ঢাকা, শুক্রবার ০৩, জুলাই ২০২৬ ১১:১৩:১১ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

চার বছর পর লাইজুর মরদেহ দাফন

নিজস্ব প্রতিবেদক

উইমেননিউজ২৪.কম

প্রকাশিত : ০৯:৪৮ পিএম, ৪ মে ২০১৮ শুক্রবার | আপডেট: ০৫:৩৬ পিএম, ৫ মে ২০১৮ শনিবার

চার বছর ধরে মর্গে থাকা নীলফামারীর ধর্মান্তরিত হোসনে আরা লাইজুর (নীপা রানী রায়) লাশ তার শ্বশুর জহুরুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করেছে রংপুর মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ। আজ শুক্রবার বেলা ১২টার দিকে হাসপাতালের পরিচালক ড. অজয় কুমার লাশ হস্তান্তর করেন। পরে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে শ্বশুর বাড়ি নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার বোড়াগাড়ি গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয় লাইজুর লাশ। পরে সেখানেই আজ বিকালে লাইজুর লাশ দাফন করা হয়।

 

এ ব্যাপারে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. অজয় কুমার বলেন, আইনি জটিলতার কারণে ৪ বছরের অধিক সময় ধরে হোসনে আরা লাইজু ওরফে নীপা রানীর মরদেহ হাসপাতালের হিম ঘরে ছিল। কিন্তু বৈদ্যুতিক সমস্যাসহ নানা কারণে হিমঘরে লাশ রাখার মতো কোনও অবস্থা নেই। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনেকবার বলার পরেও কাজ হয়নি। তবে হাইকোর্টের আদেশনামা পাওয়ার পর লাশটি হস্তান্তর করতে পেরে আমাদের ভালো লাগছে।

 

জানা যায়, হোসেনে আরা লাইজু ওরফে (নীপা রানী) প্রেম করে একই এলাকার হুমায়ুন ফরিদের সঙ্গে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। এসময় তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। এ ঘটনায় নীপা রানীর বাবা অক্ষয় কুমার বাদী হয়ে ডোমার থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে নীপা রানীকে তার বাবার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনার পর ২০১৪ সালের ১৫ জানুয়ারি নীপা রানীর স্বামী হুমায়ুন ফরিদ বিষ পান করে আত্মহত্যা করেন। একই বছরের ১০ মার্চ সবার অগোচরে কীটনাশক পান করেন লাইজু ওরফে নীপা রানী। পরে তাকে ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

 

ডোমার থানা পুলিশ হাসপাতাল থেকে মেয়েটির মরদেহ রাতেই উদ্ধার করে। পরের দিন (১১ মার্চ) নীলফামারী জেলার মর্গে মেয়েটির মরদেহ ময়নাতদন্ত করা হয়। ওইদিন পুত্রবধূ দাবি করে লাজুর বাবা জহুরুল ইসলাম ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক লাইজুর দাফনের আবেদন করেন। তবে মেয়েটির বাবা অক্ষয় কুমার রায় হিন্দুশাস্ত্র অনুসারে মেয়ের সৎকারের জন্য নীলফামারী জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবেদন করেন। আদালত উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে লাইজুর মরদেহ তার শ্বশুরের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেন।

 

ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এই আদেশের বিরুদ্ধে লাইজুর বাবা আপিল করেন। এরপর জজ আদালত লাইজুর মরদেহ তার বাবার কাছেই হস্তান্তরের নির্দেশ দেন। কিন্তু সেই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করেন তার শ্বশুর। সেই আবেদনের নিষ্পত্তি করে মুসলিম রীতিতে লাশ দাফনের আদেশ দেন হাইকোর্ট। বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত লাইজুর মরদেহ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমঘরেই রাখা হয়। দুই পক্ষের রেষারেষিতে শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ ৪ বছর পর লাইজুর দাফন সম্পন্ন হয় আজ।