শান্তিতে নোবেল পেলেন নাদিয়া মুরাদ ও ডেনিস মুকওয়েজ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪.কম
প্রকাশিত : ০৫:৪৩ পিএম, ৫ অক্টোবর ২০১৮ শুক্রবার | আপডেট: ১২:৫৫ পিএম, ৬ অক্টোবর ২০১৮ শনিবার
যুদ্ধের সময় যৌন নিপীড়ন বন্ধে ভূমিকা রাখায় এ বছর শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার পেয়েছেন ইরাকের কুর্দি মানবাধিকার কর্মী নাদিয়া মুরাদ এবং কঙ্গোর চিকিৎসক ডেনিস মুকওয়েজ। আজ শুক্রবার নরওয়ের রাজধানী ওসলোতে স্থানীয় সময় সকাল ১১টার দিকে (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা) বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে দেশটির নোবেল একাডেমি।
নোবেল কমিটির সভাপতি বেরিট রেইস-এন্ডারসেন বলেন, এসব অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তারা দু’জন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
মুরাদ হচ্ছেন একজন ইয়াজিদি নারী। ইরাকে ইয়াজিদিরা সংখ্যালঘু। মুরাদ পূর্বে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের কাছে বন্দি থাকা অবস্থায় ধর্ষিত ও নির্যাতিত হয়েছেন।
এই বছর পুরস্কারটির জন্য মনোনীত হয়েছিল মোট ৩৩১ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান।
নাদিয়া মুরাদ : ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় ছোট্ট গ্রাম কোচোতে পরিবারের সঙ্গেই থাকতেন নাদিয়া মুরাদ। ২০১৪ সালে ইসলামিক জঙ্গিগোষ্ঠী (আইএস) ঢুকে পড়ে ওই গ্রামে পুরুষদের হত্যা করার পর নাদিয়া ও অন্য নারীদের মসুল শহরে নিয়ে যায়। সেখানে যৌনদাসী হিসেবে বিক্রি হন নাদিয়াও। আইএসের যৌনদাসী হিসেবে বেশ কিছুদিন থাকার পর পালিয়ে আসেন তিনি।
আইএসের কাছ থেকে পালিয়ে আসার পর নাদিয়া মুরাদ জাতিসংঘের শুভেচ্ছাদূত হন। মানবাধিকারবিষয়ক আইনজীবী আমাল ক্লুনির সঙ্গে আইএস জঙ্গিদের হাতে বন্দী ইয়াজিদি নারী ও যারা পালিয়ে এসেছেন, তাদের নিয়ে কাজ করছেন তিনি।
ডেনিস মুকওয়েজ : আর ৬৩ বছর বয়সী ডেনিস মুকওয়েজ হচ্ছেন কঙ্গোর একজন স্ত্রীরোগবিশেষজ্ঞ। তিনি ধর্ষণের শিকারদের চিকিৎসা করে থাকেন। এখন পর্যন্ত তিনি ও তার সহকর্মীরা মিলে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এমন প্রায় তিন হাজার ব্যক্তির চিকিৎসা করেছেন। এমন মানবসেবার জন্য ২০০৮ সালে তিনি জাতিসংঘ মানবাধিকার পুরস্কার এবং ২০০৯ সালে ‘আফ্রিকান অব দ্য ইয়ার’ সম্মাননা লাভ করেন। নিজের হাসপাতালে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীগুলোর ‘স্থায়ী নিরাপত্তা’ মর্যাদায় থাকছেন মুকওয়েজ। বিভিন্ন সময়ে তিনি যুদ্ধ-সংঘাতে ধর্ষণকে অস্ত্র বানানোর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি।
এ বছর রসায়নে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন যৌথভাবে ফ্রান্সেস এইচ আর্নল্ড, জর্জ পি. স্মিথ ও স্যার গ্রেগরি পি. উইন্টার। এছাড়া পদার্থবিদ্যায় যৌথভাবে আর্থার আসকিন, জেরার্ড মোরউ ও ডোননা স্ট্রিকল্যান্ড, চিকিৎসাশাস্ত্রে যৌথভাবে জেমস পি. অ্যালিসন ও তাসুকো হনজো নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
এছাড়া আগামী সোমবার (৮ অক্টোবর) অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে। এ বছর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে না। ২০১৯ সালে এবারেরটি মিলিয়ে একসঙ্গে দু’টি পুরস্কার দেওয়া হবে।
