রাজধানীতে জুলাইয়ে ডেঙ্গু রোগী দ্বিগুণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪.কম
প্রকাশিত : ১১:৫৫ এএম, ২৭ জুলাই ২০১৮ শুক্রবার | আপডেট: ০১:০৭ পিএম, ২৮ জুলাই ২০১৮ শনিবার
রাজধানীতে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। জুন মাসে আক্রান্তের সংখ্যা ২৬৭ জন থাকলেও চলতি মাসের প্রথম ২৫ দিনে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাড়িয়েছে ৫৯০ জনে।
চলতি বছর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মোট ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে জানুয়ারি মাসে একজন ও গত দুই মাসে তিনজন করে মোট ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ২২ জন ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৫৭ জন।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের ন্যাশনাল হেলথ ক্রাইসিস ম্যানেজেমেন্ট সেন্টার ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত মোট ৯৫৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। তাদের মধ্যে মোট সাতজন মারা গেছেন।
এ বছরের পরিসংখ্যানে অনুযায়ী জানুয়ারিতে ২৬ জন, ফেব্রুয়ারীতে ৭ জন, মার্চে ৫ জন, এপ্রিল ১৪, মে মাসে ৩৫, জুনে ২৬৭ ও জুলাই ২৫ পর্যন্ত ৫৯০ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।
এদিকে, আইইডিসিআর ঢাকা শহরের সব হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সব হাসপাতালের বহির্বিভাগ ও অন্তঃবিভাগকে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগের দৈনিক প্রতিবেদন পাঠানোর জন্য নির্দেশনা দিয়েছে। ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগের কারণ, লক্ষণ ও প্রতিরোধ সংক্রান্ত বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক লিফলেট তৈরি ও বিতরণ করা হয়েছে।
দিনকে দিন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় নগরবাসী এখন এ রোগ নিয়ে এক ধরনের আতঙ্কে ভুগছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তি ও পারিবারিক জনসচেতনতার বিকল্প নেই। বর্তমানে রাজধানীসহ সারাদেশে থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে বাসাবাড়ির আঙিনাতে ফুলের টব, টায়ার, ফ্রিজ ও এসিতে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে ডেঙ্গুবাহী এডিস মশা লার্ভা ছাড়ছে। ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে যেসব জায়গায় মশা জন্ম নেয়, ওইসব জায়গা পরিষ্কারে নগরের প্রত্যেক নাগরিককে সচেতন হতে হবে। নিজ বাড়ির আঙিনা ও চারপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। মশার ওষুধ ছিটানোর পাশাপাশি ঘুমানোর সময় প্রয়োজনে মশারি টানাতে হবে বলে তারা মন্তব্য করেন তারা। ডেঙ্গু আতঙ্ক হিসেবে না নিয়ে সার্বিকভাবে সাহসিকতার সাথে মোকাবেলা করাই এখন রাজধানীবাসীর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়িয়েছে।
