আ্ইনের সঠিক প্রয়োগ নেই ; বাড়ছে নারী নির্যাতন
প্রকাশিত : ০৬:৩৮ পিএম, ৯ নভেম্বর ২০১৪ রবিবার | আপডেট: ০৬:৩৮ পিএম, ৯ নভেম্বর ২০১৪ রবিবার
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট,উইমেননিউজ২৪.কম,
ঢাকা : কঠোর আইন থাকলেও এর কার্যকর প্রয়োগ না হওয়া এবং বিচারে দীর্ঘসূত্রতার কারণে দেশে বেড়েই চলেছে নারী নির্যাতনের ঘটনা। দীর্ঘদিনের সচেতনতামূলক কার্যক্রমের কোন সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। এ জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মানবাধিকার ও নারী অধিকার আন্দোলনের কর্মিরা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নারী নির্যাতন দমনের যে আইন আছে, তা যথেষ্ট কঠোর। কিন্তু নির্যাতনের হাত থেকে নারীকে রক্ষা করা বা নির্যাতিত নারীকে ন্যায় বিচার পেতে খুব সাহায্য করে না। তাদের প্রশ্ন, নারী নির্যাতন বন্ধে আইনের প্রয়োগ হবে কবে? অনেকের মতে, আইনের সহায়তা নিতে এসে অনেক সময় পুনরায় নির্যাতনের শিকার হন নির্যাতিতরা। সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু আইনের কার্যকর প্রয়োগ এবং ঘটনায় বিচার নিশ্চিত করা গেলেই দেশে নারী নির্যাতন অনেক কমে আসবে। নারী নির্যাতন মামলার বিচারে দীর্ঘসূত্রিতার কারণেই অন্যরাও নির্যাতনে উৎসাহিত হচ্ছে। পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধে ২০১০ সালে পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন করা হয়েছে। ২০১১ সালে ইভটিজিংকে যৌন হয়রানি হিসেবে চিহ্নিত করে আইনের অন্তর্ভূক্ত করার নির্দেশনা রয়েছে হাইকোর্টের। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, মানব পাচার প্রতিরোধ, এসিড নিয়ন্ত্রণ আইন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (২০০৩ সংশোধিত)। যৌতুক আইন সহ নারী নির্যাতন প্রতিরোধে রয়েছে বিভিন্ন আইন। এত আইন ও আইনে বর্ণিত কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা কার্যকর হচ্ছে না শুধু আইন প্রয়োগে ব্যর্থতার কারণে। পুলিশ সদর দফতরের নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ সেলের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের, জুলাই পর্যন্ত নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে ৮ হাজার ২৭৭টি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘটেছে ধর্ষণের ঘটনা ২ হাজার ২৫০টি। আইন থাকলেও অপরাধ দমন বা অপরাধীর সাজা নিশ্চিত করতে তা কার্যকর হচ্ছে না। মামলার নিষ্পত্তি ও সাজার হার নগণ্য। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক এড. সালাম আলী গণমাধ্যমকে বলেন, নারীকে পণ্য হিসেবে দেখার প্রবণতা এখনও সমাজে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। কর্মক্ষেত্রেও নারীকে ব্যবহার করা হচ্ছে। নির্যাতন মামলার আসামিরা টাকার বিনিময়ে ছাড়া পেয়ে অপরাধ ঘটাতে উৎসাহিত হচ্ছে। তারা ভাবছে, টাকা থাকলেই যে কোন কিছু করা সম্ভব। নারী নির্যাতনের ঘটনাগুলোতে বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা এবং অপরাধ নিরসনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যর্থতার কারণে ঘটনার সংখ্যা ও ভয়াবহতা বেড়ে চলেছে। এমনটাই মনে করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম। মহিলা পরিষদের মতে, প্রতিদিন গড়ে ২৫ জন নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। ১৪টি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে মহিলা পরিষদের তৈরি করা পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এক বছরে দেশে ৫ হাজার ৬১৬টি নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ধর্ষণ, গণ ধর্ষণ, ধর্ষণের পর হত্যা, যৌন নির্যাতন, এসিড সন্ত্রাস, নারী পাচার, গৃহ শ্রমিক নির্যাতনের মত গুরুতর ঘটনা রয়েছে। এসিড অপরাধ দমন আইন অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে এসিড সন্ত্রাস মামলার বিচারের নিষ্পত্তি হওয়ার কথা থাকলেও গত এক বছরে বিচারাধীন ৪৪টি মামলার একটিরও বিচার নিষ্পত্তি হয়নি।
১০.১১.২০১৪
