আজ আইভি রহমানের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী
অনলাইন ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪.কম
প্রকাশিত : ০১:০৮ এএম, ২৪ আগস্ট ২০১৮ শুক্রবার | আপডেট: ০৬:৫৯ পিএম, ২৪ আগস্ট ২০১৮ শুক্রবার
আজ শুক্রবার বিশিষ্ট সমাজসেবী, রাজনীতিবিদ, আওয়ামী লীগের সাবেক নারী বিষয়ক সম্পাদক এবং প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়তে আওয়ামী লীগের সমাবেশে সন্ত্রাসীদের ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় গুরুতর আহত হন আইভি রহমান।
ঘটনাস্থলে তার পুরো শরীরসহ দুটি পা স্প্রিণ্টারের আঘাতে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। এরপর চিকিৎসার জন্য প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও পরে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চার দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে ২৪ আগস্ট শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ইতিহাসে উজ্জ্বল এক নক্ষত্রের নাম আইভি রহমান। তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সর্বক্ষেত্রে দ্যুতি ছড়িয়েছেন মানবিকতা, রাজনৈতিক দক্ষতা আর দৃঢ় ব্যক্তিত্বের অধিকারী এ মহিয়সী নারী। জীবনের শেষ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু পরিবারের পাশে ঢাল হিসেবে থেকেছেন।
জন্ম ও পারিবারিক অবস্থা :
১৯৪৪ সালের ৭ জুলাই কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব শহরের চন্ডিবের গ্রামের সম্ভ্রান্ত পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম জালাল উদ্দিন আহমেদ। তিনি ছিলেন ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ। মা হাসিনা বেগম একজন আদর্শ গৃহিণী ছিলেন। ৮ বোন ৪ ভাইয়ের মধ্য আইভি রহমান ৫ম সন্তান। ১৯৫৮ সালে আওয়ামী লীগ নেতা, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের সাথে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। রাজনৈতিক সম্পর্ক ছাড়াও আইভি রহমান বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সঙ্গে পারিবারিকভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। তার বড় বোন সামসুন্নাহার সিদ্দিক বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ রেহানার শাশুড়ি। সেই সূত্রে আইভি শেখ রেহানার খালা শাশুড়ি। তার এক ছেলে নাজমুল হাসান পাপন ও দুই মেয়ে তানিয়া ও ময়না। নাজমুল হাসান পাপন বর্তমানে কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি।
রাজনৈতিক জীবন :
বঙ্গবন্ধুর স্নেহধন্যা বেগম আইভি রহমান ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক রাজনীতির বর্ণাঢ্য জীবন শুরু করেন। ছাত্র জীবনে তিনি তখন ছাত্রলীগের প্রথম সারির নেত্রী ও নীতিনির্ধারক ছিলেন। আইভি রহমান ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত মহিলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। ১৯৭১ সালে বাঙালির স্বাধিকার আদায়ের লক্ষ্যে মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন তিনি। ভারতে গিয়ে সশস্ত্র ট্রেনিং গ্রহণ করে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালে তিনি মহিলা আওয়ামী লীগের সদস্য হন। ১৯৮০ সালে তিনি কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী নির্বাচিত হন। এরপর তিনি দীর্ঘদিন এ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালনসহ রাজপথের মিছিলে তিনি থাকতেন সবার আগে। সভা সমাবেশে তিনি কখনই মঞ্চে বসতেন না। সভা স্থলের নিচে মাটিতে বা মঞ্চের সাইডে বসতেন তিনি। রাজপথ কাঁপানো নেত্রী ছিলেন তিনি।
ব্যক্তি আইভি রহমান :
ছেলেবেলা থেকেই আইভি ছিলেন শান্ত স্বভাবের, তবে প্রখর ব্যক্তিত্বসম্পন্ন। তার ব্যক্তিত্ব, গাম্ভীর্যপূর্ণ স্বভাবের জন্য তাকে বাইরে থেকে খুব কঠিন মনে হলেও, আদতে তিনি ছিলেন খুবই দরদি মনের মানুষ। যারা তার সঙ্গে মিশেছে, কাছে গেছে তারাই পেয়েছে অপরিসীম ভালোবাসা, আদর, মমতা আর সহযোগিতা। ভৈরবের সাধারণ মানুষের সঙ্গে ছিল তার গভীর সম্পর্ক। দুঃখী মানুষের পাশে তিনি সব সময় থাকতেন।
অন্যান্য কর্মকান্ড :
আইভি রহমান আজীবন বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে নিজকে বেঁধে রেখেছিলেন। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত বাংলাদেশ মহিলা সমিতির সভানেত্রী ও জাতীয় অন্ধকল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
শেষ স্মৃতি :
২১ আগস্ট আইভি রহমান মারাত্মক আহত হলে এ খবরটি তাৎক্ষণিক জিল্লুর রহমানকে জানানো হয়নি। তাকে জানানো হয় আইভি সামান্য আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছে। ঘটনার দেড়দিন পর জিল্লুর রহমান জানতে পারেন নির্মম সত্যটি। ২৩ আগস্ট তিনি প্রথম ও শেষ বারের মতো হাসপাতালে আইভি রহমানকে দেখতে যান। ৪৬ বছরের জীবন সঙ্গীর সঙ্গে এটাই ছিল তার শেষ দেখা। ২০০৪ সালের ২৪ আগস্ট তিনি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। তাকে ঢাকার বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়।
আন্দোলন সংগ্রামে আইভি রহমানের অসমান্য অবদানের কথা বাঙালি জাতি আজ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে। তার অসমান্য আত্মত্যাগ জাতি কখনই ভুলতে পারবেনা।
কর্মসূচি :
দিবসটি উপলক্ষে অাজ সকাল সাড়ে ৮টায় বনানী কবরস্থানে মরহুমার কবর জিয়ারত, শ্রদ্ধা নিবেদন ও মোনাজাত কর্মসূচি পালন করবে আওয়ামী লীগ। পরিবারের পক্ষ থেকে এদিন বাদ আসর রাজধানীর গুলশানের আইভি কনকর্ড টাওয়ারে আইভি রহমানের বাসায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এতে আত্মীয়-স্বজন, বল্পব্দিবান্ধব ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উপস্থিত থাকার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক বিবৃতিতে আইভি রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গৃহীত কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকতে দল ও সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মী-সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
