নারী মাদক ব্যবসায়ীর গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪.কম
প্রকাশিত : ০৯:৫২ পিএম, ১৭ জুন ২০১৮ রবিবার | আপডেট: ০২:১০ পিএম, ১৮ জুন ২০১৮ সোমবার
ময়মনসিংহে মাদক সম্রাজ্ঞী রেহেনার গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার ভোরে সদর উপজেলার গন্দ্রপা এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ বলছে, গুলিবিদ্ধ নারী তাদের কোন অভিযানে মারা যায় নি।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিকুর রহমান নিহতের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মাদকের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে নিজেদের মধ্যকার দু`পক্ষের সংঘর্ষে রেহেনার মৃত্যু হতে পারে। বন্দুকযুদ্ধের ঘটনাটি পুলিশ অস্বীকার করেন।
কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ইন্টিলিজেন্স) মুশফিকুর রহমান জানান, স্থানীয় এলাকাবাসী ভোরে আমাদের খবর দেয়-এক নারীর মরদেহ পড়ে রয়েছে। পরে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারীর গুলিবিদ্ধ মরদেহ দেখতে পাই। পরিচয়ও শনাক্ত করা হয়। তার নাম রেহেনা।
পুলিশসহ বিভিন্ন সূত্রের দাবি, ময়মনসিংহ নগরীর ক্যান্টনমেন্টে সিনেমা হলের পেছনে জমজমাট মাদকের কারবার করতেন রেহেনা। তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
দেশব্যাপী পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযানের মধ্যেই এই প্রথম কোন নারী মাদক কারবারির মৃতদেহ পাওয়া গেলো।
পুলিশ তাকে রেহানা আক্তার নামে সনাক্ত করেছে। ময়মনসিংহ সদরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আল-আমিন বিবিসিকে বলেছেন, রেহানা সানকিপাড়ায় থাকতো। সেখান থেকে পাঁচ কিলোমিটার মতো দূরে গন্ডপাড়া এলাকায় একটা লাশ পাওয়া গেছে বলে সকালে আমরা খবর পাই।
তিনি আরো জানান, রেহানা এই এলাকার কুখ্যাত একজন মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে বেশ কটি মামলা রয়েছে। তার পরিবারের বেশ কয়েকজন একই ব্যবসা করে। এবার যে অভিযান চলছে সেই অভিযানে তার বোনকে আমরা গ্রেফতার করেছি।
বাংলাদেশে চলমান মাদক বিরোধী অভিযানে দেশব্যাপী এ পর্যন্ত প্রায় দেড়শ মাদকব্যবসায়ী বা বিক্রেতা মারা গেছে। তবে এই প্রথম কোন নারী মাদক কারবারির মরদেহ পাওয়া গেলো।
রেহানা আক্তারের ফুপাতো ভাই মোহাম্মদ হানিফ জানান, তারা শুনেছেন রেহানা আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়েছিলো।
তিনি বলেন, আমরা শুনছি যে কালকে চারটার সময় নাকি তাকে অ্যরেস্ট করে নিয়ে গেছে। এইটাই শুনছি। পরে আজকে সকালবেলা শুনি যে তারে নাকি মাইরা ফালাইছে। তবে উনি অনেক দিন যাবতই মাদক ব্যবসা করে। প্রায় চার-পাঁচ বছর এরকম হবে।
তবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আল-আমিন বলছেন, রেহানা আক্তার নামে ওই নারী পুলিশের অভিযানে মারা যাননি।
