ঢাকা, বুধবার ২২, জুলাই ২০২৬ ১০:২০:৩৯ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

নারী দিবস : ইতিহাসের প্রেক্ষাপাট ও বাংলার নারী

প্রকাশিত : ০২:০৩ পিএম, ৮ মার্চ ২০১৫ রবিবার | আপডেট: ০২:০৩ পিএম, ৮ মার্চ ২০১৫ রবিবার

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট,উইমেননিউজ২৪.কম, ঢাকা : আন্তর্জাতিক নারী দিবসের ধারণা প্রথম জন্মে গত শতাব্দির প্রথম দিকে। তখন ইউরোপ, আমেরিকা জুড়ে চলছিল শিল্প বিপ্লব। নানা ধরণের শিল্প কারখানা ও নতুন নতুন আবিষ্কারে তখন বিশ্বজুড়ে এক আলোড়ন শুরু হলো। তেমন সময় যে জিনিসটি চোখে পড়লো তাহলো শিল্প কারখানায় নারী ও পুরুষের মধ্যে ভেদাভেদ।নারীরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সামাজিক, পারিবারিক, অর্থনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। কিন্তু অধিকার আদায়ে আন্দোলন করে গেছেন নারীরা। এই অধিকার আদায়ের নানা উল্লেখযোগ্য ঘটনাপঞ্জি এনে দিয়েছিল ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। নিচে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হলো। ১৯০৯ সাল : আমেরিকান সোসিয়ালিষ্ট পার্টি এই বছর ২৮ ফেব্রুয়ারিকে নারী দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। সারা আমেরিকায় ২৮ ফেব্রুয়ারি নারী দিবস পালিত হয়। ১৯১৩ সাল পর্যন্ত ফেব্রুয়ারির শেষ রোববার নারী দিবস হিসেবে পালন করে মার্কিনীরা। ১৯১০ সাল : ১৯১০ সালে একটি সমাজতান্ত্রিক আন্তর্জাতিক সম্মেলন হয় কোপেনহেগেনে। এ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস করার প্রস্তাবটি প্রথম গৃহিত হয়। প্রস্তাবটি বিপুল জনসমর্থন পায়। ১৭ টি দেশের ১০০ জন নারী সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।যাদের মধ্যে ফিনল্যান্ডের তিনজন নির্বাচিত নারী প্রতিনিধির কথা উল্লেখ্য। যদিও কোন নির্দিষ্ট তারিখ চিহ্নিত করা হয়নি এই সম্মেলনে। ১৯১১ সাল : ১৯১১ সালে ১৯ মার্চ নারী দিবস হিসেবে পালিত হয় ডেনমার্ক,সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া এবং জার্মানীতে।দেশগুলোতে সব মিলিয়ে দশ লক্ষ নারী পুরুষ মিছিল করে দাবী জানায়, নারী ও পুরুষের মধ্যে কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন রকমের ভেদাভেদ দূর করার। তার কিছুদিন পরেই ইতিহাস প্রত্যক্ষ করে এক ভয়াবহ দৃশ্যপট। “ট্রাইএঙ্গেল ফায়ার” নামে খ্যাত এই ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনায় নিউয়োর্কে মৃত্যু বরণ করেন ১৪০ জন নারী শ্রমিক। এই অগ্নিকান্ডের ঘটনা নারী দিবস তথা আন্তর্জাতিক শ্রমিক আইনের মোড় নতুন দিকে ঘুরিয়ে দেয়। ১৯১৩-১৯১৪ : এই সময়ের মধ্যে কিছু উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসে নারীদের অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে। তখন প্রথম মহাবিশ্ব যুদ্ধের সূচনা। এই যুদ্ধের বিপক্ষে এবং সার্বজনীন শান্তি কামনায় রাশিয়ার নারীরা ১৯১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ রোববার আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করেন। ইউরোপের বিভিন্ন জায়গায় ৮ মার্চ এবং তার আগের ও পরের দিনগুলোতে নানা রকম কার্যক্রমের আয়োজন করে নারীরা। এর উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধের বিরোধীতা করা অথবা যুদ্ধে লিপ্ত দেশগুলোর নারীদের সাথে নিজেদের সমর্থন ও সমবেদনা প্রকাশ করা। ১৯১৭ : প্রথম বিশ্বযুদ্ধে রাশিয়া ২০ লক্ষ লোক হারায়। এমনি অবস্থায় নারীরা আবারও ১৯১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ রোববার অবরোধ করার ঘোষণা দেন। যেটা “Strike for Bread and Peace”-নামে খ্যাত। