কারাগার ছিল আমার জ্ঞানের পাঠশালা : তামিমি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪.কম
প্রকাশিত : ১২:৩১ পিএম, ২ আগস্ট ২০১৮ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০২:৩৪ পিএম, ২ আগস্ট ২০১৮ বৃহস্পতিবার
ইসরাইলী সেনার আক্রমণের শিকার তামিমি
আটমাস কারাগারে আটক ছিলেন ফিলিস্তিনি প্রতিবাদী কিশোরী আহেদ তামিমি। কারাগারে থেকেও দমে যাননি একফোঁটাও। সেখানে থেকেই তামিমি জায়গাটিকে জ্ঞানের পাঠশালা বানিয়ে ফেলেছিলেন।
তামিমি জানায়, কারাগারটিকে আমি রীতিমত স্কুল বানিয়ে ফেলেছিলাম। আটমাস কারাগারে আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে পড়াশোনা করেছেন বলেও জানায় এ কিশোরী।
আন্তর্জাতিক আদালতে একদিন ইসরাইলের বিরুদ্ধে মামলা লড়বে বলেও স্বপ্ন দেখছে ১৭ বছর বয়সী এই সাহসী কিশোরী।
কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার একদিন পর ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ানকে সে জানায়, আল্লাহর ইচ্ছায় আমি আইন নিয়ে পড়াশোনা করব। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ঘটে চলা সহিংসতা তুলে ধরব।
কারাগারে অন্যান্য নারীদের সঙ্গে মিলে আমি আইনের বিভিন্ন পরিভাষা মুখস্ত করতাম বলে জানায় সে। আহেদ তামিমির ভাষ্য, তারা আমার সত্যকে ভয় পাচ্ছে। যদি তারা অন্যায় না করত, তবে সত্যকে ভয় পেত না। সত্য তাদের মধ্যে ত্রাস সৃষ্টি করে। বিশ্বকে আমি এটা জানাতে চাই।
তামিমি বলেন, কারাগারে যাওয়ার পর আমার জীবনে অবশ্যই পরিবর্তন এসেছে। আমি অনেক বেশি চিন্তাশীল হয়েছি, আরো সচেতন হয়েছি। তবে কারাগার আমার বয়স অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে, কারাগারের একটি দিন জীবনে যেন ১০০ বছর বয়স বাড়িয়ে দেয়।
কারাগারে যেতে হবে এমন কথা জানলে তিনি ইসরাইলি সেনাদেরকে থাপ্পড় মারতেন কিনা -এমন এক প্রশ্নের জবাবে তামিমি বলেন, আমি কোনো ভুল কিছু করি নি।
যদি আমি জানতাম যে, আমাকে থাপ্পড় মারার জন্য কারাগারে যেতে হবে তাহলেও আমি এ কাজ করতাম কারণ এটা স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। একজন সেনা আমার বাড়ির লোকজনকে গুলি করবে, আমার গ্রামের লোকজনকে হত্যা করবে আর কোনো প্রতিবাদ হবে না তা হতে পারে না।
গত ডিসেম্বর মাসে ইসরাইলি সেনাদের মুখে থাপ্পড় মেরে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেছিলেন ১৭ বছর বয়সী এ তরুণী এবং ফিলিস্তিনিদের অনেকের কাছেই তিনি এখন মুক্তি সংগ্রামের প্রতীক হয়ে গেছেন।
তার বিরুদ্ধে সেনাদের ওপর হামলা, উসকানি দেয়া এবং ইসরাইলি সেনাদের কাজে বাধা দেয়াসহ ১২টি অভিযোগ আনা হয়। ২৯ জুলাই তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন।
সূত্র : এএফপি, গার্ডিয়ান
