ঈদযাত্রা : সদরঘাটে প্রস্তুত লঞ্চ
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১২:০৩ পিএম, ১৫ এপ্রিল ২০২৩ শনিবার
সংগৃহীত ছবি
আসন্ন ঈদুল ফিতরের ছুটিতে ঘরমুখী মানুষের নদীপথে যাত্রা নিশ্চিত করতে স্বল্প ও দূরপাল্লার লঞ্চ নিয়ে এবারের ঈদসেবায় প্রস্তুত রাজধানীর প্রধান নদীবন্দর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল। সদরঘাট এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ঈদযাত্রা সামনে রেখে পুরোনো লঞ্চগুলোকে নতুন করে প্রস্তুত করা হয়েছে। লঞ্চের ফিটনেস, নিরাপত্তা দেখে নেয়ার পাশাপাশি করা হয়েছে সাজসজ্জার কাজ। ইতিমধ্যে বেশির ভাগ লঞ্চকেই পরিপাটি করে তোলা হয়েছে।
ঈদের লম্বা ছুটিতে ঢাকা ছাড়বে লাখো মানুষ। এর বিরাট একটি অংশ যায় নৌপথে। এ জন্য প্রস্তুত হচ্ছে নতুন-পুরোনো মিলিয়ে কয়েক শতাধিক লঞ্চ। ডকইয়ার্ডগুলোতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। রং করা, ইঞ্জিন মেরামত থেকে শুরু করে খুঁটিনাটি পরখ করে প্রস্তুত হচ্ছে লঞ্চগুলো। এ ছাড়া বিভিন্ন রুটে নতুন নামানো লঞ্চগুলোও ঈদ মৌসুমকেই বেছে নেয়া হয়।
বর্তমানে সারা দেশে মোট ১০৭টি নৌপথ রয়েছে, যার মধ্যে ৪১টি পথ ঢাকার সদরঘাট থেকে দেশের দক্ষিণাঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানের সংযোগকারী। বর্তমানে দক্ষিণাঞ্চলগামী নৌপথ-সম্পর্কিত জেলাগুলোতে ৪৬টি লঞ্চ যাওয়া-আসার যাত্রী পরিবহন করছে।
ঈদে ঢাকা-বরিশাল নৌরুটে চলাচলকারী লঞ্চে আগামী ১৭ এপ্রিল থেকে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে। ঢাকা থেকে বরিশাল এবং বরিশাল থেকে ঢাকায় ফেরার উভয় টিকিটই যাত্রীরা ওই দিন থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন। অনলাইনে কেনা যাবে লঞ্চের অগ্রিম টিকিট।
লঞ্চমালিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঈদের উপচে পড়া ভিড় সামাল দিতে বিভিন্ন রুটের লঞ্চগুলো দিনে একাধিকবার যাত্রী পরিবহন করবে। অন্যান্যবার লঞ্চের কেবিনসংকট হলেও এবার তার কারণ দেখছেন না লঞ্চমালিকরা। তবে পদ্মা সেতু হওয়ায় এবারও যাত্রীসংকটের শঙ্কায় পড়েছেন অনেক লঞ্চমালিক। ঈদের কয়েক দিন আগে থেকে যাত্রীদের ভিড় বাড়বে বলে আশাবাদী তারা।
এ ছাড়া দুর্ঘটনা মোকাবিলায় নতুন করে হালনাগাদ করা হচ্ছে আগুন নেভানোর যন্ত্রপাতি। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার পর্যাপ্ত বয়া আর লাইফ জ্যাকেটসহ প্রস্তুত রাখা হয়েছে নিরাপত্তা সরঞ্জাম। আগুনের দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আলাদাভাবে ডেকে লাগানো হচ্ছে পানি ছিটানোর পাম্প মেশিন। তবে লঞ্চ ভ্রমণে জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে টিকিট কাটার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের নির্দেশনা বা চিঠি পাননি মালিকরা।
সুন্দরবন-১১ লঞ্চের স্টাফ মনির হোসেন বলেন, ‘যাত্রীরা কেবিন চাইলে আমরা এখন থেকেই বুকিং নিচ্ছি। গত ঈদে লঞ্চের কেবিনের চাহিদা ছিল না, সে আশঙ্কা থেকেই এখন যে আসছে বা যোগাযোগ করছে বুকিং নিয়ে নিচ্ছি।’
লঞ্চ মালিক সমিতির মহাসচিব শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘বিগত ৩০ বছর ধরে আমরা প্রতি ঈদের আগে গুলিস্তান থেকে সদরঘাট পর্যন্ত রাস্তার যান চলাচল নির্বিঘ্ন করতে বলে আসছি। কিন্তু সরকার কোনোবারই কার্যকরী কোনো উদ্যোগ নেয় না। পদ্মা সেতু হওয়ায় লঞ্চে এখন যাত্রী কমেছে। তবু এবারের ঈদে সদরঘাটে এক-তৃতীয়াংশ যাত্রীর প্রত্যাশা রয়েছে।’
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌচলাচল যাত্রী পরিবহন সংস্থার মহাসচিব সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী বলেন, ‘এবার যাত্রীদের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ১৭ এপ্রিল থেকে কেবিনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সাধারণত যাত্রার দুই দিন আগের টিকিট যাত্রীরা সংগ্রহ করতে পারবেন। ২৭, ২৮, ২৯ বা ৩০ রমজানের টিকিট যাত্রীরা অগ্রিম সংগ্রহ করতে পারবেন। ডেকের টিকিট যাত্রার দিনই সংগ্রহ করা যাবে।’
এদিকে ঈদযাত্রায় যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে কথা জানিয়ে সদরঘাট নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শফিকুর রহমান খান বলেন, ‘বিগত বছরগুলোর মতো এবারও অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হবে। প্রতিটি পন্টুনে টহল পুলিশ থাকবে। আমাদের কন্ট্রোল রুম ও মেডিকেল টিম থাকবে। এ ছাড়া লঞ্চের মধ্যে অপরাধ ঠেকাতে সাদাপোশাকে ইন্টেলিজেন্স টিম থাকবে, আনসার সদস্যরাও কাজ করবে। যাত্রীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিআইডব্লিউটিএ কাজ করবে। নদীপথেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে।’
বিআইডব্লিউটিএ সদরঘাটের নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মো. কবীর হোসেন বলেন, ‘পূর্বে সদরঘাট থেকে ২০০টি লঞ্চ ছেড়ে যেত, এখন চলাচল করে মাত্র ৪৬টি লঞ্চ। এই ঈদে যাত্রীর পাওয়ার সম্ভাবনা আছে, সে অনুযায়ী পর্যাপ্ত লঞ্চও রয়েছে। এবার ভাড়া বৃদ্ধির কোনো সুযোগ নেই, এমন অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নেব। আর সার্ভে ফিটনেস সার্টিফিকেট ছাড়া আমরা বন্দরে কোনো লঞ্চ ভিড়তে দিই না। আমাদের মনিটরিং টিম তৈরি করা হচ্ছে, তারা সার্বক্ষণিক নজরদারিতে থাকবে। সদরঘাটের কাউন্টারগুলো থেকেই যাত্রীরা যেন টিকিট কিনতে পারেন, সেই নির্দেশনাও দেয়া হবে লঞ্চমালিকদের।’
