আজ রাতে শতাব্দীর দীর্ঘতম পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪.কম
প্রকাশিত : ০৯:০৬ পিএম, ২৭ জুলাই ২০১৮ শুক্রবার | আপডেট: ১১:৪৪ এএম, ২৮ জুলাই ২০১৮ শনিবার
ভরা পূর্ণিমায় ‘আত্মজা’ চাঁদকে শতাব্দীর দীর্ঘমেয়াদি অন্ধকারে ঢেকে দেবে পৃথিবী! আজ শুক্রবার রাতে শতাব্দীর দীর্ঘতম পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ হবে। আর লাল জোছনা ছড়াবে চাঁদ। এই শতাব্দীতে (২০০১ থেকে ২১০০ সাল) এমন মহাজাগতিক ঘটনা আর ঘটবে না। এতটা সময় ধরে আর চাঁদের মুখ ঢাকা পড়ে থাকবে না ঘুটঘুটে অন্ধকারে।
আজ রাতে টানা প্রায় ৪ ঘণ্টা ধরে হবে চন্দ্রগ্রহণ। প্রায় পৌনে দু’ঘণ্টা (অঙ্কের সঠিক হিসেবে, ১ ঘণ্টা ৪৩ মিনিট) ধরে চাঁদ পুরোপুরি ঢেকে যাবে পৃথিবীর ছায়ায়। আর তার আগে ও পরে দু’-দু’বার হবে আংশিক চন্দ্রগ্রহণ। দু’টি আংশিক চন্দ্রগ্রহণই হবে ১ ঘণ্টা ৬ মিনিট ধরে।
যার মানে, পূর্ণ আর আগে-পরের দু’-দু’টি আংশিক চন্দ্রগ্রহণ মিলে মোট ৩ ঘণ্টা ৫৪ মিনিট (১ ঘণ্টা ৪৩ মিনিট + ১ ঘণ্টা ৬ মিনিট + ১ ঘণ্টা ৬ মিনিট) আলো-আঁধারিতে ঢাকা থাকবে চাঁদ।
আকাশ পরিষ্কার থাকলে বাংলাদেশে মানুষ দেখতে পারবেন আজ, শুক্রবার রাত থেকে কাল, শনিবার ভোর পর্যন্ত এই শতাব্দীর (২০০১ থেকে ২১০০ সাল) দীর্ঘতম পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। দেখতে পারবেন গত প্রায় ৬০ হাজার বছরের মধ্যে দ্বিতীয় বার পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে আসা ‘লাল গ্রহ’ মঙ্গলকে রাতের আকাশে অনেক বেশি উজ্জ্বল হয়ে উঠতে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর, জলবায়ু মহাশাখা প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী আজ শুক্রবার রাত ১১টা ১৩ মিনিট ০৬ সেকেন্ড গ্রহণটি শুরু হবে। রাত ২টা ২১ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডে কেন্দ্রীয় গ্রহণ ঘটবে। আকাশ মেঘমুক্ত থাকলে বাংলাদেশে গ্রহণটি পুরোপুরি দেখা যাবে।
নাসা’র বরাত দিয়ে ইয়াহু নিউজ জানায়, শুধু গ্রহণ হওয়াই নয়, চাঁদ সূর্যের আলো বিকিরণ করে লাল হয়ে যাবে। অর্থাত্ ব্লাড মুনও দেখা যাবে একইসঙ্গে। পৃথিবীর সব জায়গা থেকে এই চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে না। উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার মানুষ এই গ্রহণ দেখতে পাবেন না। আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য, ভারত, বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপের কিছু দেশ থেকে দেখা যাবে। এর আগে এত বেশিক্ষণ ধরে চন্দ্রগ্রহণ এই শতাব্দীতে কোনও দিন হয়নি। এর আগের দীর্ঘ চন্দ্রগ্রহণ হয় ২০১১ সালের ১৫ জুন। সেটা ১০০ মিনিট স্থায়ী হয়েছিল।
