বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস আজ
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪.কম
প্রকাশিত : ০৬:১৯ পিএম, ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ সোমবার | আপডেট: ০৭:৫৩ পিএম, ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ সোমবার
প্রতীকী ছবি
আজ সোমবার বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে। এ বছর দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য, আত্মহত্যা প্রতিরোধে একযোগে কাজ।
আত্মহত্যার মূল হেতু হল মানসিক রোগ। পরিবারের সাথে দূরত্ব, অনিশ্চিত জীবনযাত্রা,মানসিক বেদনা,অসফল চিন্তাভাবনা, নেশাগ্রস্থ সহ সামগ্রিক বিষাদময়তা থেকে আত্মহত্যার প্রবণতা চলে আসে। তখন তার কাছে পুরো জীবনটাই অনর্থক মনে হয়। ফলে জীবনের মায়া তার কাছে মূল্যহীন। দুনিয়ায় বেচে থাকা তার কাছে ভিত্তিহীন বলে মনে হয়।
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের দেয়া তথ্য (২০১৬ সালের) মতে বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার ৩১ শতাংশ বা প্রায় ৫ কোটি মানুষ কোন না কোন মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত।
কিন্তু বাংলাদেশে এই বিশাল সংখ্যক মানুষের জন্য মনোরোগ বিশেষজ্ঞ রয়েছে আড়াইশোর একটু বেশি। মানসিক রোগীদের জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল মাত্র দুটি। কিছু বেসরকারি কেন্দ্র রয়েছে যা মাদকাসক্তির ও মনোরোগের চিকিৎসা একসাথে করে। বাংলাদেশে আত্মহত্যা প্রবণতায় ভোগা মানুষদের জন্যে সহায়তার ব্যবস্থা খুবই অপ্রতুল। বাংলাদেশে আত্মহত্যা ও মানসিক রোগীদের সম্পর্কে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিও খুব নেতিবাচক।
এ বিষয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক সেরাজুম মনিরা বলেন, প্রায় প্রতিদিনই হাসপাতালে আত্মহত্যার রোগী আসে। এর মধ্যে পুরুষের চেয়ে নারীর সংখ্যা বেশি। নারীরা আত্মহত্যার চেষ্টা করে পারিবারিক অশান্তি থেকে।স্বামীর সাথে বনীবনা না হওয়া এর অন্যতম কারণ।
একই হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আম্বিয়া খাতুন। বাড়ী বোয়ালমারী। স্বামীর উপর রাগ করে হারপিক খেয়ে হাসপাতালে তিনদিন ধরে ভর্তি। কথা হয় আম্বিয়ার ভাই পলাশের সাথে। পলাশ বলেন,তার দুলাভাই আরেকটা বিয়ে করাটে তার বোন আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।
ডাক্তার মনিরা বলেন,শুধু নারীরাই নন। অনেক পুরুষও আত্মহত্যা করতে গিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। ফাঁস লাগানো পুরুষ রোগীরাও হাসপাতালে ভর্তি হয়।
আত্মহত্যার বিষয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের সাইক্রিয়েটিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক নুর মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দীন সাদী বলেন,অনেক রোগী হাসপাতালে আসে যারা হারপিক ,পোকা মারার ওষুধ,ঘুমের ওষুধ,প্যারাসিটামল খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। মূলত মানসিক বিষন্নতা থেকেই আত্মহত্যার মনোভাব জাগ্রত হয়। আগে এর প্রবণতা কম থাকলেও দিন দিন বাড়ছে। আত্মহত্যার প্রবণতা কমাতে গেলে অবশ্যই সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। যখন একজন পুরুষ বা নারী আত্মহত্যার চেষ্টা করে তখন তার কোন হিতাহিত জ্ঞান থাকেনা। আর সেই প্রভাবটা শুরু হয় পরিবার থেকে। তাই একটি পরিবারে সবার সাথে সবার ঘনিষ্ঠ সংযোগ থাকা দরকার। একজন মানুষ যখন চিন্তা করে সে পরিবার থেকে কোন সাহায্য পাবেনা তখনই সে এই পথ বেছে নেয়। তাই আমাদের সবাইকে এ বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।
মোট কথা আত্মহত্যা রোধ করতে গেলে এদেশের সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। শুধু নিজের সংসারই আপন নয় বরং পুরো দেশকেই নিজের পরিবার মনে করতে হবে। মানসিক বিষন্নতা,অশান্তি মন থেকে ঝেড়ে ফেলতে হবে। শুরু করতে হবে নতুন আলোর জীবন। আর এ উদ্যোগে এগিয়ে আসতে হবে আামার আপনার মত সবাইকে।
কর্মসূচি : বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ব্রাইটার টুমোরো ফাউন্ডেশন (বিটিএফ) ও দ্য গ্রেট বাংলাদেশ রান (টিজিবিআর) যৌথভাবে আত্মহত্যা প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অপরাজেয় বাংলা প্রাঙ্গণ থেকে জীবন বাঁচাতে দৌড় শীর্ষক একটি সচেতনতামূলক দৌড়ের (রান) আয়োজন করেছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. বীরেন শিকদার।
এ ছাড়া বিটিএফ এ উপলক্ষে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর ধানমণ্ডির গ্যালারি চিত্রকে বরেণ্য শিল্পীদের নিয়ে আর্ট ক্যাম্প ও চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। আর্টক্যাম্প দিনব্যাপী ও চিত্র প্রদর্শনী চলবে পরবর্তী তিন দিন। বিটিএফ সভাপতি জয়শ্রী জামান ও সাধারণ সম্পাদক ফারশিদ ভূইয়া এসব কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।
