ব্রাজিলে কাঁকড়াবিছা আতঙ্ক, প্রাণ হারাচ্ছে শিশুরা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪.কম
প্রকাশিত : ১১:৪৩ এএম, ১৬ জুলাই ২০১৮ সোমবার | আপডেট: ০৯:৪০ পিএম, ১৬ জুলাই ২০১৮ সোমবার
সাম্বা নৃত্যের দেশ হিসেবে ব্রাজিলের ব্যাপক পরিচিতি। ফুটবলের এই দেশে হঠাৎ করেই ব্যাপকহারে বেড়ে গেছে কাঁকড়াবিছার প্রকোপ। অবস্থা এতটাই ভয়ঙ্কর যে শহরাঞ্চলে কাঁকড়াবিছার দংশনে মৃত্যুর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। গত চার বছরে আগের চেয়ে মৃত্যু হয়েছে দ্বিগুণ সংখ্যক মানুষের। এর মধ্যে বেশিরভাগই শিশু।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বনাঞ্চল ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় শহরের পরিবেশে নিজেদের অভিযোজিত করে নিয়েছে সেখানকার কাঁকড়াবিছা। আর শহরের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থায় বিপুল পরিমাণ তেলাপোকা থাকায় তাদের খাদ্য সরবরাহেও কোনও সমস্যা হচ্ছে না। লোকালয়ে কাঁকড়াবিছার এমন বিস্তারে বাড়ছে তাদের দংশনে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা।
আরও ভয়ানক খবর হল কাঁকড়াবিছার দংশনে প্রাণ হারানোদের বেশিরভাগই শিশু। বিষক্রিয়ার চিকিৎসা দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত ওষুধ ব্রাজিলে সব শহরে নেই। যার কারণে একদিকে মৃত্যুভয় অন্যদিকে ওষুধের অপ্রতুলতা দুইয়ে মিলে গত চার বছরে ব্রাজিলে কাঁকড়াবিছার কামড়ে মৃত্যুর সংখ্যা দ্বিগুন হয়েছে।
এ ঘটনার শুরু ২০১৩ সাল থেকেই। ২০১৩ সালে ৭০ জনের মৃত্যু হলেও ২০১৭ সালে এসে তা ১৮৪ জনে উন্নীত হয়েছে। কাঁকড়াবিছার দংশনের শিকার হয়েছেন এমন ব্যক্তিদের সংখ্যা ২০০৭ সালে ছিল ৩৭ হাজার জন। ২০১৭ সালে এসে এ সংখ্যা এক লাখ ২৬ হাজার জনে উন্নীত হয়েছে।
গত সপ্তাহের ঘটনা। ব্রাজিলের সাও পাওলো শহরে চার বছরের একটি শিশু হঠাৎ করেই কাঁকড়াবিছার দংশনের শিকার হয়। তার নাম ইয়াসমিন ডি কাম্পোস। দংশনের শিকার হওয়ার পর তাকে ১০ কিলোমিটার দূরের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও সেখানে বিষের কোনও ওষুধ ছিলনা। দংশনের শিকার হওয়ার ৩ ঘণ্টা পরে অন্য একটি হাসপাতালে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। কাঁকড়াবিছার দংশনের শিকার ইয়াসমিন মৃত্যু কোলে ঢলে পড়ে। ওই ঘটনার পর ব্রাজিলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নড়েচড়ে বসে। বর্তমানে তারা বিষক্রিয়ার চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় ওষুধ হাসপাতালগুলোতে সরবরাহের জন্য উদ্যোগী হয়েছে।
ব্রাজিলে চার প্রজাতির বিপদজনক কাঁকড়াবিছার দেখা পাওয়া যায়। নগরায়নের প্রভাবে এখন শহরের নালা ও ময়লা ফেলার স্থানে এদের বাস গড়ে উঠেছে। প্রাদেশিক সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বুতানতান ইন্সটিটিউটের গবেষক ও কাঁকড়াবিছা বিশেষজ্ঞ রোজারিও বেরতানি জানিয়েছেন, বনাঞ্চল ধ্বংস করে শহর গড়ে তোলায় আবাসস্থল হারিয়েছে কাঁকড়াবিছারা। আর সেকারণেই শহরে গড়ে উঠছে তাদের নতুন স্বাধীন রাজ্য।
