ঢাকা, বুধবার ১৫, জুলাই ২০২৬ ২০:৪২:০৪ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

রবীন্দ্রসংগীত উৎসবে সম্মাননা পাচ্ছেন মিতা হক

নিজস্ব প্রতিবেদক

উইমেননিউজ২৪.কম

প্রকাশিত : ১০:৩৫ পিএম, ১১ মে ২০১৮ শুক্রবার | আপডেট: ১০:০৯ এএম, ১২ মে ২০১৮ শনিবার

রবীন্দ্রসংগীত চর্চায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী সংস্থা সম্মাননা’ পাচ্ছেন প্রখ্যাত রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী মিতা হক। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৮তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত তিন দিনের জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত উৎসবের সমাপনী দিনে তাকে এ সম্মাননায় ভূষিত করা হবে।

 

কাল শনিবার (১২ মে) বিকেল ৫টায় রাজধানীর শাহবাগের সুফিয়া কামাল জাতীয় গণগ্রন্থাগার (কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরি) শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তনে সমাপনী আয়োজনের শুরুতেই এ শিল্পীর হাতে সম্মাননা স্মারক, অর্থমূল্য তুলে দেবেন সংস্থার সভাপতি তপন মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক সাজেদ আকবর।

 

এবার ৩০তম জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত উৎসবের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী সংস্থা। তিন দিনের উৎসব সাজানো হয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উৎসব-পার্বণ, প্রেম-পূজা-প্রকৃতি-স্বদেশ পর্যায়ের গান নিয়ে।

 

শুক্রবার ছিল উৎসবের দ্বিতীয় দিন। দুই অধিবেশনে সাজানো অনুষ্ঠানমালার প্রভাতী অধিবেশনে ছিল আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এর আগে উৎসব উপলক্ষে বের করা হয় আনন্দশোভা যাত্রা। শোভাযাত্রাটি লাইব্রেরি প্রাঙ্গণে থেকে শুরু হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ ঘুরে পুনরায় অনুষ্ঠানস্থলে এসে শেষ হয়। সংগঠনের সভাপতি তপন মাহমুদের নেতৃত্বে শোভাযাত্রায় অংশ নেন ঢাকা ও ঢাকার বাইরে থেকে আগত প্রায় দেড় শতাধিক শিল্পী। পরে মূল মঞ্চে ছিল আবৃত্তি ও সঙ্গীতানুষ্ঠান। বৈকালিক অধিবেশনে একক ও দলীয় পরিবেশনায় অংশ নেন ৪৪ জন শিল্পী। এই অধিবেশনেও শিল্পীরা একে একে রবীন্দ্রনাথের পূজা, প্রেম পর্যায়ের গান ছাড়াও পরিবেশন করেন গীতাঞ্জলি, ভাঙা গান, বাংলাদেশি রচিত গান ও ভানুসিংহের পদাবলী থেকে গান ও কবিতার অংশ বিশেষ।

 

এদিন মূল মঞ্চে অনুষ্ঠানের সূচনা হয় পর পর ‘ধ্বণিল আহ্বান মধুর গম্ভীর/প্রভাত-অম্বর-মাঝে’ ও ‘ হে নূতন দেখা দিক আর-বার জন্মের প্রথম শুভক্ষণ’ সম্মেলক দুইটি গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে। এর পর একক পরিবেশনায় সুবাহ আকবর পরিবেশন করেন ‘নয়ন তোমারে পায় না দেখিতে’, তপন কুমার সরকার ‘ক্লান্তি আমার ক্ষমা করো’, লাকী দাস ‘মাঝে মাঝে তব দেখা পাই’, মৌমিতা মৌ ‘আলো আমার আলো’, সর্ব্বানী চক্রবর্তী ‘বাসন্তী হে ভুবনময়ী’, তনুশ্রী ভট্টাচার্য ‘গানের ভেলায় বেলায় অবেলায়’, নাসরিন আক্তার ‘আমার এই পথ চাওয়াতেই’, অনিন্দিতা রায় ‘সজনি সজনি রাধিকা’, জলি রহমান ‘মধুর মধুর ধ্বনি বাজে’, মীরা ম-ল ‘দিন শেষের রাঙা মুকুল’, প্রমোদ দত্ত ‘তুমি সন্ধ্যার মেঘমালা’। এ ছাড়া আরও একক গান পরিবেশন করেন সাজেদ আকবর, জাফর আহমদ, আবদুল ওয়াদুদ, শফিকুর রহমান, পীযুষ বড়–য়া, আজাদুর রহমান আজাদ, সত্য চক্রবর্তী, বুলা মাহমুদ, সীমা সরকার, প্রান্তিকা সরকার, রিদওয়ানা আরফিন প্রমুখ।

 

উৎসবের তৃতীয় দিন ও সমাপনী দিন শনিবার (১২ মে) বিকেল ৫টায় সম্মাননা পর শেষে দলীয় পরিবেশনার পাশাপাশি একক পরিবেশনা অংশ নেবেন-তপন মাহমুদ, খন্দকার খায়রুজ্জামান কাইয়ুম, অনুপম কুমার পাল, মামুন জাহিদ খান, কাজল মুখার্জি, তমাল চক্রবর্তী, অনিকেত আচার্য্য, আসিফুল বারী, মহাদেব ঘোষ, মাখন হালদার, খোকন চন্দ্র দাস, ফাহমিদা হোসেন, নীলুফার রহমান, সৈয়দা হোসেন পাপড়ি, সানজিদা রহমান, রুমঝুম বিজয়া রিসিল, সুমাইয়া ইমাম, রুমা বাড়ৈ, নুসরাত জাহার রুনা, রাবিতা সাবাহ, ফেরদৌসী কাকলী, অপর্না খান, বনানী দত্ত, মিতা দে, কনক খান, কাকলী গোস্বামী, আহমেদ মায়া আকতারীসহ প্রায় অর্ধশতাধিক শিল্পী।

 

গত ১০ মে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা শতাধিক শিল্পীদের সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর শাহবাগের সুফিয়া কামাল জাতীয় গণগ্রন্থাগারের মুক্তাঙ্গনে ‘ভুবনেশ্বর হে, মোচন কর’বন্ধন সব মোচন কর হে’ পূজা-প্রার্থনা পর্যায়ের গানের সঙ্গে এক ঝাঁক বর্ণিল বেলুন উঁড়িয়ে তিন দিনের উৎসবের উদ্বোধন করেন কথাশিল্পী অধ্যাপক ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম।

 

এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য ‘সবার মাঝে আমার সাথে থাকো,/আমায় সদা তোমার মাঝে ঢাকো,/নিয়ত মোর চেতনা-’পরে রাখো/ আলোকে-ভরা উদার ত্রিভূবন।’