আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস আজ
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪.কম
প্রকাশিত : ০১:০২ পিএম, ৯ আগস্ট ২০১৮ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ১০:৫৩ পিএম, ৯ আগস্ট ২০১৮ বৃহস্পতিবার
আজ বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস। প্রতি বছর ৯ আগস্ট পালিত হয় দিবসটি। আদিবাসীদের অধিকার, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে সুরক্ষা প্রদানের স্বার্থে দিবসটি পালন করার জন্য তাগিদ দেয় জাতিসংঘ।
সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও আজ উদযাপিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস। এ বছর দিবসের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে ইনডিজেনাস পিপলস, মাইগ্রেসন এন্ড মুভমেন্ট। এই মূল সুরের সাথে সঙ্গতি রেখে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম দিবসের প্রতিপাদ্য করেছে আদিবাসী জাতিসমূহের দেশান্তর, প্রতিরোধের সংগ্রাম।
এ উপলক্ষে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম ও অন্যান্য সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে আজ সকাল ১০টায় বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের আয়োজনে দিবসের মূল অনুষ্ঠান, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সমাবেশ, শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। দিবসের উদ্বোধন ঘোষণা করবেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।
এ ছাড়া মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের আয়োজনে বাংলা একাডেমিতে হবে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনী। অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্ট নাগরিকরা উপস্থিত থেকে সংহতি জানাবেন।
১৯৯৪ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দিবসটি পালন করে আসছে বিশ্বের প্রায় ৩০ কোটি আদিবাসী। ১৯৯২ সালে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের উন্নয়ন ও সংরক্ষণ উপকমিশনের কর্মকর্তারা তাদের প্রথম সভায় আদিবাসী দিবস পালনের জন্য ৯ আগস্টকে বেছে নেয়। ১৯৯৪ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রতিবছর ৯ আগস্টকে বিশ্ব আদিবাসী দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। আদিবাসী জনগণের মানবাধিকার, পরিবেশ উন্নয়ন, শিক্ষা ও সংস্কৃতিসম্পর্কিত বিভিন্ন সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সুদৃঢ় করা ও গণসচেতনতা সৃষ্টি করাই বিশ্ব আদিবাসী দিবস পালনের মূল উদ্দেশ্য।
জাতিসংঘের তথ্যমতে, বিশ্বের ৭০টি দেশে ৩০ কোটি আদিবাসী বাস করে, যাদের অধিকাংশই অধিকারবঞ্চিত। অনেক দেশে আদিবাসীরা স্বীকৃতিই পায়নি। কোনো দেশে উপজাতি, কোনো দেশে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বলে অভিহিত করা হয় তাদের।
এতদিন যারা বাংলাদেশে আদিবাসী ছিলেন রাষ্ট্রীয় আইনে তারা এখন ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’। পাহাড় ও সমতল মিলিয়ে এরা বসবাস করছে।
নানা দিক থেকেই দেশের মূল জনগোষ্ঠী থেকে পিছিয়ে পড়া এসব ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর পাশে দাড়াতে হবে। সব নৃ-গোষ্ঠীর সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করে তাদেরকেও এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। তবেই দেশের সার্বজনীন উন্নয়ন সম্ভব হবে।
