বাসস্ট্যান্ডগুলোতে ঘরে ফেরা মানুষের ঢল
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪.কম
প্রকাশিত : ০২:৩০ পিএম, ১৩ জুন ২০১৮ বুধবার | আপডেট: ১১:৪৯ পিএম, ১৩ জুন ২০১৮ বুধবার
আপনজনের সাথে ঈদ করতে যাওয়ার জন্য যোগাযোগের সবচেয়ে বড় মাধ্যম হল বাস। আর আজ বুধবার গাবতলী, নবীনগর, বাইপাইলে যেন জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। কাল সন্ধ্যার পর থেকেই ভিড় জমেছে এসব বাসস্ট্যান্ডে।
গাবতলী বাস টার্মিনালে উপচেপড়া ভিড়। এসব যাত্রীদের অধিকাংশই নারী ও শিক্ষার্থী। সময়ের হেরফের হলেও বিভিন্ন পরিবহন কোম্পানির দূরপাল্লার বাসগুলো যাত্রী বোঝাই করে ছাড়ছে টার্মিনাল। বেশির ভাগ টিকেট কাউণ্টারের সামনেই ভিড়। গাবতলী সাকুরা পরিবহন থেকে টিকিট কিনছেন মিথিলা। সকাল ১০ টায় এসেছেন পরিবার নিয়ে গাবতলী মাজার রোড থেকে। বরিশাল যাওয়ার পাঁচটি টিকিট কিনলেন। বললেন, বাস আসার কথা ১১.৩০ টায়, এখন ১টা বাজে বাসের কোন খবর নেই। হানিফ, শ্যামলী কাউণ্টারে টিকিট তো অনেক আগেই শেষ। আজকে অনেকেই এসেছেন পুরো পরিবার নিয়েই গ্রামে যাবেন। সেলিনা এসেছেন তার পরিবারের সবাইকে বাসে তুলে দিতে। ঈগল পরিবহনের ৬ টি টিকিট কাটলেন। বললেন,আমি ব্যাংকে কাজ করি। আমি শুক্রবার পটুয়াখালি যাব। আজ মা, বোন, বাচ্চাদের পাঠিয়ে দিচ্ছি।
নবীনগর কাউণ্টারেও দেখা গেল অনেক শিক্ষার্থীর ভিড়। খোজ নিয়ে জানা গেল এরা বেশিরভাগই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ইতু ও তার ১২ জন বান্ধবী দেশে যাবেন। সবার বাড়িই ফরিদপুরের আশেপাশে। মোট ১৩ টি টিকিট লাগবে তাদের। এদিকে ফরিদপুরের বাস গোল্ডেন লাইনের ৮ টি সিট আছে। বাধ্য হয়ে আর ৫টি টিকিট সাউথ লাইনের থেকে নিলেন ইতু। বললেন,ভাড়া আগেরটাই। তবে সবাই এক বাসে যেতে পারলে ভাল হত,অনেক মজা হত। আমার বাড়ি ফরিদপুরে। অন্যদের ফরিদপুরের বোয়ালমারী, সালতা, নগরকান্দা, মধুখালী। নবীনগরে প্রত্যেবটি বাসের কাউণ্টারে সর্বোচ্চ ৪ টি থেকে ৬টি টিকিট পাওয়া যায়। কারণ বেশিরভাগ সিটই গাবতলী থেকে ভরে আসে। তাই অনেককেই এখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। তবুও এখানে আজ অনেক মানুষ। সাভার গণস্বাস্থ্যের শিক্ষার্থী মিনা খাতুন বলেন,এখান থেকে গাবতলী ভালই দূর। তাই নবীনগর থেকেই টিকিট কাটি।
আশুলিয়ার বাইপাইল। বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের জেলা, রংপুর, দিনাজপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও,লালমনিরহাট যাওয়ার অন্যতম প্রধান মাধ্যম এটি। এছাড়া রাজশাহী, চাঁপাই, টাঙ্গাইল, জামালপুর, শেরপুরও এদিক দিয়ে যাওয়া যায়। তাই বাইপাইলে আজ অনেক ভিড়। বিশেষ করে নারী ও শিশুর সংখ্যা বেশি। কাইচ্যাবাড়ি নিবাসী ময়না যাবেন চিলমারী। বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন। বলেন, আমার স্বামী গার্মেন্টেসে কাজ করে। তার ছুটি হয় নাই। তাই আমি, বাচ্চা দুইটাকে নিয়ে আগেই চলে যাচ্ছি।
এভাবেই, নাড়ির টানে দূর-দূরান্তে ছুটে চলেছেন তারা। সব মিলে ঘরে ফেরা মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। আগামীকাল সমস্ত অফিস গার্মেন্টস বন্ধ হয়ে যাবে তাই আজকের চেয়ে আগামীকাল চাপ অনেক বাড়বে। তারপেরও কিন্তু এ কাফেলা থেমে থাকবেনা। বাড়ি তো যেতে হবেই, তা যেভাবেই হোক।
