ঢাকা, রবিবার ০১, মার্চ ২০২৬ ১৪:২৫:৩৯ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

ক্রেতার ভিড়ে মুখরিত রাজধানীর ঈদ বাজার

সালেহীন বাবু

উইমেননিউজ২৪.কম

প্রকাশিত : ০৬:১১ পিএম, ৮ জুন ২০১৮ শুক্রবার | আপডেট: ১২:০৩ এএম, ৯ জুন ২০১৮ শনিবার

অার মাত্র ক’দিন পরই ঈদ-উল ফিতর। গেল শুক্রবার মার্কেটে ভিড় থাকলেও বেচাকেনার হিড়িক এতটা ছিল না। আজ শুক্রবার যেন তা অতিক্রম করে গেছে সব মাত্রা। কিসের গরম, কিসের কি, ছুটছে সবাই ঈদ শপিংয়ে।

আজ রাজধানীর কোন মার্কেটে তিল ধারণের ঠাঁই নাই। কি বিপণিবিতান,কি ফুটপাথ সবখানেই আজ রোদের সাথে পাল্লা দিয়ে উত্তাপের মার্কেটে আরও উত্তাপ ছড়াচ্ছেন ক্রেতারা। বিক্রেতাদেরও তো দম ফেলরও সময় নেই। একজন ক্রেতাও যাতে ফেরত না যায় সে জন্য একজন বিক্রেতা করছেন সর্বোত্তম চেষ্টা।

আজকের ঈদের মার্কেটে ধনী গরীব ভেদাভেদ নাই। যেহেতু আজকে ৮ তারিখ, সে হিসেবে গতকালই অনেকে মাসের বেতন পেয়েছেন। তাই পকেট গরম থাকা অবস্থায় সবাই ঈদ কেনাকাটার বাড়তি খরচটা সেরে ফেলতে চাইছেন,যাতে ঈদটা কোন রকম চিন্তা ছাড়াই নির্বিঘেœ পালন করা যায় ।

তাই সকাল থেকেই আজ ঈদ বাজার জমজমাট ।

ক্রেতারা পছন্দের পোশাকটি কিনতে ভিড় করছেন রাজধানীর বিপণিবিতান, ফ্যাশন হাউস, শপিংমল ও মার্কেট এমনকি ফুটপাথগুলোতেও। রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি, নিউমার্কেট, আজিজ সুপার মার্কেট, চাঁদনী চক, রাপা প্লাজা, এআর প্লাজা, এলিফ্যান্ট রোডের দোকান, ফার্মগেটের সব মার্কেট, ফুটপাথ, গুলিস্থানের পুরো এলাকা, মিরপুর মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট, শাহ আলী মার্কেট, খিলক্ষেতের রাজউক ট্রেড সেন্টার, উত্তরার নর্থ টাওয়ার, রাজলক্ষী কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন বিপণি বিতানে আজ ক্রেতার সমাগমে গমগম করছে।


কেনাকাটায় ব্যস্ত নারী ও ফ্যাশন সচেতন তরুণীরা। শপিংয়ে বড়দের সঙ্গে এক কাতারে হাজির হচ্ছে ছোটরাও। বিক্রেতারা আজ খুশি আর বিজয়ীর হাসি হাসছেন। কারণ পুরো বছরের যাই বেচাকেনা হোক না কেন ঈদের এ সময়টার জন্য সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে। তাই বিক্রেতাদের কাছেও এ সময়টুকু অনেকটা স্বপ্নের মতই। নিউমার্কেটের বিক্রেতা আবুল হোসেন বলেন, খুব ব্যস্ত আছি। দেখছেনই তো ক্রেতার অভাব নেই। ভাল জিনিস বিক্রি করছি আর লাভও কম করছি।


সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা গেল শাড়ি ও থ্রি পিসের দোকানে। ভারতীয় পোশাকের সাথে পাল্লা দিয়ে দেশি কাপড় ও ডিজাইনারদের তৈরি পোশাকের বুটিক হাউসগুলোতেও তরুণীদের ভিড় চোখে পড়ার মত। পা ফেলার জায়গা নেই শিশুদের পোশাক ও খেলনা সামগ্রী, কসমেটিক্স ও গহনার দোকান এমনকি জুতোর দোকানেও।


তবে দাম নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেল সবখানেই। বেশিরভাগ ক্রেতারা দাম বেশি বলছেন। গাউসিয়ায় আসা মীম অভিযোগ করেন,গত সপ্তাহে যেটা ১৫০০ টাকা দেখে গেছি আজ ২০০০ টাকা চাচ্ছে , কিভাবে সম্ভব। এক সপ্তাহে ৫০০ টাকা বেড়ে গেল। তবে মীমের এ অভিযোগের বিপরীতে বিক্রেতা আল আমীন চুপই রইলেন,ব্যস্ত হলেন নতুন ক্রেতাকে কাপড় দেখাতে। ব্র্যা-ের দোকান যেমন, আড়ং, ইনফিটিনিটি, ক্যাটস্ আই, নবরূপা, ইয়েলো, এক্সটেসি, রিচম্যান, স্টেশন ২১ ও মড, ইয়োলো সাদাকালোতে ক্রেতার ছড়াছড়ি। এখানে এসেছেন ইফতি আর সারা। বললেন, দেশীয় স্টাইলে আলাদা একটা ফ্যাশন থাকে। তাই এসব জায়গা থেকেই আমরা কিনি বেশি। পোশাক ও শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে গহনা কিনছেন হাল আমলের তরুণীরা। কামরাক্সগীচর থেকে নিউমার্কেটে আসা গৃহবধূ রাবেয়া বুশরা বলেন, পুরান ঢাকায় অনেক বড় বড় দোকান আছে। কিন্তু ছোটবেলা থেকে আমরা নিউমার্কেটে কেনাকাটা করেছি। এখানে দাম খুব একটা যে কম তা নয়, তবে সব মানের জিনিস পাওয়া যায়। তাই এখান থেকেই সবকিছু কিনি।


আজকে প্রায় সব বিপণিবিতানে গভীর রাত পর্যন্ত চলবে বিকিকিনি। সাধ আর সাধ্যের সবটুকু দিয়ে ঈদের কেনাকাটায় ভাল পণ্যটি নিয়েই ঘরে ফিরতে চান ক্রেতারা আর সমাপনীতে সারাদিনের বিক্রিতে লাভের অঙ্কের যোগফল মেলাতে ব্যস্ত থাকবেন বিক্রেতারা।