ঢাকা, সোমবার ১৩, জুলাই ২০২৬ ১:০২:১৫ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

আয়ারল্যান্ড : যৌন নির্যাতনের প্রতিবাদের মুখে পোপ

অনলাইন ডেস্ক

উইমেননিউজ২৪.কম

প্রকাশিত : ০২:৪৭ এএম, ২৬ আগস্ট ২০১৮ রবিবার | আপডেট: ০১:১০ পিএম, ২৬ আগস্ট ২০১৮ রবিবার

ধারণা করা হচ্ছে পোপ ফ্রান্সিসকে এক নজর দেখতে ছয় লাখেরও বেশি মানুষ জড়ো হবেন আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনে৷ ইউরোপের সবচেয়ে বড় সিটি পার্ক ফিনিক্সে আজ রোববার ক্যাথলিকদের সামনে হাজির হবেন পোপ ফ্রান্সিস৷ তবে একসময়ের ক্যাথলিকদের ঘাঁটি এখন আর আগের মতো নেই৷ 


গত মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে ওয়ার্ল্ড মিটিং অফ ফ্যামিলিস৷ কিন্তু এর বাইরে চলছে প্রতিবাদ৷ বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভ্যানিয়ায় ক্যাথলিক চার্চে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ প্রকাশ পাওয়ার পর ডাবলিনেও পড়েছে এর প্রভাব৷


পোপকে এক নজর দেখতে হাজার হাজার ক্যাথলিক বিভিন্ন জায়গা থেকে জড়ো হয়েছেন ডাবলিনে৷ তাদের একজন পর্তুগাল থেকে আসা ২০ বছর বয়সি মিলেনা পেরেইরা বলছেন, ‘‘বিভিন্ন চার্চে যেসব বিতর্কের সৃষ্টি হচ্ছে, পোপ তা মোকাবিলার যথেষ্ট চেষ্টা করছেন৷``


পেরেইরার আশা, শিগগিরই পুরো ব্যবস্থাটা সংস্কার হবে, সমচিন্তার মানুষদের পোপ উচ্চ পদে নিয়োগ দেবেন৷ তিনি বলেন, ‘‘এই পোপ যদি আরো পাঁচ বছর থাকেন, তাহলে আমরা ভিন্ন এক চার্চ দেখতে পাবো৷``।


শিশু নির্যাতন : 
১৯৭৯ সালে পোপ জন পল-২ যখন আয়ারল্যান্ডে এসেছিলেন, তখনও দেশটি ছিল ক্যাথলিকদের বেশ শক্ত ঘাঁটি৷ প্রায় ১৫ লাখ মানুষ জড়ো হয়েছিলেন ফিনিক্স পার্কে৷ তখন পোপের উপস্থিতিতে কোনো প্রতিবাদ করাকে অপবিত্র বলে ধরে নেয়া হতো৷


কিন্তু এখন অবস্থা ভিন্ন৷ ডাবলিন সিটি মেয়র ম্যানিক্স ফ্লিন নিজেই শহরের বিনোদন এলাকা টেম্পল বারে একটি আর্ট ইনস্টলেশন স্থাপন করেছেন৷ সেখানে ১৯টি কাঠের বোর্ডে যাজকদের হাতে ধর্ষণ হওয়া শিশুদের কথা লেখা আছে৷


ফ্লিন নিজেও এই শিশুদের একজন৷ ১১ বছর বয়সে তাকে ধর্ষণ করা হয়৷ তিনি বলেন, ‘‘আমাদের প্রার্থনা বা সমবেদনার প্রয়োজন নেই৷ এসব মানুষ এবং যারা এসব ঘটনা ধামাচাপ দিতে চেয়েছে, তাদের গ্রেপ্তার করতে হবে এবং আদালতে হাজির করতে হবে৷``


১৯৯০ সালে আয়ারল্যান্ডে ক্যাথলিক চার্চের পতন শুরু হয়৷ তখনই ক্যাথলিক যাজকদের যৌন নিপীড়ণে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রথম সামনে আসে৷ ১৯৯২ সালে গ্যালওয়ের বিশপ এমন ক্যাসে জানা যায় তার ১৭ বছর বয়সি এক ছেলে আছে৷ ক্যাসে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগে বাধ্য হন৷

 

মুখ ফেরাচ্ছেন বিশ্বাসীরাও : 
এর পর থেকে ক্যাথলিক স্কুল এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেও নির্যাতনের খবর প্রকাশ পেতে থাকে৷ আইরিশরা এসব খবরে হতভম্ভ হয়ে পড়েন৷ যখন জানা যায় চার্চের হর্তাকর্তারা এসব যাজকদের রক্ষা করেছেন এবং অন্য জায়গায় বদলি করে দিয়ে এমন আরো ঘটনা ঘটানোর সুযোগ করে দিয়েছেন, তখন অনেকেই এসব ঘটনার পর চার্চ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন৷


২০০৫ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে চার্চে যাওয়া ক্যাথলিকদের সংখ্যা কমে যায় ২০ শতাংশ৷

সূত্র : ডয়চে ভেলে