ঢাকা, বুধবার ২২, জুলাই ২০২৬ ১১:৫৮:৫৮ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

ভাষা সংগ্রামে নারী

প্রকাশিত : ০৯:১৭ এএম, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ শনিবার | আপডেট: ০৯:১৭ এএম, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ শনিবার

21_Feb_15952স্টাফ করেসন্ডেন্ট,উইমেননউজ২৪.কম, ঢাকা : পৃথিবীর সব বড় কাজে নারী ও পুরুষ, উভয়েরই হাত আছে। কবিতার ভাষায়ও এটা স্পষ্ট হয় সুনিপুণভাবে। ‘অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর’ ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসেও তার ব্যতিক্রম কিছু হয়নি। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, জাতীয় আন্দোলন। এই আন্দোলন শুরু হয়েছিল পঞ্চাশের দশকের প্রথম দিকে। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি কঠিন রূপ নেয়। ক্রমেই এই আন্দোলনের দাবি শক্তিশালী হয়ে ওঠে। ফলে এ আন্দোলন বাংলাদেশেও ছড়িয়ে পড়ে। ছাত্রদের মধ্য দিয়ে এ আন্দোলনের সূত্রপাত হলেও দেশের আপামর জনগণ, নারী-পুরুষ, আবালবৃদ্ধবনিতা, দল-মত নির্বিশেষে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। মেয়েদেরও ছিল সক্রিয় সহযোগিতা। ভাষা সংগ্রামে নারীর অবদান নিয়ে লিখেছেন সুরাইয়া নাজনীন রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের শুরুতে যাদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ছিল তারা হলেন আনোয়ারা খাতুন ও লিলি খান। ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি করাচিতে তৎকালীন পাকিস্তান গণপরিষদের বৈঠকে উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকে ‘রাষ্ট্রভাষা’ করার দাবি জানানো হয়। তখন পাকিস্তান গণপরিষদে এই দাবির বিপক্ষে মতামত প্রকাশ করা হলে ঢাকার ছাত্র সমাজের মনে দারুণ ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। তারা ১৯৪৮ সালের ২ মার্চ ঢাকার ফজলুল হক হল মিলনায়তনে এক বৈঠকের আয়োজন করেন। সেই বৈঠকে এরা দু’জনেই উপস্থিত ছিলেন। ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন নাদেরা বেগম। তিনি বামপন্থি রাজনীতি করতেন। ছাত্রীজীবন থেকেই তার মধ্যে সমাজতান্ত্রিক মূল্যবোধ গড়ে ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনের নেতৃত্বদানের জন্য তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। সেখানে তিনি অন্যান্য রাজবন্দির সঙ্গে কঠোর নির্যাতন ও অত্যাচারের শিকার হন। কিন্তু তৎকালীন স্বৈরশাসকরা তার মনোবলে চিড় ধরাতে পারেনি। স্বৈরশাসনবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য সে সময় তিনি কিংবদন্তির চরিত্রে পরিণত হয়েছিলেন। সেই কঠোর ও অক্লান্ত সংগ্রামী নারীর কথা এখন হয়ত অনেকেই ভুলে গেছেন। ভাষা আন্দোলনে নারীদের অংশগ্রহণের সঠিক তথ্য নেই। শুধু বিক্ষিপ্তভাবে কিছু তথ্য জানা যায়। ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন সর্বজনশ্রদ্ধেও কবি বেগম সুফিয়া কামাল। অনেক কর্মীর সঙ্গে তার ছিল নিবিড় যোগাযোগ। ’৫২-এর ভাষা আন্দোলনে ভাষাকন্যা নাদেরা বেগম পুলিশের ঘেরাও থেকে আÍগোপন করেছিলেন। সে সময় সুফিয়া কামালের বাসায় ছিলেন বোনের মেয়ের পরিচয়ে। নাম পরিবর্তন করে নতুন নাম দিয়েছিলেন জাহানারা। মুনীর চৌধুরীর বোন নাদেরা বেগমকে হাটখোলার তারাবাগের বাসায় লুকিয়ে রেখেছিলেন সুফিয়া কামাল। কিছু দিন পর ঘটনাটা জানাজানি হয়ে গেলে পরে পুলিশ তাকে বন্দি করে। কারাগারে অন্য রাজবন্দিদের সঙ্গে তিনি কঠোর নির্যাতন ও অত্যাচারের শিকার হন। তার বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য সে সময় তিনি কিংবদন্তিতে পরিণত হন। ভাষা আন্দোলনের অন্যতম নেত্রী ছিলেন মমতাজ বেগম। তিনি সে সময় যুবলীগ নেতা শামসুজ্জোহা, সফি হোসেন খান এবং ড. মুজিবুর রহমানের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। একপর্যায়ে তিনি কারাবরণ করেন। সবচেয়ে দুঃখজনক হলো, কারাগার থেকে বন্ড সই করে মুক্তিলাভে অস্বীকৃতি জানানোয় মমতাজ বেগমের স্বামী তাকে তালাক দেন। এজন্য তার সাজানো সংসার ভেঙে যায়। এছাড়া তার ছাত্রী ইলা বকশী ও বেনু ধরও কারাবন্দি হন। খুলনার স্কুলছাত্রী হামিদা খাতুন নারীদের ঐক্যবদ্ধ আন্দেলনের প্রচেষ্টায় লাঞ্ছিত হন। ভাষা আন্দোলনে যেসব নারীর প্রধান ভূমিকা ছিল তাদের মধ্যে অন্যতম সিলেটের যোবেদা খাতুন চৌধুরীর। তার সহযোগিতায় ছিলেন শাহেরা বানু, সৈয়দা লুৎফুন্নেসা, সৈয়দা নজিবুন্নেসা খাতুন, প্রধান শিক্ষিকা রাবেয়া খাতুন প্রমুখ। সিলেটের ছাত্রী সালেহাকে স্কুলে কালো পতাকা উত্তোলনের জন্য তিন বছর বহিষ্কার করা হয়। বলাবাহুল্য তার জীবনে আর পড়াশোনা হয়নি। ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক এবং ভাষাসৈনিক গাজীউল হক একটি লেখায় ২১ ফেব্র“য়ারি সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় ঐতিহাসিক ছাত্রসভায় উপস্থিত মেয়েদের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি সাফিয়া খাতুন, সুফিয়া ইব্রাহিম, রওশন আরা বাচ্চু, শামসুন নাহারসহ অনেকের কথা উল্লেখ করেছেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ৫২ জন মেয়ের কথা বলেছেন। যাদের অবদান এই আন্দোলনে অপূরণীয়। ২১.০২.২০১৫