বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে আজও উপচে পড়া ভিড়
সালেহীন বাবু
উইমেননিউজ২৪.কম
প্রকাশিত : ০১:৪৯ পিএম, ২৫ আগস্ট ২০১৮ শনিবার | আপডেট: ০২:৪৮ এএম, ২৬ আগস্ট ২০১৮ রবিবার
ঈদের প্রথমদিন পশু জবাই ও মাংস ভাগাভাগির কারণে সারাদিন ঘরেই কাটিয়েছে নগরবাসী। দ্বিতীয় দিন আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে বেড়নো শেষে এখন বাঁধভাঙা জোয়ারের মতো রাজধানীবাসী ছুটছেন বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে।
ঈদের চতুর্থ দিন শনিবার সকাল থেকেই রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে আজকে নগরীর বাসিন্দারা বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে ভিড় জমাচ্ছেন।
রাজধানীর শিশুপার্ক, চিড়িয়াখানা, হাতিরঝিল, নভোথিয়েটার, আহসান মঞ্জিল, লালবাগ কেল্লা, শ্যামলী শিশুমেলা, চন্দ্রিমা উদ্যান, জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা, ধানমন্ডি লেক সবখানেই ছিল উপচেপড়া ভিড়।
শিশু পার্ক (শাহবাগ)
শাহবাগের শিশুপার্কে আজ উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। শরতের মিষ্টি কড়া রোদের দুপুর উপেক্ষা করে শাহবাগের শিশুপার্কের রাইডগুলোতে চড়ার জন্য অভিভাবকসহ শিশুদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। রোদ থাকলেও শিশুদের মুখচ্ছবিতে ছিল না কোনো বিরক্তির ছাপ। তবে অভিভাবকদের কিছুটা অশ্বস্তিতে ফেলেছে রোদ আর গরম।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভেতরে তিলধারণের জায়গা নেই। অভিভাবকদের হাত ধরে হাজারও শিশু পার্কে এসেছে। প্রতিটা রাইডের সামনেই ছিল দীর্ঘ লাইন। এছাড়া লম্ফ-ঝম্ফ রাইড, রেলগাড়ি, জেট প্লেন, নাগরদোলা, ঘূর্ণায়মান ঘোড়ায় চড়ে শিশুরা আনন্দ করছে। কোনো কোনো রাইডে বয়স্কদেরও চড়তে দেখা গেছে। সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা গেছে রেলগাড়ি, ঝুলন্ত চেয়ারের রাইডে।
কথা হয় পুরান ঢাকা থেকে দুই বাচ্চাকে নিয়ে আসা আতিয়া হোসেন তনীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ঢাকায় বিনোদনের তেমন ব্যবস্থা নেই। আর যেগুলো আছে সেগুলোতেও সবসময় আসার সুযোগও হয় না। বাচ্চাদের নিয়ে বাইরে বের হলে যানজটে পড়তে হয়। ঈদে যানজট কম থাকে। তাই চেষ্টা করি এ সুযোগটা কাজে লাগাতে। তাই এখানে চলে এসেছি।
নারায়নগঞ্জ সদরের প্রনোদপুর স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী পাপিয়া জানায় সকালে গ্রামের বাড়ি থেকে ২০ সদস্যের সঙ্গে এসেছি। প্রথমে চিড়িয়াখানা ঘুরেছি। এখন শিশুপার্ক এবং জাতীয় জাদুঘর ঘুরব। আমরা একটা বাস ভাড়া করে এসেছি।
জাতীয় জাদুঘর
শিশুপার্কের পাশেই অবস্থিত জাতীয় জাদুঘর। সেখানেও দর্শনার্থীদের সমাগম চোখে পড়ার মতো। মূলত স্কুল-কলেজে পড়ুয়া দর্শনার্থীরা জাদুঘরে ভিড় করছেন। ছোট্র লিমন বাবামার সাথে জাদুঘর দেখতে এসেছে। এটাই তার প্রথম দেখা জাদুঘর। অবাক হয়ে সব দেখছে। বাবামাকে প্রশ্নের পর প্রশ্ন করে যাচ্ছে।
শ্যামলী শিশুমেলা
শিশুপার্কের মতো একই অবস্থা শ্যামলীর শিশুমেলায়। এ পার্কেও তিলধারণের ঠাঁই ছিল না। বিকেল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব বিনোদন কেন্দ্রে ভিড় বাড়তে শুরু করে।
