ঢাকা, বুধবার ১৫, জুলাই ২০২৬ ৫:৫৪:৪২ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

উইমেননিউজ২৪.কম

প্রকাশিত : ০২:১৬ এএম, ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ শনিবার | আপডেট: ১০:২২ পিএম, ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ রবিবার

আজ শনিবার আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস। চলতি বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘সাক্ষরতা অর্জন করি, দক্ষ হয়ে জীবন গড়ি’। স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে প্রথম সাক্ষরতা দিবস উদযাপিত হয়।
 
দিবসটি উপলক্ষে  রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন।
 
 
রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ বাণীতে বলেছেন, শতভাগ সাক্ষরতা অর্জনের কর্মসূচিকে সামাজিক আন্দোলন হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। জ্ঞাননির্ভর অর্থনীতি ও প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে কোনো জাতির উন্নয়নে সাক্ষরতার বিকল্প নেই।
 
তিনি বলেন, শিক্ষা জ্ঞান অর্জনের মূল ভিত্তি, আর সাক্ষরজ্ঞান এর প্রাথমিক সোপান। সাক্ষরতার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জনের দ্বার উন্মুক্ত হয়, যা জীবনব্যাপী শিক্ষার সুযোগ তৈরি করে। তাই সাক্ষরতা অর্জন দেশের মানব সম্পদ তৈরির প্রথম ধাপ।
 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণীতে বলেন, বর্তমানে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় (এসডিজি-৪) মানসম্মত ও সর্বজনীন শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং জীবনব্যাপী শিক্ষা প্রসারের অঙ্গীকার ব্যক্ত হয়েছে, যা বাস্তবায়নের জন্য বর্তমান সরকার সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণপূর্বক ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
 
তিনি আরও বলেন, আমাদের সরকারের গৃহীত সাক্ষরতা ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা সংক্রান্ত উন্নয়ন কর্মসূচিগুলোর মাধ্যমে ২০২১ সালের মধ্যে নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে দেশকে মুক্ত করে জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
 
আধুনিক বিশ্বে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার হলেও পুরো পৃথিবীর সমগ্র মানুষ আজও শিক্ষার আলো গ্রহণ করতে পারেনি। এমনকি নিজের পরিচয়ও লিখতে পারে না অনেক মানুষ। তাদের সাক্ষরতা দানের উদ্দেশ্যে ইউনেস্কো ৮ সেপ্টেম্বর বিশ্ব সাক্ষরতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। 
 
১৯৬৫ সালের ৮-১৯ সেপ্টেম্বর ইউনেস্কোর উদ্যোগে ইরানের রাজধানী তেহরানে বিশ্ব সাক্ষরতা সম্মেলন হয়। ওই সম্মেলনে প্রতি বছর ৮ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালনের প্রস্তাব করা হয়। পরে ১৯৬৫ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো ৮ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। পৃথিবীর সব মানুষকে নিজেদের অন্যতম মৌলিক অধিকার শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার ব্যাপারে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যেই মূলত এই দিনটির প্রচলন হয়েছে। 
 
সারা বিশ্বে লক্ষ করলে দেখা যায় সাক্ষরতা হার যাদের বেশি বৈশ্বয়িক উন্নয়নে তারাই এগিয়ে। সাক্ষরতাই টেকসই সমাজ গঠনের মূল চালিকাশক্তি। টেকসই সমাজ গঠনের জন্য যে জ্ঞান ও দক্ষতা প্রয়োজন তা সাক্ষরতার মাধ্যমেই অর্জিত হয়। সাক্ষরতা বলতে সাধারণত অক্ষর জ্ঞানসম্পন্নতাকে বোঝানো হলেও বর্তমানে এর সংজ্ঞা আরও ব্যাপক। এখন এর সঙ্গে জীবনধারণ, যোগাযোগের দক্ষতা ও ক্ষমতায়নের দক্ষতাও সংযোজিত হয়েছে। তাই দিবসটি যথাযথভাবে পালনের গুরুত্ব রয়েছে।


বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী দেশে বর্তমান সাক্ষরতার হার ৭২ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। গতবার এই হার ছিল ৭২ দশমিক ৩ শতাংশ। মোট  জনসংখ্যার একটি অংশ এখনও নিরক্ষতার গ্লানি বয়ে বেড়াচ্ছে, যাদের অধিকাংশই অধিকারবঞ্চিত এবং দারিদ্র্যের দুষ্ট চক্রে বন্দি জীবন-যাপন করছে। এই দারিদ্র্যের মূল কারণই হচ্ছে শিক্ষা এবং কারিগরি দক্ষতার অভাব। শিক্ষার সঙ্গে সাক্ষরতার আর সাক্ষরতার সঙ্গে উন্নয়নের সম্পর্ক ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যে দেশের সাক্ষরতা হার যত বেশি সে দেশ তত উন্নত। বঞ্চিত এবং নিরক্ষর শিশু-কিশোর এবং যুবকদের শিক্ষার মাধ্যমে দেশের জনসম্পদে পরিণত করা দরকার।
 
তাই নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে জাতিকে মুক্ত করতে যার যার অবস্থান থেকে সকলকে এগিয়ে আসা জরুরি। নিরক্ষরতা, ক্ষুধা দারিদ্র্য ও দুর্নীতি দূর করার হাতিয়ার হল শিক্ষা ও সাক্ষরতা। এজন্য সবার জন্য শিক্ষা প্রয়োজন। চাই নিরক্ষরমুক্ত, শিক্ষিত ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ। 

দিবসের কর্মসূচি : সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে আজ সকাল ৮টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শিল্পকলা একাডেমি পর্যন্ত এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। শোভাযাত্রায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান নেতৃত্ব দেবেন। এছাড়া শোভাযাত্রায় শিক্ষক ও কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। সকাল সাড়ে ৯টায় রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন।

এ ছাড়াও দিবসটি উপলক্ষে শোভাযাত্রা, আলোচনাসভা, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহে সড়কদ্বীপ সাজানো, গোলটেবিল বৈঠক ও টেলিভিশন টকশো আয়োজন করা হয়েছে।