ঢাকা, বুধবার ১৭, এপ্রিল ২০২৪ ১৮:৩৭:৩৩ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

জন্মদিনে রুমির জন্য ভালোবাসা

শামীম আজাদ

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৪:৩২ পিএম, ২৯ মার্চ ২০২৩ বুধবার

শামীম আজাদ।

শামীম আজাদ।

রুমিকে আমি যুদ্ধের আগে দেখিনি, চিনিনি। চিনেছি মুক্তিযুদ্ধের পরে। তাঁকে দেখেছি রুমির যুদ্ধসাথীদের চোখে। ওরা আমারও বন্ধু বলে শহীদ জননী আমারও জননী হয়েছিলেন। তাঁর ক্যান্সার চিকিৎসার সময় সাপ্তাহিক বিচিত্রায় তাঁরই  ভীষণ জনপ্রিয় টিভি কলাম অব্যাহত রাখতেই আমার বিচিত্রায় প্রবেশ। 
তারপর কত রাত দুপুর বিকেল যে তাঁর এলিফেন্ট রোডের বাসায় কেটেছে কিংবা তিনিই গাড়ি চালিয়ে আমার বাসায় এসে সজীব ও ঈশিতার সংগে সময় কাটিয়ে গেছেন বা আমি ঢাকা কলেজের ক্লাশ শেষে দৌড়ে গেছি তা আজ গোনা যাবে না।
কখনো অলস দুপুরে মাঝের ঘরে জননীর পাশে শুয়ে রুমির গল্প শুনতে শুনতে উপরে তাকিয়ে দেখেছি শরীফ খালুর ডিজাইনে তৈরী বাড়ীতে সেই পুরানো ফ্যান ঘুরছে। ঐ যে ফ্যান মাথার উপর ঘুরছে সেও তো একদিন একাত্তরের আগে সামনের চেয়ারটাতে বসা রুমি জামি দু’ভাইর কথোপকথনের সময় হাওয়া দিয়েছিলো! বইয়ে বইয়ে মুড়িয়ে রাখা এ বাড়ী এই ‘কণিকা‘ তো তাঁরই বাড়ী! তাহলে এখানে তাঁরও পড়া কিংবা না পড়া বই রয়ে গেছে! 
জননী খাটের নিচে হীম সাগর আম রেখে পাকিয়ে সুমিষ্ট হলে ওদের ঐ ডাইনিং টেবিলটার পাশে ঐ দুটো চেয়ারে বসে দু‘ভাইকে খাইয়েছেন। আর যেদিন খাঁটি ঘি'য়ে সোনালী করে সুজি ভেজে মোহনভোগ বানিয়েছেন, সুগন্ধে রুমি- জানি রান্না ঘরেই দৌড়ে এসে গেছে। মায়ের মত মোহনভোগ আর কেউ পারে না । হয়তো ঠিক তখন বেডরুম আর রান্নাঘরের মাঝামাঝি বাথরুম থেকে সাদা স্যান্ডো গেঞ্জি গায়ে বেরিয়ে এসেছেন সুদর্শন শরীফ খালু! 
জননীর কাছ থেকে এসব গল্প শুনে শুনে আর তাঁদের বাড়ির আনাচে কানাচে ঘোরাঘুরিতে না দেখা রুমি আমার দেখা হয়ে উঠেছে। আর যা বাকি ছিল ওঁর ও আমার বন্ধু বীর বিক্রম আলম, বাদল, শাচৌ ওঁরাই বাকিটা, যুদ্ধ সময়েরটা পূর্ণ করেছে। পরে আরও অনেকে এবং পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য গল্পের অন্যতম একজন সাইফ ইমাম জামি - একা একা এখনো তা বলে চলেছে। জামি আজ ভারাক্রান্ত, অক্লান্ত। 
মনে হয়েছে, রুমি তো আমারই সম বয়সী। তাহলে বেঁচে থাকলে এখন সে কি করতো! জামির মত ওঁরও কি তাহলে একজন জীবনসাথী হতো? মিষ্টি চেহারার এই রুমি কেমন বাবা হতো? না না এতদিনে সে পিতা কিংবা পিতামহ হতো। 
আজ রুমির জন্মদিন। বেঁচে থাকলে তাঁর বাহাত্তর হতো। আমার চোখের সামনে জামির বয়স বাড়ছে। ওঁর সংগে প্রায়ই কথা হয়। সেদিনও বল্লাম, তোমার বয়স বাড়ার সংগে শরীফ খালুর মত দেখতে হয়ে যাচেছ! কৌতুক করে বলেন, শামীম যাক তা হলে শেষ বয়সে এসে হ্যান্ডসাম হলাম! সত্যি কথা হল, পুরো পরিবারটাই ছিল রূপের আখড়া। আমার দেখা শহীদ জননী সাধারন একটা নরম শাড়িতেও পরম হয়ে উঠতেন। ক্যান্সারের পর সব চুল ঝরে যখন নতুন চুল উঠলো, তার হয়ে উঠলো আরো ঘন ও স্বাস্থ্যবান। আমি আর সেলিনা (শাচৌর স্ত্রী) বলতাম, আগে ছিলেন সুচিত্রা সেন আর এখন হয়ে গেছেন সুচিত্রা মিত্র! 
রুমির তো আর বয়স বাড়বে না। জাতীয় বীর শহীদদিগের কি বয়স বাড়ে? বাড়ে না। তবে যতদিন বইবে পদ্মা যমুনা, যতদিন রবে বাংলাদেশ 
শহীদ রুমি ও সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কথা 
বলবে সকলেই। 
বীর বিক্রম শহীদ শাফী ইমাম রুমি আপনার জন্মদিনে জানাই অভিবাদন হে বীর। শুভেচ্ছা ও সালাম।শুভ জন্মদিন রুমি। 

শামীম আজাদ: লন্ডনে বসবাসরত বাংলাদেশের কবি, ঔপন্যাসিক, ও সংস্কৃতিকর্মী।