ঢাকা, বুধবার ১৫, জুলাই ২০২৬ ১৪:৩০:০১ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

আজ ঈদ, উৎসবে মেতেছে সবাই

এসএম মুন্না

উইমেননিউজ২৪.কম

প্রকাশিত : ১২:২৫ এএম, ১৬ জুন ২০১৮ শনিবার | আপডেট: ০২:২২ পিএম, ১৮ জুন ২০১৮ সোমবার

‘চাঁদ উঠিয়াছে, ঈদের চাঁদ কি উঠেছে? শুধায় সবে। লাখো জনতার আঁখি থির আজি সুদূর সুনীল নভে।’ চাঁদের জন্য আনন্দময় অপেক্ষার অবসান হয়েছে শুক্রবার সন্ধ্যাকাশে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার মধ্য দিয়ে। আজ শনিবার (১৬ জুন) যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও ব্যাপক উৎসাহ, আনন্দ ও উদ্দীপনার সারাদেশে মুসলমান সম্প্রদায় তাদের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর উদযাপন করবেন।

 

ঈদে একে অপরকে শুভেচ্ছা জানানোর রীতি চিরন্তন। রাজনৈতিক নেতারাও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দেশবাসীকে। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদসহ সব শীর্ষ রাজনীতিক দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।


শুক্রবার চাঁদ ওঠার পর রেডিও-টেলিভিশনে বাজতে শুরু করে জাতীয় কবি কাজী নজরুলের সেই পুরাতন গানের সুর_ ‘ও মন রমজানের ওই রোজার শেষে এল খুশির ঈদ...’।

 

ঈদ আল্লাহর পক্ষ থেকে উপহার। এক মাসের সিয়াম সাধনা আর সংযমের পর ঈদুল ফিতর আনছে ‘ভাঙার দিন’। ইসলামের সাম্যের সবচেয়ে বড় উদাহরণ ঈদ। নজরুলের কবিতার মতো ‘আজি ইসলামী ডঙ্কা গরজে ভরি জাহান,/ নাই বড় ছোট_ সকল মানুষ এক সমান,/রাজা প্রজা নয় কারো কেহ।’ ঈদ মানেই নতুন জামা, বাড়ি ফেরা, প্রিয়জনের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করা, ঈদগাহে যাওয়া, দোস্ত-দুশমন ভুলে বুক মেলানো।

 

ঈদের নতুন পোশাকের কেনাকাটা হয়েছে দেদার, তার প্রমাণ গত কয়েক দিনে মার্কেট ও শপিংমলে উপচেপড়া ভিড়। নিজের জন্য হোক বা অপরকে উপহার দিতেই হোক, সামর্থ্যের মধ্যে সেরা জামাটি খুঁজে পেতে অহর্নিশ এ দোকান থেকে ও দোকানে ঘুরে বেড়িয়েছেন সবাই।

 

ঈদ মানেই দুঃখী-দরিদ্র মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা। তাই তো ইসলামের তাগিদ, ঈদগাহে যাওয়ার আগেই পরিশোধ করতে হবে জাকাত, যাতে ধনী-গরিব নির্বিশেষে ভাগাভাগি করতে পারে ঈদের খুশি। বিত্তবানের ওপর জাকাত ও ফিতরা দেওয়া ওয়াজিব।

 

বাঙালির ঈদ একটু ভিন্ন। ঈদের অত্যাবশ্যকীয় দিক হলো স্বজনের কাছে ফিরে যাওয়া। গত বুধবার থেকে শহর ছেড়ে গ্রামে ছুটছে মানুষ। জীবিকার তাগিদে শহরে বসবাসকারী মানুষ শত ভোগান্তি মেনেও হাসিমুখে ঈদে নাড়ির টানে ছুটছে। ভাঙা মহাসড়ক, যানজট, টিকিটের হাহাকার_ কোনো কিছুই বাধা নয়। প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের জন্য সব বাধা তুচ্ছ।

 

