ভয়াল রূপ কেরালার বন্যার, নারী-শিশুসহ মৃত তিন শতাধিক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪.কম
প্রকাশিত : ০৮:০৬ পিএম, ১৭ আগস্ট ২০১৮ শুক্রবার | আপডেট: ১২:৪৬ পিএম, ১৮ আগস্ট ২০১৮ শনিবার
যে দিকেই চোখ যাচ্ছে শুধু পানি আর পানি। তার মধ্যে থেকেই কোথাও মাথা উঁচু করে রয়েছে কিছু বাড়ি আর গাছপালা। বন্যাবিধ্বস্ত ভারতের কেরালার ছবিটা এখন এরকমই।
গত এক সপ্তাহ ধরে প্রবল বৃষ্টিতে রাজ্যের বেশির ভাগ অংশই প্রায় পানির তলায় চলে গেছে। প্রতি দিন বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। এখনও পর্যন্ত ৩২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রীর অফিস থেকে জানানো হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করছে প্রশাসন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী কয়েক দিন এ ভাবে বৃষ্টি চলতে থাকলে পরিস্থিতি আরও সঙ্কটময় হয়ে উঠবে। কেরলার এই বন্যা ১৯২৪-এর ভয়াল স্মৃতিকে উস্কে দিয়েছে রাজ্যবাসীর মনে। সে বছর রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছিল। টানা তিন সপ্তাহ ধরে বৃষ্টি চলে। মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল ৩,৩৬৮ মিলিমিটার।
কেরলের বন্যা পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে শুক্রবার রাজ্য সফর করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছেন আবহবিদরা। রাজ্যের ১৪টি জেলার মধ্যে ১৩টিতেই চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করেছে রাজ্য প্রশাসন। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা ইদুকি জেলার। তবে পরিস্থিতি আগের থেকে কিছুটা উন্নত হয়েছে আলাপুঝা, এর্নাকুলাম, ত্রিশূর এবং পথনমথিত্তায়। জল কিছুটা নেমেছে এ সব জায়গায়। ত্রিশূর ও চালাকুড়ি শহরের বেশির ভাগটাই জলের তলায় চলে গিয়েছে। যে সব জায়গায় ত্রাণ শিবির তৈরি করা হয়েছে, নতুন করে বৃষ্টি হওয়ায় সেখানেও জল ঢুকতে শুরু করেছে।
উদ্ধারকাজের জন্য দুশোরও বেশি নৌকা নামিয়েছে সেনা। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ) এবং উপকূলরক্ষী বাহিনীর জওয়ানরা দিনরাত এক করে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন। এই মুহূর্তে কেরালার এনডিআরএফ-এর ৫১টি দল কাজ করছে। যে সব এলাকা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে সেখানে উদ্ধারকাজ চালানোর জন্য উপকূলরক্ষী বাহিনীর আরও চারটি বিমান নামানো হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এখনও প্রায় এক লাখ মানুষ জলবন্দি হয়ে রয়েছেন। তাদের যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সেখান থেকে উদ্ধার করার চেষ্টা চালাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। তিরুঅনন্তপুরম-কোট্টায়ম-এর্নাকুলাম এবং এর্নাকুলাম-শোরানুর-পালাক্কড় রেলওয়ে সেকশনের বেশির ভাগ জায়গায় ট্র্যাক পানির তলায় চলে গেছে।
