ভাষা আন্দোলন আমাদের বাঙালি চেতনার ধারক ও বাহক। ’৫২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রোপণ করা হয়েছিল বাংলা ভাষার বীজ। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে এই মাসে দেশের আপামর জনতা নেমে এসেছিল রাজপথে। রাজপথে পুরুষদের পাশাপাশি ছিলেন নারীরাও। ভাষা আন্দোলনে নারীর অগ্রণী ভূমিকা নিয়ে এক সংক্ষিপ্ত সাক্ষাতকারে কথা বলেছেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক সেলিনা হোসেন। তার সাক্ষাতকারটি উইমেননিউজ২৪.কম এর পাঠকদের জন্যে তুলে ধরা হলো।
ভাষা আন্দোলনে নারীদের অবদান সম্পর্কে যদি বলেন...
সেলিনা হোসেন: ভাষা আন্দোলনে নারীদের অগ্রণী ভূমিকা ছিল। মিছিল, মিটিং থেকে শুরু করে সবখানেই নারীরা ছিল। ভাষা আন্দোলনে মাঠের কাজগুলোর পাশাপাশি নেপথ্যের কাজগুলোও নারীরাই করেছে। এমনকি ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করার সময় ১০ জনে ভাগ হয়ে যে দল গঠন করা হয়েছিল সেখানেও নারীরা ছিল।
সম্প্রতি বিজ্ঞাপন, বিলবোর্ডে বাংলা ভাষা ব্যবহারের ওপর রুল জারি করা হয়েছে। এটাকে কীভাবে মূল্যায়ন করছেন?
সেলিনা হোসেন: আমার মনে হয় এটা আরও আগে হওয়া উচিত ছিল। অনেক দেরি হয়ে গেছে। তবুও স্বাধীনতার ৪২ বছর পর এসেও যে হলো এতেও ভালো লাগছে। বিভিন্ন বিলবোর্ডে অতিরিক্ত ইংরেজির ব্যবহার সত্যিই আমাদের মর্মাহত করে। তবে একান্তই যদি ইংরেজি লেখার দরকার পড়ে তাহলে বড় করে বাংলায় লিখে নিচে ছোট করে ইংরেজি লেখা যেতে পারে।
দেশের উচ্চ আদালতে এখনও বাংলা ভাষার খুব একটা প্রচলন নেই। এই ব্যাপারটাকে কীভাবে দেখছেন?
সেলিনা হোসেন: এটা সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক। বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা বাংলা অথচ উচ্চ আদালতের কাজগুলো ইংরেজিতে সম্পন্ন হচ্ছে—এটা লজ্জাজনক। আরও আগে থেকে এখানে বাংলা ভাষার প্রয়োগ হওয়া উচিত ছিল।
এ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আমাদের কী করণীয়?
সেলিনা হোসেন:উচ্চ আদালতে ব্যবহূত ইংরেজি শব্দগুলোর অবশ্যই বাংলা পরিভাষা আছে, সেগুলো ব্যবহার করতে হবে। আমার মনে হয় এটা খুব কঠিন কোনো কাজ নয়। আইন বিশেষজ্ঞরা চাইলেই এটা করতে পারেন। কিন্তু এখনও যে সম্ভব হয়নি, এর প্রধান কারণ আমাদের সত্ মানসিকতার অভাব। কিছু মানুষের স্বেচ্ছাচারিতায় বাংলা ভাষা আজও অবহেলিত।
বাংলা ভাষায় সাহিত্য চর্চায় নারী লেখকদের উপস্থিতি কেমন আপনার চোখে পড়ছে?
সেলিনা হোসেন: লেখক তো লেখক। সে নারীই কি আর পুরুষই কি। লেখককে আলাদাভাবে মূল্যায়নের কোনো কারণ দেখি না। আমার মনে হয় নারীরা সাহিত্য চর্চায় অনেক এগিয়েছে, ভবিষ্যতে আরও এগোবে।
২১.০২.২০১৫