মোহাম্মদপুর থেকে মা-বাবার সঙ্গে ঘুরতে আসা তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী তুষ্টি জানায়, পার্কে সবগুলো রাইডে চড়তে পেরে খুব মজা লাগছে।
আরেক পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী তুষিণা জানায়, সে রামপুরা থেকে পরিবারের সঙ্গে ঘুরতে এসেছে। সঙ্গে চাচাত ভাই ও আন্টিরা এসেছেন।
তুষিণার চাচাত বোন বিন্তী বলেন, আমরা সবাই একসাথে এখানে এসেছি। একসাথে সবাই মজা করছি।
হাজারীবাগ থেকে মা-বাবা এবং ছোট ভাইয়ের সঙ্গে ঘুরতে আসা মিতু বলে, শিশুপার্কে ঘুরতে আসলাম মাত্র। ভিতরে ঢুকে সবগুলো রাইডে চড়ব, খুব মজা করব।
হাতিরঝিল
দুপুর গড়িয়ে বিকাল নামতেই হাতিরঝিলের বিভিন্ন পয়েন্টে বাড়তে থাকে ভিড়। সন্ধ্যার সময় কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় এ এলাকা। প্রিয়জনের সঙ্গে কাটানো সুন্দর সময়কে আরও মধুর করে তুলতে অনেকেই ওয়াটার বোটে ঘুরে বেড়াচ্ছেন হাতিরঝিলের বুকে। হাতিরঝিলে স্বামীকে নিয়ে ঘুরতে আসা রোজিনা হাসান বলেন, ঈদের ছুটিতে নিজেদের মতো করে কাটাতে ঘুরতে বের হয়েছি। হাতিরঝিলের ঠাণ্ডা বাতাস, রঙিন ঝরনা, ওয়াটার বোটের মজার ভ্রমণ আর হালকা খাবার আমাদের ভীষণ প্রিয়।মেরাদিয়ার বাসিন্দা সালেহা বলেন , অন্য সময় ব্যস্ত থাকায় ছেলেমেয়েদের নিয়ে তেমন একটা সময় কাটানো হয় না। তাই আজকে ওদের নিয়ে ঘুরতে বেরিয়েছি।
চিড়িয়াখানা
আজ সকাল থেকেই কোলাহলে মুখরিত হয়ে উঠেছে চিড়িয়াখানা। বাবা-মার হাত ধরে বেড়াতে এসেছিল আট বছরের মাইশা। চিড়িয়াখানা ঘুরে কেমন লাগল জানতে চাইলে সে বলে, বাবার কাছে অনেকদিন আগে হরিণ দেখতে চেয়েছিলাম। ঈদের ছুটিতে তাই বাবার সঙ্গে হরিণ, বানরসহ আরও অনেক পাখি দেখেছি।
আগত দর্শনার্থীদের আনন্দিত করেছে বেবুন, বানর আর উল্লুকের উল্লাস। বানরের বাঁদরামো, আর লাফালাফি শিশুদের পাশাপাশি প্রাণভরে উপভোগ করছেন অভিভাবকরাও। এর বাইরে বাঘ, সিংহ, ভাল্লুক, জিরাফ, হাতি, হরিণসহ চিড়িয়াখানার সবগুলো খাঁচার সামনেই ছিলো দর্শনার্থীদের প্রচণ্ড ভিড়।
এছাড়াও রাজধানীর বিমান বাহিনী যাদুঘর, নভোথিয়েটার, আহসান মঞ্জিল, লালবাগ কেল্লা, চন্দ্রিমা উদ্যান, জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা, ধানমন্ডি লেক সবখানেই ছিল বিনোদন প্রেমীদের উপস্থিতি। অপরদিকে বছরের অন্য সময়ে রাজধানীর প্রেক্ষাগৃহগুলোতে দর্শক উপস্থিতি তেমন না থাকলেও ঈদে ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। স্টার সিনে কমপ্লেক্স, ব্লক ব্লাস্টারসহ রাজধানীর সব প্রেক্ষাগৃহ হাউসফুল যাচ্ছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এবারের ঈদে সবচেয়ে বেশি দর্শনার্থীর ভিড় হাতিরঝিল। এরপর চিড়িয়াখানা সর্বশেষ শিশুপার্কে।
এদিকে বিনোদন কেন্দ্রে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা বিধানে পুরো এলাকা রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারিতে। যেকোনো ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় ইউনিফর্ম ও সাদা পোশাকের সদস্যরা সদাপ্রস্তুত।
