শ্রমিকদের জন্য মজুরি কমিশন ঘোষণার কথা ভাবছে সরকারঃ প্রধানমন্ত্রী
প্রকাশিত : ০২:২৫ পিএম, ১ মে ২০১৫ শুক্রবার | আপডেট: ০২:২৫ পিএম, ১ মে ২০১৫ শুক্রবার
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, উইমেননিউজ২৪.কম, ঢাকা : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁরা ২০০৯ সালে সরকার গঠনের সময় শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ছিল ১৬ শ টাকা। সেটা মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে ৩ হাজার টাকায় উন্নীত করেন। পরে মজুরি কমিশন করে এটা ৫ হাজার তিন শ টাকায় উন্নীত করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁরা ভবিষ্যতেও মজুরি কমিশন ঘোষণা দেবেন।
শেখ হাসিনা বলেন, শ্রমিকদের সহনশীল মনোভাব নিয়ে স্ব স্ব দায়িত্ব পালন করতে হবে। মালিকদেরও শ্রমজীবী ভাই-বোনদের প্রতি দৃষ্টি দিতে হবে। আজ শুক্রবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মহান মে দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্যের শুরুতে তিনি বিশ্বের সব শ্রমজীবী মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
শেখ হাসিনা বলেন, কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে যেটা প্রয়োজন, সেটা হলো মালিক-শ্রমিক সুসম্পর্ক। এটা উৎপাদন বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। শ্রমিকদের কল্যাণের জন্য বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন কিংবা ট্রেড ইউনিয়ন। তবে ট্রেড ইউনিয়ন মানে এটা না যে তারা শ্রমিকদের শুধু উসকে দেবে। শ্রমিকদের কল্যাণে তারা দেশে আর্থসামাজিক পরিবেশকে গুরুত্ব দেবেন বলে আশা করি।
শেখ হাসিনা বলেন, শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় বঙ্গবন্ধু সব সময় সচেতন ছিলেন। সরকারি ছুটি জাতির পিতা ঘোষণা দিয়েছেন। এ কারণেই তিনি (প্রধানমন্ত্রী) যখন সরকার গঠন করেছেন তখন থেকেই তাঁরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগ এ দেশের শ্রমজীবী মানুষের পাশে আছে। তাঁর সরকার শ্রমিক ও মালিকদের সুসম্পর্ক বজায় থাকুক সেই লক্ষ্যে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।
শেখ হাসিনা বলেন, বিদেশে গিয়ে যেন শ্রমিকেরা বিপদে না পড়ে সে জন্য সে জন্য সরকার প্রত্যেক বন্ধুপ্রতিম দেশের সঙ্গে সম্মানজনক চুক্তি করে দিচ্ছে। শ্রমিকেরা কোনো রকম বিপদে না পড়েন সে জন্য ব্যবস্থাও নিচ্ছে। প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে বিনা জামানতে ঋণ নিয়ে শ্রমিকেরা যাতে প্রবাসে যেতে পারেন সে ব্যবস্থাও তাঁর সরকার করে দিয়েছে। এ জন্য জায়গা জমি-বিক্রি কিংবা বন্ধক রাখতে হবে না। তিনি বলেন, ‘আমাদের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও ঈশ্বরদী ইপিজেড শ্রমিকেরা কাজ করেন। শ্রমিকদের ডরমিটরি কিংবা হোস্টেল নির্মাণের পদক্ষেপ নিয়েছি।’
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী হাসিনা বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশকে কীভাবে দেখতে চাই। আমাদের লঞ্চ বাংলাদেশ ক্ষুধামুক্ত-দারিদ্র্যমুক্ত হবে। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নত করব। তবে আমি বিশ্বাস করি, এর আগেই এটা করতে পারব। কারণ ইতিমধ্যে মানুষের মৌলিক সেবা সেগুলো মানুষের দোর-গোড়ায় পৌঁছে দিয়েছি। আমরা দারিদ্র্যের হার আরও ১০ ভাগে নামাতে চাই। যে অর্থনৈতিক প্রক্রিয়া হাতে নিয়েছি। সেটা বাস্তবায়ন হলে এটা খুব কঠিন কাজ নয়। কারণ বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে পারে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত জোট যেভাবে শ্রমজীবী মানুষ, বাস-ড্রাইভার পুড়িয়ে মরেছে এটা কারও কাছে গ্রহণযোগ্য না। এই ধ্বংসাত্মক কাজ যেন কেউ আর ঘটাতে না পারে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে। আসুন সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিশ্বের একটা উন্নত সমৃদ্ধিশালী মানুষ নিজেদের গড়ে তুলি। দুনিয়ার মজদুর, সবার কল্যাণ হোক।’
০১.০৫.২০১৪ 