ফিলিপিনো প্রধান বিচারপতিকে অপসারণের সিদ্ধান্ত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪.কম
প্রকাশিত : ০৬:৫৫ পিএম, ১১ মে ২০১৮ শুক্রবার | আপডেট: ১০:৪০ এএম, ১২ মে ২০১৮ শনিবার
ফিলিপাইনেরি প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তের সমালোচনা করায় দেশটির প্রথম নারী প্রধান বিচারপতি মারিয়া লর্দেস সেরেনোকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সরকারের আবেদনের প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা ৮-৬ ব্যবধানে অপসারণের এই নিদ্ধান্ত নেন। নিয়োগ প্রক্রিয়া লঙ্ঘন করে সেরেনোকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে, এমন অভিযোগ এনে সরকার সুপ্রিম কোর্টে আবেদনটি করেছিল।
প্রধান বিচারপতিকে অপসারণের সিদ্ধান্তকে বিরোধীরা ‘গণতন্ত্রের মৃত্যু’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। বিরোধীরা বলছেন সরকার ক্ষমতার অপব্যবহার করে সেরেনোকে অপসারণের চেষ্টা করছে এব সর্বোচ্চ আদালত তার হাতের পুতুলে পরিণত হয়েছে।
প্রধান বিচারপতি সেরেনো দেশটির প্রেসিডেন্ট দুতার্তের প্রকাশ্য সমালোচনা কছিলেন এবং সরকারের কয়েকটি বিতর্কিত প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছিলেন।
সুপ্রিম কোর্টের একজন মুখপাত্র থিওডোর টি বলেন, প্রধান বিচারপতি পদে সেরেনোর থাকার ক্ষেত্রে অযোগ্যতা প্রমাণিত হয়েছে। একইসঙ্গে তিনি ওই পদ বেআইনীভাবে আকড়ে রেখেছেন।
তিনি আরও জানিয়েছেন, আদালতের বিরুদ্ধে বক্তব্য প্রধানের মাধ্যমে কেন বিচারিক বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হবে না, সে বিষয়েও সেরেনোকে ১০ দিনের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। বিচারবিভাগ ও বার কাউন্সিলকে শূন্য পদে দ্রুত নতুন বিচারপতি নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার আদেশও দেওয়া হয়েছে।
বেআইনী কিছু করেননি দাবি করে অপসারণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন সেরেনোর মুখপাত্র। টেলিভিশনে দেয়া সাক্ষাৎকারে এই দিনটিকে তিনি বর্ণনা করেছেন, দুঃখের দিন হিসেবে। শুক্রবার ভোটের আগে দেশটির রাজধানী ম্যানিলায় সুপ্রিম কোর্টের পাশে সেরেনোর বেশকিছু সমর্থক বিক্ষোভ করেছে। তারা সরকারের আবেদন প্রত্যাহার করে এ বিষয়ে সিনেটে তদন্তের দাবি করেছে। ওই সময় সেরেনো বিরোধীরাও ভবনটির বাইরে অবস্থান নেয়।
দেশটির একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক রিচার্ড জাভেদ হেইদারিয়ান মনে করেন সাবেক প্রেসিডেন্ট একুইনো কর্তৃক নিয়োগ পাওয়ার কারণেই সেরেনাকে এভাবে সরানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
