ঢাকা, রবিবার ১২, জুলাই ২০২৬ ২০:২৫:৩৮ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্ককে বৈধতা দিল ভারতের আদালত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

উইমেননিউজ২৪.কম

প্রকাশিত : ০২:৩৪ পিএম, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০১:৪২ পিএম, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ শুক্রবার

সমকামিতার পর এবার বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্ককে বৈধতা দিলো ভারতের শীর্ষ আদালত। তবে সুপ্রিম কোর্ট বলেছেন, নিঃসন্দেহে বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য পরকীয়াকে কারণ হিসেবে দেখানো যেতে পারে। 

 

আজ বৃহস্পতিবার এক রায়ে পরস্ত্রীকাতরতাকে বৈধ ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। এ নিয়ে এক মাসে দু’টি ঔপনিবেশিক আমলের আইন বাতিল করে দিয়েছে ভারত। 

 

এর আগে গত ৬ সেপ্টেম্বর আদালত এক ঐতিহাসিক রায়ে ঔপনিবেশিক আমলের ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারাকে অসাংবিধানিক ঘোষণা দিয়ে সমকামিতার বৈধতা দেয়। আজ দণ্ডবিধির ৪৯৭ ধারাকে বাতিল করে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের ওপর থেকে আইনি বাধা তুলে নেওয়া হলো।


এনডিটিভির খবরে জানানো হয়, সুপ্রিম কোর্ট যে রায় দিয়েছে তাতে বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্ক নিয়ে ১৫৮ বছরের পুরনো একটি বিধান বাতিল হয়ে গেছে। ভিক্টোরিয়ান আমলের আইনটিতে এ ধরনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নারীদের ‘সম্পত্তি’ হিসেবে বিবেচনা করে শুধুমাত্র পুরুষকে সাজা দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল।


রায় দিতে গিয়ে প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র বলেন, ‘কোনো বিবাহিত নারীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক থাকা অপরাধ নয়।’ সেই সঙ্গে পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ আইনটিকে ‘পশ্চাৎপদ’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এই আইন বহাল থাকার অর্থ হলো ‘অসুখী মানুষকে’ দণ্ড দেয়ার বৈধতা দেয়া।

 

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র রায় জানান, “পরকীয়া করা যে ডিভোর্সের একটি বড় কারণ হতে পারে, তা নিয়ে সংশয় নেই। তবে এটা কোনোভাবেই অপরাধ নয়।
 
 
তিনি আরও বলেন, যে আইন ব্যক্তিস্বাধীনতা ও নারীদের সমানাধিকারের দাবিকে কোনোভাবে ক্ষুণ্ণ করে, তা সম্পূর্ণভাবে সংবিধান বিরোধী। এই আইন, নারীদের এতদিন ‘পুরুষের সম্পত্তি’ বলে মনে করত।


দণ্ডবিধিতে বিবাহিত নারীদের ক্ষেত্রে স্বামীর সম্মতি ছাড়া অন্য কোনো পুরুষ যৌন সম্পর্ক রাখলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড ও উভয়-দণ্ডের বিধান ছিল।


ঔপনিবেশিক এই আইন সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, কোনো স্বামী তার স্ত্রীর প্রভু বা মালিক হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন না। ভারতের সংবিধানে স্পষ্ট করে উল্লেখ করে দেওয়া আছে, নারীকে ব্যক্তিগতভাবে অসম্মানিত করে বা বৈষম্য সৃষ্টি করে এমন যেকোনো আইন এই সংবিধানের পরিপন্থী হবে। পৃথিবীর অন্যান্য দেশও এ ধরনের আইনগুলো অনেক আগেই বিলোপ করে দিয়েছে।