সোঁত হারিয়ে এখন বুঝি একেবারেই চুপ। কোথায় গেল তুমুল বেগে ছোটা মাছের ঝাঁক, ভাঙ্গার পালায় ছিন্ন হল নদীর যত বাঁক। ধূসর বালির ভেতর নদী পথ হারিয়ে ফেলে, বেঁচে থাকার সময় ছেড়ে মরণদশা পেলে।     হাপুস হুপুস চালতাবনে পোড়োবাড়ির ভাঙ্গা ইটের দেয়াল, তার ফোঁকরে দিচ্ছে উঁকি লেজ মোটা এক শেয়াল। দেয়ালজুড়ে কচিপাতা সবুজ হয়ে আছে, লালচে ডানা মেলে দিয়ে মোরগ বসে গাছে। অমন নাদুস পাখি দেখে শেয়াল বেজায় খুশি, সুড়ুৎ করে খেতে হবে এই মোরগের জুস-ই। মাংস কুচি চাকুম চুকুম খাবার ভীষণ ইচ্ছে, সেটাই ছিল শেয়াল ভায়ার একমাত্র কিচ্ছে। ঘাড় ফোলানো মোরগ দিল শেয়ালটাকে ঠুকরে, দারুণ ব্যথায় কঁকিয়ে উঠে শেয়াল কাঁদে ডুকরে। সরপুঁটি তিরতিরে সরপুঁটি পেয়ে যাই যদি তবে বুঝি আসে ফিরে সেই ছেলেবেলা, সরপুঁটি নিয়ে আসে ছিপছিপে নদী জলজ ঘাসের মাঝে মাছেদের খেলা। রূপোকুচি মাছগুলো ডানা চলে নেড়ে জলাভূমির কাছে ঝুঁকে দেখি যেই, পোনা ঝাঁক ভেসে চলে ঘাস নীড় ছেড়ে সরপুঁটি চিকচিকে আঁশ ছড়াবেই।   ঝিঁঝিপোকা ঝিঁঝিপোকা করকর, কিড়িমিড়ি করে উড়োপাখি ঝোপেঝাড়ে পোকাদের ধরে, কোনো কোনো পাখিদের প্রিয় ঝিঁঝিপোকা পাখিদের এরা বুঝি দিতে পারে ধোঁকা। কোনো পাখি ভেবে থাকে এরা খসখসে রসে ভরা কত পোকা চারপাশে বসে। খেতে হলে তাই খাও শুধু পেটপুরে ঝিঁঝিপোকাদের থেকে চলে যাও দূরে।