ঈদ জামাত শেষে মিষ্টি খাওয়া রাসূল (সা.)-এর সুন্নত। তাই ঈদে সেমাই অবধারিত। গরিব কি ধনী, সবারই চেষ্টা থাকবে সেরা আয়োজনটুকু করার। আর আজ যদি চাঁদরাত হয়, তবে তো কথাই নেই। বাড়ির নারীরা রান্নাঘর থেকে বের হওয়ার সময়টুকু পাবেন না। ঈদের খাবার থেকে বাদ যাবেন না কেউ, রোগীদের জন্য হাসপাতালে, এতিমদের জন্য এতিমখানা, শিশুসদন, ছোটমণি নিবাস, বৃদ্ধাশ্রম, ভবঘুরে আশ্রয়কেন্দ্র_ সবখানেই থাকবে বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা। কারাগার আর কিশোর সংশোধন কেন্দ্রগুলোতেও থাকবে উন্নত খাবার।

 

ঈদে রাজধানীসহ সারাদেশের বিনোদন কেন্দ্রগুলো সেজেছে উৎসবের সাজে। রাজধানীতে প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপগুলো জাতীয় পতাকা এবং বাংলা ও আরবিতে ঈদ মোবারকখচিত ব্যানার দিয়ে সাজানো হয়েছে। চাঁদরাতে নির্দিষ্ট সরকারি ভবনগুলোতেও করা হবে আলোকসজ্জা। চিড়িয়াখানা, শিশুপার্কের মতো বিনোদন কেন্দ্র খোলা থাকবে ঈদে।

 

প্রধান জামাত জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল সাড়ে ৮টায়
ঈদের প্রধান জামাত রাজধানীর হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে অবস্থিত জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। এতে ইমামতি করবেন বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান। বিকল্প ইমাম হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মিরপুর জামেয়া আরাবিয়ার মুহতামিম শায়খুল হাদীস মাওলানা সৈয়দ ওয়াহিদুয্যামান। তবে আবহাওয়া প্রতিকূল বা অন্য কোন অনিবার্য কারণে এ জামাত অনুষ্ঠান সম্ভব না হলে, ঈদের প্রধান জামাত সকাল ৯টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে অনুষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রপতি, বিচারপতিগণ, মন্ত্রী পরিষদের সদস্যবর্গ, মুসলিম বিশ্বের কূটনীতিকবৃন্দ জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।

 

এবার এখানে একসঙ্গে ১ লাখ মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৫ হাজার মহিলা একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে এবারও ৫টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম জামাত হবে সকাল ৭টায়। এর পরপর আরো ৪টি জামাত হবে যথাক্রমে ৮টা, ৯টা, ১০টা ও পৌনে ১১টায়। প্রথম জামায়াতে ইমামতি করবেন বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মুহিবুল্লাহিল বাকী নদভী, দ্বিতীয় জামায়াতে বায়তুল মুকাররম মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মহিউদ্দিন কাসেম, তৃতীয় জামায়াতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুহাদ্দিস মুফতি মাওলানা ওয়ালিয়ুর রহমান খান, চতুর্থ জামায়াতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক মাওলানা জুবাইর আহাম্মদ আল আযহারী এবং পঞ্চম ও সর্বশেষ জামায়াতে তেজগাঁও রেলওয়ে জামে মসজিদের খতিব ড. মাওলানা মুশতাক আহমাদ ইমামতি করবেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশন সূত্র জানায় আবহাওয়া প্রতিকূল থাকলে বায়তুল মোকাররমে সকাল ৯টায় অনুষ্ঠেয় ঈদ জামাত দেশের প্রধান ঈদ জামাত হিসেবে গণ্য হবে।


জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সকাল ৮টায় ঈদুল ফিতরের জামাতের আয়োজন করা হয়েছে। এখানে মন্ত্রী পরিষদের সদস্যবর্গ, জাতীয় সংসদের হুইপবৃন্দ, সংসদ সদস্য ও সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ এলাকার মুসল্লিগণ জামাতে অংশ নেবেন। ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে প্রতিটি ওয়ার্ডের মসজিদ, মাঠ ও ঈদগাহে ৪ বা ৫টি করে মোট ৪০৯টি ঈদ জামাতের আয়োজন করা হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র কার্যালয়ের কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায় জানান, ডিএসসিসি’র ৫৭টি ওয়ার্ডের প্রত্যেকটিতে ৪টি করে এবং জাতীয় ঈদগাহ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মাঠসহ মোট ২৩০টি স্থানে ঈদ জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।

