আজ পবিত্র হজ, লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখরিত অারাফাত
অনলাইন ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪.কম
প্রকাশিত : ০৫:১৯ পিএম, ২০ আগস্ট ২০১৮ সোমবার | আপডেট: ১২:০৬ এএম, ২১ আগস্ট ২০১৮ মঙ্গলবার
আজ পবিত্র হজ। ইয়াওমুল আরাফা। লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইক লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নিয়মাতা লাকা ওয়াল মুলক। লা শারিকা লাক্.. প্রতিধ্বনিতে পবিত্র আরাফাতের পাহাড় ঘেরা ময়দান ছাপিয়ে আকাশ-বাতাস মুখর ও প্রকম্পিত এখন।
পবিত্র হজ পালনে আরাফাত ময়দানে জড় হয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ২০ লাখেরও বেশি মুসলমান। বাংলাদেশ থেকে হজ পালনে এবছর প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজারের অধিক মুসল্লি সৌদি আরবে গিয়েছেন। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ১৫ তারিখ মধ্যরাত পর্যন্ত বাংলাদেশ বিমানে হজে গিয়েছেন ৬২৮১০ জন। সৌদি এয়ারলাইনসে ৬১৭৭৮ জন হাজি হজ করতে গিয়েছেন। অবশিষ্ট ১৫৯৫ জন হাজির মধ্যে বেশিরভাগই ১৬ ও ১৭ তারিখে হজে গিয়েছেন। এবারের হজে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী বাংলাদেশ থেকে হজ পালন করার জন সৌদি গিয়েছেন।
মুঠোফোনে কথা হয় সৌদিতে হজ করতে যাওয়া সরকারি অবসরপ্রাপ্ত পশুসম্পদ বিভাগের পরিচালক ডা: রেজাউল করিম মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, গতকাল মক্কায় সন্ধ্যার আগে হঠাৎ প্রবল ধূলিঝড় শুরু হয়। এ সময় মিনা ময়দানের তাবুতে অবস্থানরত লাখো হাজিদের মাঝে আতঙ্ক দেখা দেয়। পরে অবশ্য সব স্বাভাবিক হয়।
তার স্ত্রী কানিজ বেগমও গিয়েছেন হজ করতে। কানিজ বেগম বলেন, আমার পায়ে সমস্যা থাকায় হুইল চেয়ারে আজ আরাফাত ময়দানে এসেছি। আমার স্বামী আমাকে এ ব্যাপারে সহযোগিতা করছেন। সবাই দোয়া করবেন বাংলাদেশসহ পুরো বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত হাজিরা যাতে হজ পালন করে সুস্থভাবে বাড়ি ফিরতে পারে।
আর কিছুক্ষণ পরই হজের খুৎবা শুরু হবে। সৌদি সময় দুপুর ১২টার পর আরাফাতের ময়দানের মসজিদে নামিরা থেকে হজের খুতবা পাঠ করবেন মদিনা মসজিদে নববির ইমাম ও খতিব, মদিনা সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি শায়খ ড. হোসাইন বিন আব্দুল আজিজ আল শাইখ।
আজ খুতবা পাঠ শেষে জোহর ও আসরের ওয়াক্তের মাঝামাঝি সময়ে হাজিরা জামায়াতের সাথে কসর নামাজ আদায় করবেন। সূর্যাস্ত পর্যন্ত তারা আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করে মহান আল্লাহ তাআলার জিকির ও ইবাদতে মশগুল থাকবেন। অত:পর মুযদালিফার উদ্দেশ্যে আরাফাত ময়দান ত্যাগ করবেন এবং মুযদালিফায় গিয়ে মাগরিব ও এশার নামায এশার ওয়াক্তে একত্রে পড়বেন এবং সমস্ত রাত খোলা প্রান্তরে অবস্থান করবেন।
মীনায় জামরাতে নিক্ষেপ করার জন্য ৭০টি কংকর এখান থেকে সংগ্রহ করবেন। মুযদালিফায় ফজরের নামায পড়ে মীনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবেন। ১০ জিলহজ্ব মিনায় পৌঁছার পর হাজিদের পর্যায়ক্রমে চারটি কাজ সম্পন্ন করতে হয়। প্রথমে মিনাকে ডান দিকে রেখে হাজিরা দাঁড়িয়ে শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করবেন। দ্বিতীয় কাজ আল্লাহর উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করা। অনেকেই মিনায় না পারলে মক্কায় ফিরে গিয়ে পশু কোরবানি দেন। তৃতীয় পর্বে মাথা ন্যাড়া করা। চতুর্থ কাজ তাওয়াফে জিয়ারত। হাজিরা মক্কায় ফিরে কাবা শরীফ তাওয়াফ ও সাঈ (কাবার চারদিকে সাতবার ঘোরা ও সাফা-মারওয়া পাহাড়ে সাতবার দৌঁড়ানো) করে আবার মিনায় ফিরে যাবেন।
জিলহজ্বের ১১ তারিখ মিনায় রাত যাপন করে দুপুরের পর থেকে সূর্যাস্তের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে হাজিরা বড়, মধ্যম ও ছোট শয়তানের উপর সাতটি করে পাথর নিক্ষেপ করবেন। এ কাজটি করা সুন্নত। পরদিন ১২ জিলহজ্ব মিনায় অবস্থান করে পুনরায় একইভাবে হাজিরা তিনটি শয়তানের উপর পাথর নিক্ষেপ করবেন। শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করা শেষ হলে অনেকে সূর্যাস্তের আগেই মিনা ছেড়ে মক্কায় চলে যান। মক্কায় পৌঁছার পর হাজিদের একটি কাজ অবশিষ্ট থাকে। সেটি হচ্ছে কাবা শরীফ তাওয়াফ করা। একে বলে বিদায়ী তাওয়াফ। স্থানীয়রা ছাড়া বিদায়ী তাওয়াফ অর্থ্যাৎ কাবা শরীফে পুনরায় সাতবার চক্কর দেয়ার মাধ্যমে হাজিরা হজের কর্মসূচি সম্পন্ন করবেন।
পবিত্র হজ উপলক্ষে মক্কা, মদিনা, মিনা, আরাফাত ময়দান, মুজদালিফা ও এর আশ-পাশের এলাকায় ১০ হাজার নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে। সঙ্গে কাজ করছে ১৬ হাজার গাইড।
ইসলাম ধর্মের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি হচ্ছে হজ। একজন মুসলিমকে জীবনে অন্তত একবার হজ পালন করতে হয়।
