শিশু শিক্ষায় তিন বিষয় বিবেচনার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর
অনলাইন ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪.কম
প্রকাশিত : ০১:১২ পিএম, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ মঙ্গলবার | আপডেট: ০২:২৩ পিএম, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ বুধবার
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহিংসতায় আক্রান্ত হওয়ার প্রেক্ষাপটে শিশু শিক্ষার চাহিদা মোকাবেলায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনা করার প্রস্তাব দিয়েছেন।
এক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তব্য দেয়ার সময় তিনি মিয়ানমারে বিনিয়োগ করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহবান জানান যাতে রোহিঙ্গা শিশুরা তাদের জন্মভূমিতে ফিরে শিক্ষার অধিকারসহ অন্যান্য শিশু অধিকার ভোগ করতে পারে।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো স্থানীয় সময় সোমবার বিকেলে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে সভাকক্ষে ‘নারী ও মেয়েশিশু শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ’ শীর্ষক এ গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করেন।
গোলটেবিল বৈঠকে শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রথমত, আমাদের বুঝতে হবে যে সংঘাত, জাতিগত নিধন ও গণহত্যার ঘটনায় পালানো এসব শিশু প্রচন্ড রকমের মানসিক আঘাত বহন করছে। তাদের মনো-সামাজিক চাহিদার বিষয়টি আমাদেরকে দেখতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দ্বিতীয়ত, সংঘাত ও জাতিগত নিধনযজ্ঞ চানানোর ঘটনায় পালিয়ে আসা এসব শিশু কোন সাধারণ বিদ্যালয়ে নিজেদের অভ্যস্ত করতে পারবে বলে প্রত্যাশা করা যায় না। ‘সুতরাং, তাদের জন্য অনানুষ্ঠানিক ও জীবনধর্মী বিশেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থা করা জরুরি।’
তিনি বলেন, তৃতীয়ত, জোরপূর্বক বিতাড়িত রোহিঙ্গা শিশুরা বর্তমানে ভিন্ন সংস্কৃতির মধ্যে বসবাস করছে। এসব শিশুকে নিজস্ব সংস্কৃতি, ভাষা ও জাতিগতভাবে শিক্ষা দেয়া প্রয়োজন।’
তিনি আরো বলেন, ‘এ ধরনের শিক্ষা তাদের প্রকৃত পরিচয় ধরে রাখতে সহায়তা করবে।’ এ শিক্ষা এক সময় তাদের দেশে ফিরে তাদের জীবনকে এগিয়ে নিতেও প্রস্তুত করবে।
শিক্ষা তহবিলে অর্থায়নে জাতিসংঘ শিক্ষা কমিশনের প্রচেষ্টার প্রশংসা করে শেখ হাসিনা বলেন, উন্নয়ন অংশীদারদের অনুদান প্রবাহ অবশ্যই অব্যহত রাখতে হবে।
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) ২০৩০ এ সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুঃখজনক ভাবে পৃথিবীর প্রায় ২৬৩ মিলিয়ন শিশু এখনো স্কুলের বাইরে। ২০৩০ সালের মধ্যে ৮০০ মিলিয়ন শিশু মৌলিক দক্ষতার অভাবে থাকবে এই রিপোর্টে আমরা উদ্বিগ্ন।’
এ সময় শিক্ষার জন্য তার সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ ও সফলতার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষা প্রদানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।
