ঢাকা, বুধবার ১৫, জুলাই ২০২৬ ৪:০১:০৫ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

উন্নয়ন মেলা উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক

উইমেননিউজ২৪.কম

প্রকাশিত : ০২:২০ পিএম, ৪ অক্টোবর ২০১৮ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ১১:৪৬ এএম, ৫ অক্টোবর ২০১৮ শুক্রবার

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আজ বৃহস্পতিবার তিন দিনব্যাপী উন্নয়ন মেলার (ডেভেলপমেন্ট ফেয়ার) উদ্বোধন করেছেন। 

 

জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। 

 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০২০ সালে আমরা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করবো, আর স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করবো ২০২১ সালে; সে সময়ে বাংলাদেশ হবে একটি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ। আর ২০৪১ সালে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে উঠবে, সেভাবেই আমরা আমাদের পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন অব্যাহত রেখেছি।’

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এমন বাংলাদেশ গড়তে চাই যে বাংলাদেশ খাদ্য, শিক্ষা এবং মেধা সহ সকল ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরশীল হবে। সেই লক্ষ্যে দেশকে ধাপে ধাপে এগিয়ে নেওয়ার জন্যই আমরা ‘ডেল্টা প্লান-২১০০’ প্রণয়ন করেছি। যাতে করে উন্নয়নটা টেকসই হতে পারে।’


তিনি বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এবং এই অগ্রযাত্রা যেন ব্যাহত না হয়, এটা যেন অব্যাহত থাকে। তাহলেই ধাপে ধাপে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।


নতুন প্রজন্মেরই এখন দায়িত্ব বাংলাদেশ এগিয়ে নেয়ার এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যত এবং তারাই দেশকে আগামীতে এগিয়ে নিয়ে যাবে।


তিনি বলেন, আজকের তরুণ আগামী দিনে হবে এদেশের কর্ণধার। কাজেই আমাদের সকল আয়োজন হচ্ছে এই তারুণ্যের জন্য।


তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ভবিষ্যত গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েই তাঁর সরকার কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আজকে বাংলাদেশের যে উন্নয়ন সেই উন্নয়ন সম্পর্কে মানুষকে ওয়াকিবহাল করা এবং এর সুফলটা যেন তারা ভোগ করতে পারে। এরমাধ্যমে নিজের ভাগ্য গড়তে পারে সে বিষয়টা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।


‘তরুণ প্রজন্ম লেখাপড়া শিখে স্বপ্রণোদিত হয়ে নিজেদের মেধা দিয়ে নিজেদের ভাগ্য যেমন গড়বে তেমনি দেশের ভাগ্যও গড়বে। আর সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমাদের এই দেশব্যাপী উন্নয়ন মেলার আয়োজন’, বলেন প্রধানমন্ত্রী।


প্রধানমন্ত্রী এই উন্নয়ন মেলা তরুণ প্রজন্মের জন্য উৎসর্গ করে বলেন, তারা যেন নিজের জীবনকে সুন্দরভাবে গড়তে পারে। সন্ত্রাস, মাদক বা জঙ্গিবাদ- এসব থেকে মুক্ত থেকে তাঁরা নিজেদের সুন্দরভাবে গড়ে তুলবে, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।


তিনি বলেন, ‘তাহলে তারা নিজের ভাগ্য যেমন গড়তে পারবে, দেশকেও তেমনি কিছু দিতে পারবে। তাদের পরিবারগুলোও সুন্দরভাবে বাঁচবে।’

 

রাজধানীর ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ময়দানে এবং প্রত্যেক জেলা ও উপজেলায় একই সময়ে এই উন্নয়ন মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মেলার উদ্বোধনী উপলক্ষে সকালে শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। মেলায় উন্নয়নের বিভিন্ন ধারণা ভিত্তিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে এবং সেগুলোতে দেশি ও বিদেশি উন্নয়ন অংশীদাররা অংশগ্রহণ করবে।

 

বর্তমান সরকারের গৃহীত উন্নয়ন কার্যক্রম জনগণের কাছে তুলে ধরতে আগামী ৪ থেকে ৬ অক্টোবর রাজধানী ঢাকাসহ একযোগে দেশের সকল জেলা ও উপজেলায় ৪র্থ জাতীয় উন্নয়ন মেলা অনুষ্ঠিত হবে।

 

রাজধানী ঢাকায় আগারগাঁওয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার মাঠে এ মেলা আয়োজন করা হয়েছে। রাজধানীতে এবারের এই মেলায় ৩৬৬টি স্টল রয়েছে। এছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশ দূতাবাসমূহেও এ মেলা চলছে।

 

২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের ও ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ হিসাবে গড়ে তুলতে সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড এবং বিভিন্ন খাতের সাফল্য তুলে ধরাই এ উন্নয়ন মেলার প্রধান লক্ষ্য।

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতৃত্বে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্নখাতে অর্জিত দেশের অভূতপূর্ব উন্নয়ন মেলায় তুলে ধরা হচ্ছে।

 

এছাড়া, সেবা প্রদান সহজীকরণে বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর প্রতিশ্রুত সেবা ‘ওয়ান স্টপ’ সার্ভিসের মাধ্যমে এ মেলা হতে সরাসরি জনগণ পাবেন।

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১০টি বিশেষ উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও সাফল্য, রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১- এর মাধ্যমে উন্নত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা, তথ্যপ্রযুক্তি, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট, পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন মেগাপ্রকল্প এবং দেশে বিনিয়োগ সম্ভাবনা উন্নয়ন মেলায় তুলে ধরা হবে।

 

ঢাকার আগারগাঁওয়ে আয়োজিত উন্নয়ন মেলায় তথ্য মন্ত্রণালয়ের ১১টি স্টল থাকবে। প্রতিটি সুসজ্জিত স্টলের আকার হবে ১০০ বর্গফুট। মেলায় বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ, গণমাধ্যমসহ দেশের উন্নয়নে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান এবং বর্তমান সরকারের সময়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন ও সাফল্যের বিষয়ে জনগণকে অবহিত করা হবে।

 

গণযোগাযোগ অধিদপ্তর সারাদেশে ৬৪টি জেলায় জেলা তথ্য অফিসের মাধ্যমে সরকারের সাফল্য চিত্র তুলে ধরবে। বাংলাদেশ বেতারের ১২টি আঞ্চলিক অফিসসহ মন্ত্রণালয়াধীন সকল দপ্তর বা সংস্থা তাদের উন্নয়ন কার্যক্রম মেলায় তুলে ধরবে। এছাড়াও যে সকল দপ্তর বা সংস্থার বই অথবা সচিত্র প্রকাশনা রয়েছে তারা মেলায় সেগুলো বিক্রি অথবা বিনামূল্যে বিতরণ করবে।

 

জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক আয়োজনে জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তর বা সংস্থা ব্যাংক, বীমা ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশগ্রহণ করবে। মেলায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ‘রিয়েলিটি শো’, রচনা প্রতিযোগিতা, চিত্রাঙ্কনসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।