প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতে কষ্ট ভুলেছেন দু’বোন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪.কম
প্রকাশিত : ০১:৩৪ পিএম, ১৯ জুলাই ২০১৮ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০৬:৪৫ পিএম, ১৯ জুলাই ২০১৮ বৃহস্পতিবার
গত সোমবার পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুরে বিজেপির সভাচলাকালে দুর্ঘটনায় আহত দুই বোনকে হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রীতা মুদি ও অনিতা মুদি নামে ওই দুবোন কল্পনাও করতে পারেননি বিষয়টি। আর সেই সাক্ষাতই রাতারাতি সেলিব্রিটি বানিয়ে দিয়েছে দুই বোনকে৷ ওই দুই বোনের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী৷ আরোগ্য কামনা করে অটোগ্রাফও দিয়ে যান৷
আর এখন আঘাতের যন্ত্রণা ভুলে বাঁকুড়ার রানিবাঁধের ওই দুই বোন মহাখুশি৷ বলছেন, ভাগ্যিস আহত হয়ে হাসপাতালে ভরতি হয়েছিলাম৷ তাই তো কথা বলতে পারলাম প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে৷ অটোগ্রাফও পেলাম৷
সংবাদমাধ্যমের দৌলতে সোমবার দুপুর থেকেই সেই ছবি ভাইরাল৷ আর তা দেখে চমকে গিয়েছিলেন রানিবাঁধের মানুষ। রীতা-অনিতাদের স্কুল বাঁকুড়া সারদামনি মহিলা মহাবিদ্যালয়ের সহপাঠীরাও৷ তাই মঙ্গলবার হাসপাতাল থেকে ফিরে এলে সবাই ভিড় জমান রানিবাঁধের মুদি-বাড়িতে৷
বন্ধু থেকে আত্মীয় পরিজন, প্রতিবেশী, সকলেই একবার দেখতে চাইছেন নরেন্দ্র মোদীর অটোগ্রাফ৷ কেউ সেই অটোগ্রাফের ছবি তুলে নিয়ে যাচ্ছেন৷ কেউ আবার ওই অটোগ্রাফের সঙ্গে সেলফি তুলছেন৷
ফলে মঙ্গলবার সকাল থেকেই ভিড় কমছে না রানিবাঁধের মুদি-বাড়িতে৷ ফলে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে আসা দুই বোন বিশ্রাম নেওয়ার সময় পাচ্ছেন না ঠিকমতো৷ এদিন তাদের বাড়িতে এসেছিলেন বাঁকুড়ার বাসিন্দা বিজেপির রাজ্যনেতা সুভাষ সরকার৷ দুই বোনের স্বাস্থ্যের খবর নেন সুভাষবাবু৷ তার সঙ্গেও সেদিনের ঘটনা নিয়ে কথা বলেন তারা৷
তারা বললেন, ওই দুর্ঘটনার মুহূর্তটা বলে বোঝাতে পারব না। সামিয়ানা ভেঙে যাওয়ার ফলে মা আর পিসিকে নিয়ে আমরাও বেরিয়ে আসতে চাইছিলাম। কিন্তু মায়ের শাড়ি কোনও একটা বাঁশে আটকে যায়। মাকে নিয়ে আমরা ভিড়ের মধ্যে পড়ে গেলে অনেকেই প্রাণ বাঁচাতে আমাদের উপর দিয়ে দৌড়তে শুরু করে। পরে আমাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালে ভর্তির সময় দু’জনের জ্ঞান ছিল না৷ যখন জ্ঞান ফেরে, তখন তারা দেখেন সামনে দাঁড়িয়ে স্বয়ং নরেন্দ্র মোদী৷ রীতা-অনিতার কথায়, চোখ খুলে দেখি প্রধানমন্ত্রী আমাদের বেডের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। হিন্দিতে আমরা কেমন আছি জিজ্ঞাসা করলেন৷ মাথায় হাত বুলিয়ে সুস্থতাও কামনা করেন। এই মুহূর্তটা চিরস্মরণীয়।
রীতা বলেন, মোদীজির সভায় যাওয়ার আগে অনেক বন্ধুই ইয়ার্কি আর ঠাট্টা করে বলেছিল, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সেলফি তুলবি। অটোগ্রাফ নিবি। জানতাম এটা অসম্ভব। তাই প্রধানমন্ত্রীকে সামনে পেয়ে আহত অবস্থাতেও অটোগ্রাফ চাইতে ভোলেননি জঙ্গলমহলের এই কন্যা৷
