ঢাকা, সোমবার ১৩, জুলাই ২০২৬ ৫:২২:৩৪ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

বাংলাদেশে পড়ুয়া ছাত্রীদের নিয়ে মন্তব্য, নেপালি মন্ত্রীর পদত্যাগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

উইমেননিউজ২৪.কম

প্রকাশিত : ০২:২১ পিএম, ২৫ জুলাই ২০১৮ বুধবার | আপডেট: ০৮:৪৪ পিএম, ২৫ জুলাই ২০১৮ বুধবার

বাংলাদেশের মেডিকেল কলেজগুলোতে পড়তে আসা নেপালি নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করায় চাপের মুখে পদত্যাগ করেছেন নেপালের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী শের বাহাদুর তামাং।

 

নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাশফি বিনতে শামস গণমাধ্যমকে পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মন্ত্রীর মন্তব্যের জেরে কাঠমন্ডু এবং ঢাকা উভয় স্থানে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এতে ঢাকায় নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একইভাবে প্রতিবাদ জানায় ঢাকায় পড়তে আসা নেপালের ছাত্রীরা। 

 

নেপালি সংবাদমাধ্যম বলছে, প্রথমে পদত্যাগ করতে চান নি মন্ত্রী। কিন্তু পরে তার দল ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি অফ নেপালের পক্ষে তার উপর প্রচণ্ড চাপ তৈরি হলে শেষ পর্যন্ত তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

 

মঙ্গলবার কাঠমান্ডুতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন বলে কাঠমান্ডু পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।


নেপালের মন্ত্রী শের বাহাদুর তামাং গত শুক্রবার কাঠমান্ডুতে একটি অনুষ্ঠানে বলেন, ‘বাংলাদেশে এমবিবিএস কোর্সে পড়তে যাওয়া নেপালের ছাত্রীরা নিজেকে বিক্রি করে দিয়ে থাকেন। তারা নিজেকে বিক্রি করেই তাদের সার্টিফিকেট অর্জন করেন।’


ওই অনুষ্ঠানেই মন্ত্রী তামাং আরও বলেছিলেন, বাংলাদেশ থেকে ফিরে আসা কয়েকজন নারী শিক্ষার্থীর কাছ থেকে তিনি এধরনের অভিযোগের কথা শুনেছেন। তবে তিনি এও বলেছেন যে এসব অভিযোগের সত্যতা তিনি নিজে কখনো যাচাই করে দেখেন নি।


মন্ত্রী তামাং এর এই মন্তব্যের কারণে নেপালের সোশ্যাল মিডিয়াতে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই তার বিরুদ্ধে লিঙ্গ বৈষম্যের অভিযোগ তুলে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানায় সাধারণ মানুষ।


পরে অবশ্য রাজধানী কাঠমান্ডুতে এক সংবাদ সম্মেলনে তামাং স্বীকার করেন, নারীদের ব্যাপারে খুব স্পর্শকাতর বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেছিলেন। তার ওই মন্তব্যের ফলে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের কাছে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।


এ নিয়ে ঢাকা ও কাঠমান্ডুর নেপালি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। বাংলাদেশে পড়তে আসা দেশটির শিক্ষার্থীরা মন্ত্রীর বিরুদ্ধে মঙ্গলবার ঢাকার নেপাল দূতাবাসে স্মারকলিপিও দিয়েছেন।

 

নেপালি শিক্ষার্থীরা বলেন, কোন ধরনের তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই মন্ত্রী তাদের ব্যাপারে মানহানিকর বক্তব্য দিয়েছেন।”

 

ড. রোজি মানান্ধার বাংলাদেশ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি নিয়ে সম্প্রতি নেপালে ফিরে গেছেন। রোজি বলেন, মন্ত্রী কি কখনো বাংলাদেশে পড়তে যাওয়া নারী শিক্ষার্থীদের কাছে এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়েছিলেন? আমরা সেখানে কতো কষ্ট করে লেখাপড়া করি তার তিনি কিছুই জানেন না।

 

তিনি অারো বলেন, কোন ধরনের প্রমাণ ছাড়াই মন্ত্রী একথা বলেছেন। কঠোর পরিশ্রম করেই আমি আমার সার্টিফিকেট পেয়েছি।

 


সিলেটের একটি মেডিকেল কলেজে পঞ্চম বর্ষে পড়ুয়া শিক্ষার্থী সাব্বু পোখারেল বলেছেন, নেপাল থেকে বাংলাদেশে পড়তে যাওয়া নারী শিক্ষার্থীরা কোন ধরনের চাপের মধ্যে লেখাপড়া করে না। মন্ত্রীর একথা শোনার পর আমার বাবা মা আমাকে ফোন করে এখানকার অবস্থা জানতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এখানকার অবস্থা মোটেও সেরকম কিছু নয়। বাংলাদেশে আমরা খুব নিরাপদে আছি।



মেডিকেল বিষয়ে পড়তে প্রতিবছর নেপাল থেকে বাংলাদেশে অনেক শিক্ষার্থী আসেন। বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে প্রচুর নেপালি শিক্ষার্থী রয়েছেন।