পরিবহন নৈরাজ্য বন্ধে আজও রাজপথে শিক্ষার্থীরা
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪.কম
প্রকাশিত : ০৩:৩৭ পিএম, ৪ আগস্ট ২০১৮ শনিবার | আপডেট: ১০:০৮ পিএম, ৪ আগস্ট ২০১৮ শনিবার
পরিবহন নৈরাজ্য বন্ধ ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে আজ শনিবার আবারো রাস্তায় নেমেছে শিক্ষার্থীরা। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তারা বিভিন্ন গাড়ির কাগজ ও চালকের লাইসেন্স আছে কিনা পরীক্ষা করে দেখছে। এ ছাড়া রাস্তায় নেমে তারা নিজেরাই লেন করে যানবাহনের চালকদের সুশৃঙ্খলভাবে গাড়ি চলাচলের অনুরোধ জানাচ্ছে।
শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান, ব্যানার, প্লাকার্ডে তুলে ধরে প্রতিবাদের ভাষায় রাজপথে মুখরিত করে রেখেছে । আজ সকাল থেকেই শিক্ষার্থীরা রাজধানীর শান্তিনগর মোড়, ঝিগাতলা মোড়, নিউমার্কেট, আজিমপুর মোড়, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, মালিবাগ, আসাদগেট মোড়, মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরে অবস্থান নিয়েছে। তাদের দাবি একটাই। বন্ধ হোক এই পরিবহন নৈরাজ্য। শুধু আশ্বাস নয়, দ্রুতই উদ্যোগের সঠিক বাস্তবায়ন চায় তারা।
এদিকে আজও পরিবহন ধর্মঘট চলছে। শিক্ষার্থীদের যানবাহন ভাঙচুরের প্রতিবাদে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে বলে জানিয়েছে বাস মালিক সমিতি। সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে গণপরিবহন সঙ্কট দেখা গেছে। তবে কয়েকটি পয়েন্টে বিআরটিসির বাস চললেও সেগুলোতে একরকম যুদ্ধ করেই উঠছে রাজধানীবাসী। আর এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। সকাল সোয়া ৯টা পর্যন্ত মিরপুর রোড, রোকেয়া সরণি, সাতমসজিদ রোড, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, মানিক মিয়া এভিনিউ, প্রগতি সরণি, এলিফ্যান্ট রোডে কোনো গণপরিবহন দেখা যায়নি। এ ছাড়া দোলাইরপাড়, যাত্রাবাড়ি, গুলিস্তান, কাকরাইল, বনানী, মহাখালী, ফার্মগেট, শাহবাগ, মতিঝিল ও পল্টন এলাকায় অফিস সময়ে অন্যান্য দিন যেখানে যানজট লেগে থাকে। সেখানে কোনো গণপরিবহন চোখে পড়েনি।
গণপরিবহনের সঙ্কটের সুযোগে ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে পাঠাও, উবার, সিএনজি ও রিকশার চালকরা। ফলে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ভাড়াভিত্তিক বাইকার ও রিকশাচালকরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে বলে সাধারণ যাত্রীরা অভিযোগ করছে। মমতাজ বেগম থাকেন নিকেতন। যাবেন ধানমন্ডির। বলেন,সিএনজি ভাড়া করলাম। ৩০০ টাকা চাচ্ছে। দেশটা যেন মগের মুল্লুক হয়ে গেছে। অন্য কোন গাড়িও পাচ্ছিনা। তাই এটাতেই যেতে হবে।
রাজধানীতে যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে মোতায়েন রয়েছে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য।
নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনকারীদের দাবির যৌক্তিকতা মেনে নেয়ার পরও এই আন্দোলন অব্যাহত থাকায় এর উদ্দেশ্য নিয়ে সরকারের মধ্যে `সন্দেহ তৈরি হচ্ছে` - বলছেন বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম দাবি করেছেন, সরকার যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুততার সাথে দাবিগুলোর ব্যাপারে ব্যবস্থা নিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলেছেন, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে বিষয়টি দেখা হচ্ছে এবং সে ব্যাপারে সবার আস্থা রাখা উচিত। তার ভাষায়, `সরকারের কথায় যদি কেউ আশ্বস্ত না হয়, সর্বোচ্চ মহলের কথায় যদি কেউ আশ্বস্ত না হয়, তাহলে কী করা যাবে? এটা কি লিখিত মুচলেকা দিতে হবে? সরকার কি তাই দেয় কখনও? আমাদের কথা তো বিশ্বাস করতে হবে, আস্থা রাখতে হবে।`তিনি আরও বলেছেন, `যদি সরকারের আচরণ লক্ষ্য করেন, কতগুলো বিষয় আছে যেগুলো চট করে করা যায় না। কিন্তু এই ক্ষেত্রে খুব ক্ষিপ্রতার সঙ্গে দ্রুততম সময়ে কতগুলো কাজ করা যাবে।`
পরিস্থিতি নিয়ে সড়ক পরিবহন এবং সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের শুক্রবার দলীয় এক অনুষ্ঠানে বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনের নামে বিএনপি ও সাম্প্রদায়িক শক্তি ব্যর্থ হয়ে এখন শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনকে উসকে দিতে চাইছে। এদিকে বিরোধীদল বিএনপিও এই আন্দোলনকে সমর্থন দিয়ে বলছে, সরকারের ব্যর্থতার কারণে এ ধরণের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছে।
এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাসচাপায় নিহত দুই শিক্ষার্থী দিয়া খানম মীম ও আবদুল করিমের পরিবারকে ২০ লাখ টাকা করে অনুদান দেন। রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে পাঁচটি বাসও দেওয়া হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা সিএমএইচের বিপরীতে কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে বাস পাঁচটি হস্তান্তর করা হয়।
