ঝগড়াটে পাখি সাতভাই, সামাজিকও বটে
আইরীন নিয়াজী মান্না
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১০:৩৬ পিএম, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ সোমবার
সাতভাই
পুজার ছুটিতে গাজীপুরের মাওনায় রেইন ফরেস্ট রিসোর্ট-এ পরিবারের সবাই মিলে এসেছি আজ। বিকেলে ক্লান্তিতে চোখ জড়িয়ে আসছে। ভাবলাম একটু ঘুমিয়ে নেই। শেষ বিকেলে সবুজ গাছগাছালিতে ভরা চারপাশটা ঘুরে দেখবো। হঠাৎ জানালা গলে বাইরে চোখ যেতেই দেখি কী সুন্দর দুটি পাখি কোথথেকে উড়ে এসে শাল গাছের ঝোপালো ডালে বসলো। আমার তো ঘুম উবে গেলে সেকেন্ডেই। দ্রুত বিছানা ছেড়ে জানালার পাশে এসে দাঁড়ালাম। আরে, এতো সাত ভায়েলা বা সাত ভাই। যাকে আবার ছাতারেও বলা হয়।
পাখিগুলো দেখে বেশ কয়েক বছর আগের একটি চমৎকার স্মৃতি মনে পড়ে গেলো। আমি ছাতারের দেখা পাই প্রায় ২০/২৬ বছর আগে চাপাইনবাবগঞ্জে। অফিস থেকে অ্যাসাইনমেন্টে গেছিলাম উত্তবঙ্গের ছিমছাম এই শহরে। উঠেছিলাম আমার কলিগের বাসায়।
বিকেলে তাদের বিশাল বাড়ির ছাদে উঠেছে কলিগের ছোট বোনের সাথে। ছাদের পাশে সজনে গাছের ডালজুড়ে দেখি ২০/২৫টি লালচে রঙের পাখি বসে আছে। পাখিগুলো শরীর যেন তুলনামূলক ভাবে ভারি। ওরা ডালে ডালে থোকায় থোকায় বসে আছে। আমি তো অবাক হয়ে দেখছি। সাথে থাকা মেয়েটি পাখির পরিচয় দিলো।
পরে পড়াশুনা করে এ পাখি বিষয়ে অনেক কিছু জানতে পারি। এরপর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যায়ল ক্যাম্পাসে, ঢাকা চিড়িয়াখানাসহ নানা এলাকায় বহুবার আমি ছাতারের দেখা পাই।
সাতভাই ছাতারে (বৈজ্ঞানিক নাম: Turdoides striata), বন ছাতারে, ক্যাচক্যাচিয়া, ঝগড়াটে পাখি, সাতবইলা বা সাতভায়েলা Leiothrichidae (লিওথ্রিকিডি) গোত্র বা পরিবারের অন্তর্গত Turdoides (টুর্ডোইডিস) গণের অন্তর্গত এক প্রজাতির মাঝারি গায়ক পাখি।
সাতভাই ছাতারের বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ দাগি দামার সহজাত (লাতিন: turdus = দামা, oides = সাদৃশ্য, striatus = লম্বা দাগ)। ইংরেজিতে এদের Jungle babbler বলে।
সামাজিক পাখি সাত ভাই। ওরা সাধারণত ছয় থেকে দশটির দলে বিচরণ করে। অধিকাংশ সময়ে সাতটি ছাতারেকে একসাথে দেখা যায়। সেজন্য এদের নাম হয়েছে সাত ভাই। ওরা এক সাথে থাকে বটে, তবে সারাক্ষণই ক্যাচেরম্যাচের করে ঝগড়া করে।
পাখিটি বাংলাদেশ, ভারত ছাড়াও দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে দেখা যায়। সারা পৃথিবীতে এক বিশাল এলাকাজুড়ে এদের আবাস। প্রায় ৩১ লক্ষ ৩০ হাজার বর্গ কিলোমিটার জুড়ে ওরা থাকে।
বিগত কয়েক দশক ধরে এদের সংখ্যা অপরিবর্তিত রয়েছে। আশঙ্কাজনক পর্যায়ে যেয়ে পৌঁছেনি এখনই। সেকারণে আইইউসিএন এই প্রজাতিটিকে ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত বলে ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে এ প্রজাতিটি সংরক্ষিত।
আমাদের পরিবেশে ভালো থাকুক আমদের প্রিয় পাখিরা। মানুষ যেন পাখিদের শত্রু না হয়ে বন্ধু হয়ে ওঠে এ কামনাই করি সব সময়।
লেখক: আহবায়ক, বাংলাদেশ বার্ড ওয়াচার সোসাইটি (বিবিডব্লিউসি।