 

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা এসএম মামুন জানান, এই সিটি কর্পোরেশনের ৩৬টি ওয়ার্ডের মোট ১৭৯টি ঈদ জামাতের আয়োজন করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ মসজিদুল জামিআয় ঈদের দু’টি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৮টায় এবং দ্বিতীয় জামাত হবে সকাল ৯টায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল মেইন গেইট সংলগ্ন মাঠে ও শহীদুল্লাহ হল লনে সকাল ৮টায় পৃথক দু’টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে।


বিশ্ব জাকের মঞ্জিল ও বনানী দরবার শরীফে সকাল সাড়ে ১০টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া রাজধানীর আরামবাগে দেওয়ানবাগ শরীফে ঈদের ৩টি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। প্রথমটি সকাল ৮টা, দ্বিতীয়টি সকাল সাড়ে ৯টা এবং শেষ জামাত সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে।

 

দেশের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত
এবারও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় দেশের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এরইমধ্যে ঈদ জামাতের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এবার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চলছে ঈদ জামাতের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। এবার ১৯১তম ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হবে শোলাকিয়ায়। প্রতিবছরের মতো এবারও জামাত শুরু হবে সকাল ১০টায়। জামাতে ইমামতি করবেন মাওলানা ফরিদউদ্দিন মাসউদ।

 

উৎসবে মেতেছে সবাই
ঈদ উৎসবে মেতেছে মানুষ। আবহমান কাল থেকেই বাঙালির ঈদ মানে গ্রামের দিকে, প্রিয়জনের দিকে অবিরাম ছুঁটে চলা। এবারও লাখ লাখ মানুষ ঈদ করতে ঢাকা শহর ত্যাগ করেছেন। ঈদকে ঘিরে গ্রামে উৎসব আয়োজন কমে এলেও কমেনি মানুষের বাড়ি ফেরার আকুলতা। প্রিয়জনের ফিরে আসার আনন্দে তাই মুখর বাংলাদেশের ৮৭ হাজার গ্রাম।

 

এবারও দেশের উত্তরাঞ্চলে, বিশেষ করে রংপুর বিভাগের আট জেলায় ঈদকে আনন্দময় করে তুলতে অনেক গ্রামে আয়োজন করা হয় আনন্দমেলা। এসবের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার হাড়িয়ার কুটি ইউনিয়নের ডাঙ্গারহাট মেলা, বদরগঞ্জ উপজেলার লালদীঘি মেলা, নীলফামারীর সৈয়দপুর মেলা ও দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলায় চৌমুহনী মেলা। সে সঙ্গে কুড়িগ্রামের ধরলা নদীর পাড়ে বসে ভাওয়াইয়া গানের আসর। কোনো কোনো এলাকায় বসানো হয় কবিগানের আসর। রাত ধরে চলে এসব আসর। বন্দরনগরী চট্টগ্রাম আর আশপাশের এলাকার মানুষ ঈদ উদযাপন করে ঐতিহ্যবাহী নানা আয়োজনে। এবারও চট্টগ্রামের ঘরে ঘরে ছড়িয়ে যাবে মেজবানি মাংসের ঘ্রাণ। ঈদ উদযাপনে বরিশালের ঘরে ঘরেও চলছে নানা প্রস্তুতি।

 

