ডিম-কাঁচা মরিচের দাম চড়া, অস্থিরতা মাছ বাজারেও
সালেহীন বাবু
উইমেননিউজ২৪.কম
প্রকাশিত : ০৩:৪৯ পিএম, ২৬ জুলাই ২০১৮ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ১১:৫৬ এএম, ২৯ জুলাই ২০১৮ রবিবার
রোজার ঈদের পর থেকে রাজধানীর বাজারে বাড়তে শুরু করে ডিমের দাম। দাম বাড়ছে প্রতি সপ্তাহেই। কোনো পণ্যেরই নিদির্ষ্ট কোনো মূল্য নেই। এমন অবস্থায় বাজার নিয়ন্ত্রণ বা পর্যবেক্ষণের কোনো বালাই নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।
ডিমের দাম এতো বাড়ার কারণ জানতে চাইলে বিক্রেতারা দাবি করছেন, এটিই ডিমের ন্যায্যমূল্য। তাদের মতে, আগে ডিমের যে দাম ছিল তা বিক্রি করে লোকসান দিয়েছেন । আবার কোনো কোনো খুচরা বিক্রেতার দাবি, খামারিরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।
এদিকে খুচরা পর্যায়ে মুদি দোকানে ডিমের দাম বেড়ে প্রতিপিস বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকায়। এ বিষয়ে রামপুরার ব্যবসায়ী মানিক বলেন, এখন আমাদের একপিস ডিম কিনতেই খরচ পড়ছে ৮ টাকা। সুতরাং ১০ টাকার নিচে একপিস ডিম বিক্রি করলে আমাদের লাভ কিছুই থাকেনা।
বৃৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ানবাজার, রামপুরা, মালিবাগ, হাজীপাড়া, খিলগাঁও, সেগুনবাগিচা ও শান্তিনগরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায় মরিচের দাম আগের মতই আগুন। সপ্তাহের শুরু থেকে ১৪০-১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া কাঁচামরিচের দাম একই রয়েছে। আর ২৫০ গ্রাম হিসাবে মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৪০-৪৫ টাকায়। মরিচের এমন দামের বিষয়ে খিলগাঁওয়ের ব্যবসায়ী মো. রাব্বী শেখ বলেন, বাজারে এখন মরিচের অভাব নেই। তবে দাম একটু বেশি। সহসাই দাম কমবেনা।
পটল, ঝিঙা, ধুন্দল, চিচিঙ্গা, বেগুন, কাকরুল, ধেড়স, মিষ্টি কুমড়া, পেপে, করলাসহ প্রায় সব সবজিই বাজারে ভরপুর। ফলে দামও তুলনামূলক সস্তা। এসব সবজি বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৩৫-৪০ টাকার মধ্যেই। তবে টমেটোর দাম ৭০-৮০ টাকা কেজি দরেই বিক্রি হচ্ছে। পেপে প্রতি কেজি ২০-২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গুলবাগের ব্যবসায়ী খায়রুল বলেন, এখন দেশের সব এলাকা থেকেই প্রচুর সবজি আসছে। তাই দামও সবার হাতের নাগালে।
এদিকে পেঁয়াজের দামও অপরিবর্তিত রয়েছে। দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫-৫০ টাকা কেজি। আর আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ৩০-৩৫ টাকায়।
মাছের বাজারে এখনো কোনো সুবাতাস নেই রাজধানীবাসীর জন্য। চাষের কিংবা নদীর - যে কোনো মাছ কিনতে গেলেই ক্রেতার বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে রুই ও কাতলা প্রতি কেজি ২৫০-৩০০ টাকা, বড় আকারের চিংড়ি প্রতি কেজি এক হাজার, মাঝারি ৭০০ টাকা ও ছোট আকারের চিংড়ি ৫০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। তেলাপিয়া প্রতি কেজি ১৪০-১৫০ টাকা, কই ১৪৫-১৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। সিলভার কার্প ১০০-১৩০ টাকা কেজি, পাবদা ৪৫০-৫০০ টাকা, পাঙ্গাশ ১১০-১৩০ টাকা, নলা ১২৫-১৩৫ টাকা ও সরপুঁটি ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
গরু ও খাসির মাংসের দাম আছে অপরিবর্তিত। ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৫৫ -১৬০ টাকায়। গরুর মাংস ৪৭০-৫০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
মোটা চালের মধ্যে স্বর্ণা বিক্রি হচ্ছে ৪৮ টাকা কেজি। মিনিকেট ও নাজিরশাইল বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৬০-৬৫ টাকায়। এছাড়া বিআর-২৮ বিক্রি হচ্ছে ৪৮-৫০ টাকা কেজি দরে।