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এই অবরোধের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। কিন্তু শত প্রতিকূলতায়ও নারীরা অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যায়। তারপরে মাত্র চার দিন পর জার বাধ্য হোন নারীদের ভোটাধিকার দিতে। রাশিয়ান গভর্মেন্ট এই অধিকার গ্রাহ্য করে। এই ঐতিহাসিক অবরোধের দিনটি জুলিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ছিল ২৩ ফেব্রুয়ারি। জুলিয়ান ক্যালেন্ডার রাশিয়ানরা মেনে চলত। কিন্তু সারা বিশ্বে গ্রেগোরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী দিবসটি ছিল ৮ মার্চ। সেই থেকে এই দিবসটি আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। তারপর ১৯৪৫ সালে জাতিসংঘ সনদ স্বাক্ষরিত হয়। সেটাই ছিল প্রথম কোন আন্তর্জাতিক চুক্তি যেটা জেন্ডার ইনিকুয়ালিটির বিরুদ্ধে করা হয়। জাতিসংঘ সংস্থা সেই থেকে আজ অবধি নানা কাজ করে আসছে নারীদের সামাজিক,অর্থনৈতিক, পারিবারিক নানা অধিকার রক্ষা করার জন্য। বাংলাদেশে নারীদের অবস্থা :বাংলাদেশে নারীদের উন্নয়নে যদিও অনেক দেশি বিদেশি সংস্থা কাজে নেমেছে অনেক আগে থেকেই। এই ব্যাপারে অনেক এনজিও কাজ করছে। কিন্তু সার্বজনীন উন্নতি এখনও হয়নি।এখনও আমরা একটা শক্ত সামাজিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে পারিনি।এখনও আমাদের সমাজে রাহেলা,ইয়াসমিনের মত মেয়েরা অহরহ ধর্ষিত হচ্ছে।কর্মক্ষেত্রে নারীরা নানা রকম বৈষম্যের মুখে পড়ছে।শারীরিক ভাবে দুর্বল বলে পরিবারে স্বামীর অকথ্য নির্যাতনও নারীরা মুখ বুজে সহ্য করে যায় নিজের সন্তানের মুখের দিকে চেয়ে।সব থেকে বড় সমস্যা গ্রামে।গ্রামের মেয়েরা সবচেয়ে বেশি অধিকার বঞ্চিত।ঘরে-বাইরে তারা নানা সমস্যার মুখোমুখি হন অহরহ। ইভ টিচিংয়ের শিকার হয়ে এখনও অনেক মেয়েরা লেখা পড়া করতে পারে না।মেয়েদের উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা পর্যন্ত অবৈতনিক করে দেওয়া হয়েছে। তবুও শিক্ষা অর্জনের ক্ষেত্রে সামাজিক নানা প্রতিবন্ধকতা, পুরনো ধ্যান ধারণা ক্রমশ তাদের মস্তিষ্কের কল্পনার বীজকে নষ্ট করে দিচ্ছে। সামাজিক কুসংস্কার, বাল্যবিয়ে, যৌতুক প্রথা,পারিবারিক নির্যাতন,এসিড নিক্ষেপের মত নির্মম সব ঘটনার শিকার হতে হয় নারীদের। বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ এখনও আমাদের দেশে আছে। এগুলোর উচ্ছেদ ও নারীদের সঠিক শিক্ষার ব্যবস্থা করা জরুরী। নারী নির্যাতন প্রতিরোধে দেশে অনেক আইন থাকরেও তার প্রকৃত ব্যবহার নিশ্চিত হয়নি আজও ।কোন দেশের অর্ধেক জনসংখ্যাকে পঙ্গু করে দিয়ে সামনে আগানো যায় না। বেগম রোকেয়া আমাদের নারী জাগরণের পথিকৃত। নবাব ফয়জুন্নেসার অবদানও অনস্বীকার্য। তবু তাদের আদর্শের কিছুই আমরা ধারণ করতে পারিনি। সেই আদর্শে উজ্জীবিত হবার দিন আবার এসেছে। আমাদের সংকল্প হোক সকল নারীর অধিকার সুনিশ্চিত করা। তাদের সুশিক্ষিত করা। একটা শিক্ষিত মা ই পারেন একটা শিক্ষিত জাতি দিতে। ০৮.০৩.২০১৫