সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেও নারী বৈষম্যের স্বীকার
প্রকাশিত : ০৯:৫৮ এএম, ১৯ এপ্রিল ২০১৫ রবিবার | আপডেট: ০৯:৫৯ এএম, ১৯ এপ্রিল ২০১৫ রবিবার
মাজেদুল হক তানভীর, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, উইমেননিউজ২৪.কম, ঢাকা : নারী অধিকার ও ক্ষমতায়ন নিয়ে হামেশাই পত্র-পত্রিকা, টেলিভিশনের টকশো, আলোচনা সভা সয়লাব থাকে। সুশীল সমাজের অনেক বুদ্ধিজীবী নারী অধিকার নিয়ে কথা বললেও বাস্তব চিত্র পুরো ভিন্ন। অভিযোগ উঠেছে, পুরুষ তান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীর প্রতি বৈষম্য যেন সময়ের বিবর্তনে বেড়েই চলছে। আগামী ২৮ এপ্রিল হতে যাওয়া সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নারী বৈষম্য দৃঢ়ভাবে প্রতিয়মান হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দেওয়া তথ্যমতে, তিন সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে মোট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্য ৪৮। এদের মধ্যে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন (ডিসিসি) উত্তরে ১৬ জন ও দক্ষিণে ২০ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রয়েছেন। আর চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১২ জন মেয়রপ্রার্থী। দুঃখজনক যে এ পদে কোন নারী প্রার্থীই নেই। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে ঢাকা উত্তরে দু’জন নারী প্রার্থী এগিয়ে এসেছিলেন। তাদের একজন হেলেনা জাহাঙ্গীর হেলেন। তাকে ঢাকার বিভিন্ন বিলবোর্ডে দেখা গেলেও পারিবারিক সমস্যার কারণ দেখিয়ে শেষ মুহূর্তে মনোনয়নপত্র দাখিল করেননি।
আরেকজন আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য সারাহ বেগম কবরী। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশকে সম্মান জানানোর অজুহাতে শেষ সময়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। তিন সিটি নির্বাচনে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৮৭৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদের মধ্যে নারী প্রার্থী রয়েছেন মাত্র ২১ জন। যার শতকরা হিসাব হচ্ছে ২ দশমিক ৩৯ শতাংশ। এরমধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৩৬টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থীর সংখ্যা ২৮০ জন। কিন্তু এরমধ্যে নারী প্রার্থী রয়েছেন ১২ জন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৫৭টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থী রয়েছেন ৩৮৬ জন। যাদের মধ্যে নারী প্রার্থীর সংখ্যা মাত্র ৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৪১টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদপ্রার্থীর সংখ্যা ২১২ জন। এখানে মাত্র ৩ জন নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ সিটি নির্বাচনেও নারী প্রার্থীর অংশগ্রহণ তেমন নেই।
কারণ হিসেবে অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো নারী প্রার্থীদের পৃষ্ঠপোষকতা করে না বলেই নির্বাচনের মত গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নারী প্রার্থী তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে। নারী ক্ষমতায়নের কথা বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে নারীর হাতে ক্ষমতা দিতে সকলের অনীহা । অন্যদিকে নির্বাচনে প্রতীকের ক্ষেত্রেও বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। নারীদের জন্য শুধু ঘরোয়া ব্যবহার্য সামগ্রী দিয়ে প্রতীক ধার্য করা হয়েছে। যেমন শীল পাটা, কেটলি বা আলমারি। তা নিয়ে সরাসরি নির্বাচন কমিশনারকে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন নারী প্রার্থী।
সিটি নির্বাচনের এ চিত্রকে হতাশাজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, নারী অংশগ্রহণ যখন সারাবিশ্বে বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, এমন সময় দেশের রাজধানী ও বাণিজ্যিক নগরীতে এ চিত্র হতাশাব্যঞ্জক। উল্লেখ্য, আগামী ২৮ এপ্রিল রাজধানী ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ এবং বন্দর নগরী চট্টগ্রামে একই দিনে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।সকালে ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে।
১৯.০৪.২০১৫ 