আবহাওয়া অধিদফতর বলছে, টানা প্রায় ৪ ঘণ্টা ধরে হবে চন্দ্রগ্রহণ। প্রায় পৌনে দু’ঘণ্টা (অঙ্কের সঠিক হিসেবে, ১ ঘণ্টা ৪৩ মিনিট) ধরে চাঁদ পুরোপুরি ঢেকে যাবে পৃথিবীর ছায়ায়। আর তার আগে ও পরে দু’-দু’বার হবে আংশিক চন্দ্রগ্রহণ। দু’টি আংশিক চন্দ্রগ্রহণই হবে ১ ঘণ্টা ৬ মিনিট ধরে। যার মানে, পূর্ণ আর আগে-পরের দু’-দু’টি আংশিক চন্দ্রগ্রহণ মিলে মোট ৩ ঘণ্টা ৫৪ মিনিট (১ ঘণ্টা ৪৩ মিনিট + ১ ঘণ্টা ৬ মিনিট + ১ ঘণ্টা ৬ মিনিট) আলো-আঁধারিতে ঢাকা থাকবে চাঁদ।
প্রতিবেশী ‘লাল গ্রহ’ মঙ্গলও পৃথিবীর খুব কাছে এসে পড়বে আজ শুক্রবার রাতে। কারণ, কক্ষপথে ঘুরতে ঘুরতে ওই দিনই পৃথিবীকে মাঝখানে রেখে সূর্যের ঠিক উল্টো দিকে চলে যাবে মঙ্গল। আর ১০০ বছরের মধ্যে যেখানে ‘উপনিবেশ’ বানানোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে মানবসভ্যতার।
ফলে, ২৭ জুলাই সন্ধ্যা থেকে ২৮ জুলাই (শনিবার) ভোর পর্যন্ত মঙ্গলকে জ্বলজ্বল করতে দেখা যাবে আকাশে। গ্রহণের রাতে চাঁদ পুরোপুরি পৃথিবীর ছায়ায় ঢাকা পড়লে মঙ্গলকে আরও ভালভাবে নজরে পড়বে।
যদিও ‘লাল গ্রহ’ পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে আসবে ৩১ জুলাই, আগামী মঙ্গলবার। সে-দিন পৃথিবী থেকে মঙ্গলের দূরত্ব হবে প্রায় পাঁচ কোটি ৭৬ লক্ষ কিলোমিটার।
এর আগে, ২০০০ সালের ১৬ জুলাই এক ঘণ্টা ৪৬ মিনিট ধরে চলেছিল পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। তার ১১ বছর পর, ২০১১ সালের ১৫ জুন পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ হয়েছিল এক ঘণ্টা ৪০ মিনিট ধরে। এবার সব ‘রেকর্ড’ ভেঙে চন্দ্রগ্রহণ হবে ৩ ঘণ্টা ৫৪ মিনিটের।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, মঙ্গল উপবৃত্তাকার কক্ষপথে প্রদক্ষিণ করে সূর্যকে। তার ফলে, মঙ্গল তার কক্ষপথে একবার সূর্যের নিকটতম বিন্দুতে (পেরিহিলিয়ন) থাকে। আর এক বার থাকে দূরতম (অ্যাপিহিলিয়ন) বিন্দুতে। মঙ্গল তার কক্ষপথে পেরিহিলিয়ন বিন্দুতে থাকার কাছাকাছি সময় যদি প্রতিযোগ হয়, তা হলে মঙ্গল আরও কাছে চলে আসে পৃথিবীর। এটাকেই বলে, ‘ফেভারেব্ল অপোজিশন বা সুবর্ণ প্রতিযোগ’। আজ এই সুবর্ণ প্রতিযোগই হবে মঙ্গলের। তার ফলে, ‘লাল গ্রহ’কে আরও উজ্জ্বল দেখাবে রাতের আকাশে।
তাদের মতে, ‘‘মঙ্গল তার কক্ষপথে পেরিহিলিয়ন বিন্দুতে থাকবে ১৬ সেপ্টেম্বর। মঙ্গলের এই সুবর্ণ প্রতিযোগ হয় প্রতি ১৫ বা ১৭ বছর অন্তর। পরবর্তী সুবর্ণ প্রতিযোগ হবে ১৭ বছর পর। ২০৩৫-এর ১১ সেপ্টেম্বর। তখন মঙ্গল ও পৃথিবীর দূরত্ব কমে হবে প্রায় ৫ কোটি ৬৯ লক্ষ কিলোমিটার।’’
