আজ থেকে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ শুরু
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪.কম
প্রকাশিত : ০৩:৫৯ পিএম, ১ আগস্ট ২০১৮ বুধবার | আপডেট: ০৪:১৩ পিএম, ১ আগস্ট ২০১৮ বুধবার
সারা বিশ্বের মত বাংলাদেশেও বুধবার ১ আগস্ট থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ ২০১৮ পালিত হচ্ছে। এ বছরের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে: ‘মায়ের দুধ পান, সুস্থ জীবনের বুনিয়াদ’। মাতৃদুগ্ধপান শিশুদের প্রাথমিক শারীরিক বৃদ্ধি,বুদ্ধিমত্তাসহ শিশুর সুস্থ জীবনের বুনিয়াদ গড়ে দেয়।
সপ্তাহটি উদযাপন উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।
বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, শিশুর পুষ্টি এবং শারীরিক বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় সকল খাদ্য উপাদান মায়ের দুধে বিদ্যমান। পূর্ণ ৬ মাস বয়স পর্যন্ত মায়ের দুধ শিশুর পরিপূর্ণ শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করে। জন্মের ১ ঘণ্টার মধ্যে শিশুকে মায়ের দুধ দিলে ৩১ শতাংশ নবজাতকের মৃত্যু রোধ, ১৩ শতাংশ শিশুমৃত্যু এবং ৬ মাস বয়সের পর মায়ের দুধের পাশাপাশি ঘরে তৈরি বাড়তি খাবার খাওয়ানোর মাধ্যমে ৬ শতাংশ শিশুমৃত্যু কমানো সম্ভব। সমাজ ও রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন ও সুস্থ সবল জাতি গঠনে মায়ের দুধের উপকারিতা সম্পর্কে জনসাধারণকে অবহিত করার পাশাপাশি সন্তানকে স্তন্যদানে মায়েদের উৎসাহিত করা প্রয়োজন বলে রাষ্ট্রপতি মনে করেন।
রাষ্ট্রপতি আরো বলেন, বিকল্প শিশুখাদ্যের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে কর্মজীবী মায়েদের সন্তানকে স্তন্যদানে উৎসাহিত করার পাশাপাশি কর্মস্থল ও গণপরিবহণে মায়েদের জন্য স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। তিনি কর্মজীবী মায়েদের মাতৃত্বকালীন সুরক্ষা বিধানে সকল সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণীতে বলেন, সরকার মাতৃত্বকালীন ছুটি বেতনসহ ৬ মাসে উন্নীত করেছে। সরকারি ও বেসরকারি অফিসে ব্রেস্টফিডিং কর্নার স্থাপন করা হয়েছে। কর্মজীবী ল্যাকটেটিং মাদার সহায়তা তহবিল থেকে কর্মজীবী মায়েদের ভাতা দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ ব্রেস্টফিডিং ফাউন্ডেশনকে আরো শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ সকল কর্মসূচি বাস্তবায়নের ফলে ওয়ার্ল্ড ব্রেস্টফিডিং ট্রেন্ডস ইনিশিয়েটিভ (ডব্লিউবিটিআই) ২০১৫ এর প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশ ১৫২টি দেশের মধ্যে তৃতীয় স্থান এবং ইন্টারন্যাশনাল বেবি ফুড অ্যাকশন নেটওয়ার্ক (আইবিএফএএন) ২০১৮ এর রিপোর্ট ‘স্টেট অব দি কোড বাই কান্ট্রি’ অনুযায়ী আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত হয়েছে।
সপ্তাহটি উদযাপন উপলক্ষ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, কমিউনিটি ক্লিনিক, পাবলিক হেলথ অ্যান্ড নিউট্রিশন ইনস্টিটিউট এবং বাংলাদেশ ব্রেস্টফিডিং ফাউন্ডেশন বিস্তারিত কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। সংবাদপত্র, রেডিও ও টেলিভিশনসমূহ সপ্তাহটির তাৎপর্য তুলে ধরে বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশ ও অনুষ্ঠান প্রচার করছে।
