ঢাকা, বুধবার ২২, জুলাই ২০২৬ ৪:৪৮:২৯ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

আজ বিশ্ব ধাত্রী দিবস

প্রকাশিত : ০২:১৮ পিএম, ৫ মে ২০১৫ মঙ্গলবার | আপডেট: ০২:১৮ পিএম, ৫ মে ২০১৫ মঙ্গলবার

downloadস্টাফ করেসপন্ডেন্ট, উইমেননিউজ২৪.কম, ঢাকা : আজ ধাত্রী দিবস (মিডওয়াইফেরি)। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশেও দিবসটি পালন করা হচ্ছে। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘দি ওয়ার্ল্ড নিডস মিডওয়াইফস নাউ মোর দ্যান এভার’। অর্থাত যে কোনো সময়ের তুলনায় এখন আরও ধাত্রী প্রয়োজন। সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থা ও স্বেচ্ছাসেবী-সামাজিক সংগঠন দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। আজ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল প্রাঙ্গন থেকে একটি শোভাযাত্রা বের করা হবে। জাতীয় প্রেসক্লাবে গিয়ে এটি শেষ হবে। এছাড়া নার্সিং কলেজের সামনে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। এক গবেষণায় জানা যায়, দেশে প্রসূতিকালীন সময়ে প্রতি ৫০০ জনের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়। এছাড়া শতকরা ৭৫ জনের ডেলিভারি অদক্ষ ধাত্রী দিয়ে করানো হয়। ২০০১ সালে মাতৃমৃত্যু হার ছিল প্রতি লাখে ৩২২ জন। ২০১০ সালে এই মৃত্যুহার ছিল প্রতি লাখে ১৯৪ জন। বর্তমানে মাতৃমৃত্যু হার প্রতি লাখে ১৪৩ জনে নেমে এসেছে। মাতৃমৃত্যু হার কমিয়ে আনতে পারা দেশের স্বাস্থ্যখাতের বড় সাফল্য। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৩ সালে জাতিসংঘ থেকে সাউথ সাউথ পুরস্কার পেয়েছেন। প্রশিক্ষিত ধাত্রীর জন্য প্রধানমন্ত্রী ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াফেরি কোর্স চালু করেছেন। ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষে ২০টি সরকারি নার্সিং ইনস্টিটিউটে ৫০০ আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হয়। ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষে ২৭টি প্রতিষ্ঠানে চালু করা হয় এই কোর্স। ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে ৩১টি ইনস্টিটিউটে ৮০০ আসনের এই কোর্স চালু করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তাদের জন্য ৩ হাজার মিডওয়াইফ পদও সৃষ্টি করেছেন। এটি সিনিয়র স্টাফ নার্সদের পদমর্যাদার সমান। এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিকিত্সা পেশার মান বাড়াতে হলে নার্সিং পেশার মান বাড়াতে হবে। ১৯৩৪ সালে ইস্ট বেঙ্গল নার্সিং কাউন্সিল অ্যাক্ট, ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান নার্সিং কাউন্সিল অ্যাক্ট, ১৯৫২ সালে ইস্ট পাকিস্তান নার্সিং কাউন্সিল অ্যাক্ট করা হয়। এসব অ্যাক্টে ধাত্রীদের কথা উল্লেখ আছে। তবে এসব সব কাগজেই সীমাবদ্ধ। এ বিষয়ে কোন ধরনের উন্নয়ন ঘটিনি। বর্তমানে মিডওয়াইফেরির আলাদা কোর্সে রুপান্তরিত হয়েছে। সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা প্রসারে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে অগ্রসরতা অর্জন করেছে, মাতৃ ও শিশু মৃত্যুর হার অনেকাংশে কমেছে। বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় সাড়ে তিন লাখ নারী সন্তান প্রসব করতে গিয়ে অথবা গর্ভবতী অবস্থায় মারা যায়। যার অন্যতম কারণ হলো অপ্রশিক্ষিত কর্মীদের মাধ্যমে সন্তান প্রসব। একমাত্র দক্ষ ও প্রশিক্ষিত ধাত্রীরাই মা ও নবজাতকদের সুস্থ, নিরাপদ পরিবেশে সেবা দিতে পারেধাত্রী গর্ভকালীন থেকে প্রসব ও প্রসবোত্তর সময়ের জন্য বিজ্ঞান ভিত্তিক সেবা দিয়ে নিরাপদ মাতৃত্ব ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে। নার্সিয়ের উন্নয়ন হলে মাতৃমৃত্যুহার কমে যাবে। ২০১১ সালে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় নার্সদের দ্বিতীয় শ্রেণির পদমর্যাদাকে প্রথম শ্রেণিতে ৭ ক্যাটাগরিতে পদ বিন্যাসের অনুমোদন দেয়। ইতিমধ্যে অর্থ মন্ত্রনালয় থেকে দুটি পদের অনুমোদন দেয়। একটি পদের নাম ডেপুটি নার্সং সুপার এবং অন্যটি জেলা পাবলিক হেলথ নার্স। তবে পদোন্নতি মিলছে না অন্য ৬ ক্যাটাগরির নার্সিং কর্মকর্তাদের। পদোন্নতি নিয়ে এই অব্যস্থাপনা ৩৮ বছর ধরে চলে আসছে। আজও বিষয়টির সুরাহা হয়নি। ২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিনিয়র স্টাফ নার্সদের এন্ট্রি পয়েন্টে দ্বিতীয় শ্রেণির পদমর্যাদা প্রদানের ঘোষণা দেন। এই ঘোষণার পর আর্থিক সুবিধা পেলেও এখন পর্যন্ত নিয়োগ বিধিমালা তৈরিতে মন্ত্রনালয় ব্যর্থ্যতার পরিচয় দিয়ে আসছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ধাত্রীদের গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৫ সালের মধ্যে তিন হাজার মিডওয়াইফ তৈরির জাতীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। সরকার একদিকে এই শিক্ষা কর্মসূচির প্রয়োজনীতা অনুধাবন করে এটিকে যেমন স্বীকৃতি দিয়েছেন, তেমনি প্রশিক্ষণ শেষে এই ধাত্রীদের উপযুক্তভাবে কাজে লাগিয়ে এবং পেশার উন্নয়নে চলমান শিক্ষার ধারা অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে সরকারের ব্যাপক আন্তরিক। প্রশিক্ষিত ধাত্রীদের সেবার ফলে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত বাংলাদশেও মাতৃ ও শিশু মৃত্যুর হার কমবে। ০৫.০৫.২০১৫