ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৩, জুলাই ২০২৬ ১২:০৩:০৮ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

পূজো ও ঈদ কেনাকাটায় জমজমাট বুটিক হাউজগুলো

প্রকাশিত : ১০:৫৩ এএম, ৭ অক্টোবর ২০১৩ সোমবার | আপডেট: ০৭:৩৮ এএম, ১০ অক্টোবর ২০১৩ বৃহস্পতিবার

বানী দেবনাথ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, উইমেননিউজ২৪.কম ঢাকা : একই সঙ্গে আসছে দূর্গপূজো এবং কোরবানীর ঈদ। তাই কেনাকাটায় জমে উঠেছে রাজধানীর বুটিক হাউজগুলো। প্রতিদিনই ক্রেতারা ভিড় করছেন দেখছেন পছন্দ করছেন বেছে নিচ্ছেন পছন্দের পোশাকটি। পোশাক তৈরির ঝামেলায় যারা যেতে চান না তারাই বেশি ভিড় করছেন এসব দোকানগুলোতে। দোকানীরা বলছেন, এখন ক্রেতারা কিনছেন। আর দেখার সময় নেই। রুচিসম্পন্ন কাপড় পেতে ক্রেতারা ছুটছেন বুটিক হাউজগুলোর দিকে। তবে ক্রেতারা বলছেন, তুলনামুলকভাবে দাম অনেক বেশি। হিন্দু ধর্মের প্রধাণ ধর্মীয় উৎসব দূর্গাপূজো এবং মুসলিমদের বড় ধর্মীয় উৎসব কোরবানীর ঈদ একই সময়ে। ধর্মীয় উৎসব দুটোকে সামনে রেখে রাজধানীর বুটিক হাউজগুলোও অন্যান্য বারের মত এবারও রকমারি পোশাকের পসরায় সাজিয়েছেন তাদের কালেকশন। প্রতিদিনই আসছে নতুন নতুন ডিজাইনের পণ্য। মহানগরীর উল্লেখযোগ্য বুটিক হাউজগুলোর মধ্যে রঙ, কে-ক্রাফট, বাংলার মেলা, প্রবর্তনা, সাদা কালো, আলতামিরা, অবর্তন, নারী মেলা, নকসা, ঘরে বাইরে ইতিমধ্যেই ঈদ উপলক্ষ নতুন ডিজাইনের শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, ফতুয়া, পাজ্ঞাবি চলে এসেছে। হাউজগুলোতে পণ্য বিক্রি হচ্ছে নির্ধারিত দামে। ফলে দামাদামি করতে গিয়ে ক্রেতার আর সময় নষ্ট হচ্ছে না। ক্রেতার রুচি ও ক্রয় ক্ষমতার কথা চিন্তা করেই শোরুমগুলোতে পোশাক রাখা হয় বলে জানান রঙ-এর স্বত্বাধিকারি ও ফ্যশান ডিজাইনার বিপ¬ব সাহা। তিনি বলেন, বর্তমানে বুটিক হাউজগুলোর মধ্যে ব্যাপক প্রতিযোগীতা থাকায় সবাই ভালো মানের কাজ দেখাতে চায়। আমরা ক্রেতাদের পছন্দের দিকটিকে সব সময়ই গুরুত্ব দেই। বুটিক বিপনী রঙ এবার পূজোয় এনেছে বিশেষ আয়োজন। তাদের তৈরি শাড়িতে রয়েছে নানা রঙয়ের খেলা। তুলির ছোয়ায় তারা শাড়ির বহরে তুলে এনেছেন বাংলাদেশের সবুজ গ্রামের প্রতিচ্ছবি। ঢাকার ঐতিহ্য রিক্সা, বর্ণমালাসহ আরো কত কি। এখানে শাড়ি পাওয়া যাচ্ছে ৫শ থেকে ৬ হাজার টাকায়। বিপ্লব জানান, এবারও লম্বা কামিজ বেশি রাজত্ব করবে। তবে সঙ্গে সেমি লং কামিজও দেখা যাবে। মেয়েদের থ্রিপিসের সমারহে বেশির ভাগই থাকছে সুতার কাজ, কারচুপি ও চুমকির কাজ। সুতি, মটকা, এন্ডি, মুগা, তশর, জর্জেট কাপড়ে তৈরি পোশাকগুলোর দাম দেড় হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা। রঙএ  মেয়েদেও রঙবেরঙয়ের ফতুয়া, পাঞ্জাবী ও কুর্তা পাওয়া যাচ্ছে সাড়ে ৮শ থেকে আড়াই