ঢাকা, বুধবার ২২, জুলাই ২০২৬ ১৩:৪৭:৩৫ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

একুশে বইমেলার উদ্বোধন; বই জ্ঞানের দরজা খুলে দেয় : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত : ০১:১৯ পিএম, ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ রবিবার | আপডেট: ০১:২০ পিএম, ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ রবিবার

tmh4caf6-e1405414817710স্টাফ করেসপন্ডেন্ট,উইমেননিউজ২৪.কম, ঢাকা : আজ পহেলা ফেব্রুয়ারি বহু প্রতিক্ষিত অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধন হলো।বেলা ৩টায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গ্রন্থমেলা ও আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলনের উদ্বোধন করেন।সাহিত্য সম্মেলন এবারের গ্রন্থমেলায় নতুন মাত্রা। সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।এরপর পবিত্র ধর্মগ্রন্থসমূহ থেকে পাঠ এবং অমর একুশের ঐতিহাসিক সঙ্গীত পরিবেশিত হয়। ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পালন করা হয় এক মিনিট নীরবতা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সংস্কৃতি সচিব ড.রণজিৎ কুমার বিশ্বাস।স্বাগত কথনে অংশ নেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। সভাপতিত্ব করেন একাডেমির সভাপতি এমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার এবং বাংলা একাডেমির পরিচালক শাহিদা খাতুন। একই মঞ্চে আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলনে আসা বিদেশি অতিথিদের মধ্যে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জার্মানির সাহিত্যিক হান্স হার্ডার,ফরাসি লেখক ফ্রাঁস ভট্টাচার্য,বেলজিয়ামের সাহিত্যিক ফাদার দ্যতিয়েন এবং ভারতের রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য গবেষক ও ভাষাবিদ ড. পবিত্র সরকার।অনুষ্ঠানে ভিনদেশী লেখকরা অনর্গল বাংলায় কথা বলে সবাইকে চমকে দিয়েছেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার’২০১৫ প্রাপ্ত লেখকদের হাতে পুরস্কারের ক্রেস্ট,সম্মাননাপত্র ও এক লাখ টাকা তুলে দেন।পুরষ্কারপ্রাপ্ত লেখকরা হলেন,কবিতায় শিহাব সরকার,কথাসাহিত্যে জাকির তালুকদার,প্রবন্ধে শান্তনু কায়সার,গবেষণায় ভূঁইয়া ইকবাল,মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্যে আবু মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন,ভ্রমণে মঈনুস সুলতান এবং শিশুসাহিত্যে খালেক বিন জয়েনউদ্দীন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন,বাংলা একাডেমির বইমেলা স্বল্প পরিসরে হওয়া সম্ভব নয় বলেই মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন,বইমেলা শুধু একটি মেলাই নয়।এটি আমাদের অস্তিত্ব।বই জ্ঞানের দরজা খুলে দেয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন,বাংলাদেশের মানুষ যখন শান্তিতে থাকে তখন কোথা থেকে যেন একটি কালো মেঘ চলে আসে।এখন হাসপাতালগুলোতে গেলে দেখা যায় মানুষের আর্তনাদ। তিনি বলেন,পেট্রোল বোমা মেরে মানুষ মেরে ফেলা এটা কোনো আন্দোলন হতে পারে না। এটা সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ড। শেখ হাসিনা বলেন,আগামীকাল সোমবার থেকে এসএসসি সমমানের পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিলো।এ পরীক্ষা পিছিয়ে শুক্রবার দিয়েছি।আমরাতো আর শিশুদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলতে পারি না। সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন,সারা বছর আমাদের লেখক-প্রকাশক-পাঠক সাধারণ অপেক্ষায় থাকেন।এ গ্রন্থমেলা উপলক্ষে প্রকাশিত নতুন নতুন বই আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক অগ্রযাত্রার চালচিত্রই শুধু পরিস্ফুট করে না,বরং এর মধ্য দিয়ে আমাদের সাংস্কৃতিক জগতেও সৃষ্টি হয় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন,অমর একুশে গ্রন্থমেলা এখন আমাদের জাতীয় উৎসবে পরিণত হয়েছে।প্রযুক্তির বহুমাত্রিক বিকাশের ফলে মুদ্রিত বইয়ের ভবিষ্যত নিয়ে অনেকেই শঙ্কিত।তবে আমরা প্রযুক্তির সঙ্গে মুদ্রিত বইয়ের চিরায়ত ঐতিহ্য যুক্ত করে নতুন দিনের সূচনা করতে চাই। শামসুজ্জামান খান বলেন,সময়ের চাহিদার প্রেক্ষিতে এবার বাংলা একাডেমির অমর একুশে গ্রন্থমেলা নতুন আঙ্গিক লাভ করেছে। একাডেমির সীমিত পরিসর ছাপিয়ে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গ্রন্থমেলা বিস্তারের মধ্য দিয়ে নতুন নতুন প্রকাশকদের যেমন সুযোগ করে দেওয়া সম্ভব হবে, তেমনি এ গোটা অঞ্চলে সৃষ্টি হবে সাংস্কৃতিক প্রণোদনা। ০১.০২.২০১৫