বাঁশের তাঁতে স্বপ্ন বোনা
প্রকাশিত : ০৬:৩৫ পিএম, ১১ নভেম্বর ২০১৪ মঙ্গলবার | আপডেট: ০৬:৩৫ পিএম, ১১ নভেম্বর ২০১৪ মঙ্গলবার
উইমেননিউজ ডেস্ক : হাইস্কুলে পড়ার সুযোগ হয়নি রেনুয়ারার। প্রাথমিক বিদ্যালয়েই শেষ হয় তার পড়াশোনার পাঠ। পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতা অল্প বয়সেই বিয়ের পিঁড়িতে বসতে বাধ্য করে রেনুয়ারাকে। মনের সব সৃজনশীলতাকে বিসর্জন দিয়ে স্বামী-সংসারের হাল ধরতে হয় তাকে। বিয়ের কয়েক বছরের মধ্যে রেনুয়ারার কোলজুড়ে আসে তিন সন্তান। আস্তে আস্তে বেড়ে উঠতে থাকে তারা। বাড়তে থাকে সংসারের খরচ। একটা সময় স্বামীর একার আয়-রোজগারে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয় রেনুয়ারাকে। এক সময়ের সৃজনশীল রেনুয়ারা ভাবতে থাকেন নতুন কিছু করে সংসারে সহযোগিতা করার। চলতে থাকে গবেষণা। এ গবেষণা থেকেই গ্রামের কুঁড়েঘরে থেকেও তাক লাগানো এক তাঁত আবিষ্কার করলেন ময়মনসিংহের রেনুয়ারা বেগম। বাঁশ দিয়ে তৈরি করা তার তাঁতে তৈরি করা যায় উলের যাবতীয় গরম কাপড়। ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা বোকাইনগর ইউনিয়নের দারিয়াপুর গ্রাম থাকেন রেনুয়ারা বেগম। নিজে গবেষণা করেই বাঁশ দিয়ে তৈরি করেছেন লাখ টাকার তাঁত শিল্পের যন্ত্র। এতে তার খরচ পড়েছে মাত্র ২০০ টাকা। আর এ নতুন আবিষ্কারের বদৌলতে বাড়ির আঙিনায় গড়ে তুলেছেন তাঁত শিল্প। এখন তিনি নিজেই শ্রমিক, নিজেই মালিক। রেনুয়ারা বলেন, ‘নরসিংদীর তাঁত শিল্পের কাজে প্রায় ১০ লাখ টাকার যে মেশিন ব্যবহার করা হয়, আমি ২০০ টাকায় বাঁশ দিয়েই তা তৈরি করেছি। ১০ লাখ টাকার মেশিনে যে কাজ হয় এ মেশিনে একই কাজ হয়।’ তার উদ্ভাবিত বাঁশের তাঁতে তৈরি চাদর, মাফলার, টুপি, জায়নামাজ স্থানীয় হাট-বাজারসহ জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি করা হয়। তিনি মূলত উল দিয়েই কাজ করেন। রেনুয়ারা বেগম আরও বলেন, ‘নতুন উলের দাম অনেক। তাই পুরনো উল দিয়েই তৈরি করি। ময়মনসিংহ থেকে পুরনো সোয়েটার কিনে আনি। তারপর সোয়েটার খুলে উল বের করি। বাঁশের নাটাইয়ে উল আটকে তৈরি হয় নানা রঙের সুতার নাটাই। এরপর কম্বল তৈরি করি। ২ হাজার টাকার পুরনো সোয়েটার কিনলে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকার কম্বল বিক্রি করতে পারি। এভাবে প্রতিদিন দুই থেকে তিনটি কম্বল তৈরি করা যায়।’ তার ডিজাইনেও রয়েছে নতুনত্বের ছোঁয়া। গ্রামীণ নানা দৃশ্য ফুটিয়ে তোলেন তার কম্বলে। আর দামে কম, ডিজাইনে নতুনত্বের জন্য স্থানীয় বাজারে এসব কম্বলের রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। রেনুয়ারার স্বামী মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, তেমন পুঁজি না থাকায় এবং উলের সঙ্কটের কারণে বারবার ময়মনসিংহ যেতে হয়। এর ফলে সময় এবং অর্থের অপচয় হয়। রেনুয়ারা এ আয় থেকে তার তিন সন্তানকে লেখাপড়া করান। মেয়ে শরিফা আক্তার গৌরীপুর পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে অষ্টম ও আরিফা আক্তার সপ্তম শ্রেণীতে পড়ে। ছেলে জাহিদুল দারিয়াপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র। ১২.১১.২০১৪