হাজার টাকায়। বাংলার মেলার ধানমন্ডির শো রুমে গিয়ে দেখা গেছে বেশ ভিড়। কেউ কিনছেন কেউবা পছন্দ করছেন। বেইলি রোডে শাড়ি কিনতে এসেছেন শোভনা সরকার। কিন্তু পছন্দ আর মূল্যেও সমন্নয় করতে পাড়ছেন না বলে বেশ বিরক্ত তিনি। বললেন, এতো দাম যে বুঝতে পারছি না কিনবো কিনা। যেটা পছন্দ হচ্ছে দামে বনছে না। আবার যেটা দামে বনছে সেটা পছন্দ হচ্ছে না। বাংলার মেলা এবার মেয়েদের জন্য এসেছে ফ্রক স্টাইলের কলি দেয়া সালোয়ার কামিজ। সুতি, টিসু তশর কাপড়ের ওপরে এন্টিক, অ্যাপলিক, ব্লক, বাটিক, কড়ি ও বিভিন্ন পাথরের কাজ করা হয়েছে। আর বিভিন্ন রঙের সুতার কাজের পোশাক তো আছেই। দাম ৫৫০ থেকে ৮ হাজার টাকা। শাড়ির মধ্যে এবার চাহিদা বেশি মসলিন, তাঁত ও তশরে। বাংলার মেলায় আছে ব¬ক, বাটিক, ব্রাশ প্রিন্ট এবং সুতার কাজের নানা রকম শাড়ি। দাম ৮ শ থেকে ৫ হাজার টাকা। প্রতিটি বুটিক হাউজেরই পোশাকে নিজস্ব বিশেষত্ব তুলে ধরার চেষ্টা লক্ষ্য করা গেছে। এ প্রসঙ্গে প্রবর্তণার ডিজাইনার শামীম আহমেদ বলেন, আমরা সব সময় চাই নিজেদের বৈশিষ্ট ধরে রাখতে। আর ক্রেতার রুচি ও সাধ্যেও কথাতো থাকছেই। এবার আমরা সালোয়ার-কামিজের কাপড়ের ওপরে ভেজিটেবল ডায়িংয়ের কাজ বেশি করেছি। এবার ঈদে মেয়েরা বেশি পছন্দ করছে লং কামিজ এবং মাঝারি সাইজের থ্রিপিস। এদিকটায় বিশেষভাবে খেয়াল রাখা হয়েছে। পোশাকে এবার আমরা ব্যবহার করেছি দেশীয় প্রচলিত রঙগুলো। তিনি জানান, উৎসবের কথা চিন্তায় রেখে কাতান ও সিল্ক কাপড়ের থ্রিপিসের ওপর বেশি জোর দেয়া হয়েছে। তাছাড়া গরমের কারণে রয়েছে বিভিন্ন কাজ করা সুতির সালোয়ার কামিজও। এখানে থ্রিপিস বিত্রিক্র হচ্ছে ৬ শ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকায়। ৫ শ থেকে ৫ হাজার টাকায়  প্রবর্তনায় আছে নানা রকম পাঞ্জাবির সমাহার। এছাড়া আরামদায়ক সব কাপড়ের ছেলেদের ফতুয়া পাওয়া যাচ্ছে সাড়ে ৪শ থেকে ১২শ টাকায়। পূজো এবং ঈদ উপলক্ষে এখানে এসেছে মনকাড়া কারুকাজ করা সব শাড়ি। দাম একটু বেশি হলেও শাড়িগুলো বেশ দৃষ্টি নন্দন। দাম ৫শ থেকে ৮ হাজার টাকার মধ্যে। ধানমন্ডির বুটিক হাউজ ‘কাজ’ পূজো ও ঈদ উপলক্ষে তুলেছে অ্যাপলিকের কাজ করা সালোয়ার কামিজ, শাড়ি, পাঞ্জাবি ও ফতুয়া। প্রতিষ্ঠানের ডিজাইনার বিনা ইসলাম বলেন, আমরা মূলত অ্যাপলিককেই প্রাধাণ্য দিচ্ছি। অ্যাপলিকের মাধ্যমেই ডিজাইনের বিভিন্ন ডাইমেনশর আনা হয়েছে। কাজ’এ শাড়ি পাওয়া যাচ্ছে ৫শ থেকে ১৮শ টাকায়। অ্যাপলিকের কাজ করা  মেয়েদেও বিভিন্ন কুর্তা ও পাঞ্জাবি পাওয়া যাচ্ছে ৫ শ থেকে ২ হাজার টাকায়। ফতুয়া পাওয়া যাচ্ছে ৫ শ থেকে ১৫শ টাকায়। সালোয়ার-কামিজ পাওয়া যাচ্ছে ৫ শ থেকে ১৬ শ টাকায়। এছাড়া বাচ্চাদের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে ৩ থেকে ৮ শ টাকার মধ্যে। ৭ অক্টোবর’২০১৩