খুলনার কোনো কোনো গ্রামে ঈদে হয় জামাই মেলা। দীঘলিয়া উপজেলার ব্রহ্মগাতী গ্রামের সুতিরকুল ঈদগাহ মাঠে চলছে এমনই এক ঈদমেলার প্রস্তুতি। ঈদের দিন ভোর থেকে শুরু হয়ে মেলা চলবে মধ্যরাত পর্যন্ত। শত বছরের ঐতিহ্যবাহী এই মেলা পরিচিতি পেয়েছে ‘জামাই মেলা’ হিসেবে। এ গ্রামে বেড়াতে আসা জামাইরা ঈদগাহে ঈদের জামাতে অংশ নেওয়ার পর ঢোকেন মেলায়। জামাই মেলায় বিক্রি হয় বড় বড় সাইজের মাছ এবং বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি। গ্রামে আসা জামাইদের মধ্যে রীতিমতো প্রতিযোগিতা শুরু হয়_ কে কত বড় সাইজের মাছ ও কত বেশি পরিমাণ মিষ্টি নিয়ে শ্বশুরবাড়ি যাবেন। ঈদমেলার কিছুটা ছোঁয়া লেগেছে খুলনা নগরেও। সিলেট অঞ্চলের ঈদের অন্যতম অনুষঙ্গ চালের গুঁড়া দিয়ে তৈরি পিঠা ‘হান্দেশ’ আর ‘নুন গড়া’। প্রাচীন ঐতিহ্যের এ পিঠা এখনও সিলেটের ঘরে ঘরে সমাদৃত হলেও হারিয়ে যাচ্ছে ঈদ উপলক্ষে ষাঁড়ের লড়াই ও মুরগির লড়াই আয়োজনের রীতি। আগেকার দিনে বর্ষাকালে ঈদ হলে নৌকাবাইচেরও আয়োজন করা হতো।

 

ঈদে পাড়া-মহল্লায় বসে যায় গানের আসর। আয়োজন করা হয় পালাগান ও কবির লড়াই। কোথাও হা-ডু-ডু, কোথাও আবার প্রীতি ফুটবলের আয়োজন করা হয়। এবার বিশ্বকাপ ফুটবল চলছে। তাই কোথাও কোথাও হয় প্রীতি ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা হয়েছে।

 

প্রবাসীরাও অনেকেই দেশে ফিরছেন। যারা ফিরতে পারেননি, তারা পাঠিয়েছেন কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পরিবার-পরিজনদের আনন্দময় একটি ঈদ উপহার দিতে ১৫ মে থেকে সঞ্চয় বাড়িয়ে সে অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন। সাধারণত রমজান মাসে ঈদকে কেন্দ্র করে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি পায়। অন্যান্য সময় প্রবাসী বাংলাদেশিরা তাদের আয়ের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ অর্থ দেশে পাঠালেও রমজান মাসে তারা আরও ১০ শতাংশ অর্থ বেশি পাঠান।

 

এই প্রবাসীদের বেশিরভাগই শ্রমিক এবং তাদের পরিবার-পরিজন বাস করেন গ্রামে। ফলে ঈদের কেনাকাটাকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ অর্থনীতি বেশ চাঙ্গা হয়। শহর থেকে গ্রাম_ সর্বত্রই এখন মানুষের যাবতীয় তৎপরতা ঈদকে ঘিরে। ঈদে নগরবাসী যখন হাজারটা ঝামেলা উপেক্ষা করে নাড়ির টানে গ্রামে ফিরে যান, তখন অনেকেই আবার ভিনদেশে যান ঈদ করতে। ক্রমে এ সংখ্যা বাড়ছে। বিদেশে ঈদ করতে যাওয়া মানুষের আবার দুটি শ্রেণি রয়েছে। এক শ্রেণির মানুষ যান ইউরোপ-আমেরিকায়, তারা একেবারে উচ্চবিত্ত শ্রেণির। অন্য শ্রেণিটির লক্ষ্য থাকে কাছের দেশ ভারত, নেপাল, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া প্রভৃতি। তাই ঈদের আগে অনেক ট্রাভেল এজেন্সি বিশেষ প্যাকেজ ট্যুরের ব্যবস্থা করে। এক সূত্রে জানা যায়, সারা বছর ২০ থেকে ২৫ লাখ মানুষ দেশের বাইরে যান। এর মধ্যে পাঁচ থেকে সাত লাখ মানুষ ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র্র করে বিদেশে বেড়াতে যান।

 

বিনোদন কেন্দ্র প্রস্তুত
ঈদ উপলক্ষে শুক্রবার থেকে ৩ দিনের সরকারি ছুটি শুরু হয়েছে। ঈদের দিন সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের বিনাটিকেটে জাদুঘর, আহসান মঞ্জিল, লালবাগের কেল্লা ইত্যাদি দর্শনীয় স্থান প্রবেশ এবং তা প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শিশু একাডেমিতে শিশুদের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

 

নিরাপত্ত জোরদার
ঈদ উপলক্ষে মুসল্লীদের নিরাপত্তা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রাজধানীসহ সারা দেশে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।