ঢাকা, সোমবার ১৩, জুলাই ২০২৬ ১১:৩৬:০৩ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

মিয়ানমারে ধর্ষণ আতঙ্কে নারী শ্রমিকরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

উইমেননিউজ২৪.কম

প্রকাশিত : ০৯:২২ পিএম, ২১ জুন ২০১৮ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০২:৪৮ পিএম, ২২ জুন ২০১৮ শুক্রবার

মিয়ানমারের নারী গার্মেন্টস শ্রমিকরা এখনও ধর্ষণ ও ডাকাতির আতঙ্কে আছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে দেশটির সংবাদ মাধ্যম দ্য মিয়ানমার টাইমস।



সম্প্রতি মিয়ানমার, নেপাল ও পাকিস্তান- এ তিন দেশে নারী শ্রমিকদের ওপর চালানো এক গবেষণা জরিপের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদ মাধ্যমটি। গবেষণার কাজটি করেছে আইএমসি ওয়ার্ল্ডওয়াইড, পোর্টসমাউথ ও ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর রিসার্চ নামের তিন সংস্থা।

 

ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইয়াঙ্গুনের নারী গার্মেন্টস শ্রমিকরা জানিয়েছে তারা কাজের জন্য যাওয়া-আসার ক্ষেত্রে শারীরিকভাবে অনিরাপদ থাকেন। যা এই খাতের উৎপাদনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।


২০১৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৭ সালের মার্চ পর্যন্ত সময়ে চালানো ওই গবেষণায় তিন দেশের নারী, কর্ম পরিবেশ ও তাদের বিরুদ্ধে সহিংসতাকে প্রধান্য দেয়া হয়। গবেষণায় নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা কমাতে কর্ম পরিবেশ বিশেষ করে মধ্য আয়ের নারীদের চলার পথে সামাজিক বাধা-বিপত্তি প্রশমনে সংস্কার দরকার বলে সুপারিশ করা হয়।


পোর্টসমাউথের এক গবেষক মিয়ানমার টাইমসকে জানান, নীতিনির্ধারকদের বিষয়টি ভাবা উচিত যে কর্মক্ষেত্রে নারীরা কতটা সহিংসতার শিকার হচ্ছেন।


মিয়ানমারের শ্রমবাজারের তথ্য অনুযায়ী, পোশাক, ফুটওয়্যার ও টেক্সটাইল শিল্পে দেশটির সাফল্য চোখে পড়ার মত।

তবে সেখানে পুরুষের তুলনায় আনুপাতিক হারে কম বেতন পান নারী শ্রমিকরা। আর এ বৈষম্য দিন দিন বাড়ছে।


প্রতিবেদনে জানানো হয়, অনেক নারী শ্রমিকের পরিচয়পত্র বা লেবার কার্ড দেয়া হয়। এর অর্থ তারা অফিশিয়ালি কর্মী নয়। ফলে তারা অনেক অধিকার থেকে বঞ্চিত হন।

নারী গার্মেন্টস শ্রমিকরা জানান, তারা গার্মেন্টস কারখানা ও তার আশপাশের এলাকায় চলাফেরা করতে অনিরাপদ বোধ করেন। অনেক ক্ষেত্রে তা চরম পর্যায়ে পৌঁছে যায়।


এক নারী শ্রমিক বলছিলেন, কাজে যাওয়ার সময়ই ভয় শুরু হয়। তখন ভাবি কীভাবে বাসায় ফিরবো? ফেরার পথে যখন অন্ধকার বাড়ে, তখন ভয় বা উদ্বেগটাও বাড়ে।


প্রতিবেদনে বলা হয়, গার্মেন্টস শ্রমিকদের মধ্য ধর্ষণ ও ডাকাতির ভয় মারাত্বক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে যাদের দীর্ঘ সময় কাজ করতে হয় এবং অন্ধকারে ফিরতে হয় তাদের বেলায় ভয় আর আতঙ্কের পরিমাণ অনেক বেশি। এতে তারা হতাশায় ভোগেন যা মিয়ানমারের শ্রমবাজারে বিরুপ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা ।