পুলিশের খোয়া যাওয়া অস্ত্র অধরা নির্বাচন ঘিরে আতঙ্ক
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০৯:৪৮ এএম, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ শুক্রবার
ছবি: সংগৃহীত
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় সিরাজগঞ্জে পুলিশ সদস্য হত্যাকাণ্ড এবং থানা থেকে অস্ত্র লুটের ঘটনার প্রায় সাড়ে ১৬ মাস পার হয়ে গেছে। এখনও উদ্ধার হয়নি ১৪টি আগ্নেয়াস্ত্র ও পাঁচ শতাধিক রাউন্ড গোলাবারুদ। অস্ত্রগুলো উদ্ধার না হওয়ায় নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, সাধারণ মানুষ ও প্রার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ততই বাড়ছে। পুলিশের লুট হওয়া আধুনিক অস্ত্রগুলো এখন কাদের হাতে– এ প্রশ্নই এখন জেলার সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর ও হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানায় হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ওই দিন সংঘর্ষে ১৫ জন পুলিশ সদস্য নিহত হন। থানা দুটি থেকে মোট ২৮টি আগ্নেয়াস্ত্র লুট হয়েছিল। এর মধ্যে ছিল ১০টি চায়নিজ রাইফেল, ১২টি পিস্তল এবং ৬টি শটগান। যার মধ্যে এখনও ১৪টি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এতে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে দেশ। অস্ত্র উদ্ধারে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ চললেও সিরাজগঞ্জে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই।
সিরাজগঞ্জ জেলা বরাবরই নির্বাচনকালীন চরমপন্থি ও সর্বহারাদের তৎপরতার জন্য পরিচিত। অতীতেও নির্বাচনের আগে প্রভাবশালী প্রার্থীরা আধিপত্য বিস্তারে এসব অস্ত্রধারী গোষ্ঠীকে ব্যবহার করেছেন। ২০২৩ সালে তাড়াশের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হত্যাকাণ্ড এবং বেলকুচিতে বোমা বিস্ফোরণ মামলার প্রধান আসামিরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। এসব ঘটনা ছাড়াও সম্প্রতি ঢাকায় ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরিফ ওসমান হাদি এবং মগবাজারে ককটেল হামলায় শ্রমিক নিহতের ঘটনায় আতঙ্ক আরও বেড়েছে।
জেলা পুলিশের তথ্যমতে, নির্বাচনে ১৪৮টি কেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রশাসন ১৭৫টি পুরোনো অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করেছে। এর মধ্যে সাবেক এমপি জান্নাত আরা হেনরি, তাঁর স্বামীসহ পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের ৬টি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ৩২ জন নিহতের ঘটনায় ১৮টি মামলা হয়েছে। তবে এসব মামলায় গুটিকয়েক আসামি গ্রেপ্তার হলেও সাবেক এমপি হাবিব মিল্লাত মুন্না, তানভীর শাকিল জয়, আব্দুল মমিন তালুকদার, পানি সচিব কবির বিন আনোয়ার, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কেএম হোসেন আলী হাসান, সহসভাপতি সাবেক মেয়র সৈয়দ আব্দুর রহমানসহ অধিকাংশ প্রভাবশালী আসামি (সাবেক এমপি ও আওয়ামী লীগ নেতা) এখনও পলাতক।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, পুলিশের খোয়া যাওয়া অস্ত্র উদ্ধার না হলে এবং বৈধ অস্ত্রগুলো থানায় জমা না দিলে নির্বাচনের সময় পেশিশক্তির প্রভাব ও নিরাপত্তা ঝুঁকি থেকেই যাবে। একই কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর জেলা সেক্রেটারি ও সিরাজগঞ্জ-২ (সদর ও কামারখন্দ) আসনের প্রার্থী মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম। তাঁর ভাষ্য, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও বৈধ অস্ত্র জমা না নিলে পেশিশক্তির ঝুঁকি থেকেই যাবে বলে মনে করেন তিনি।
জেলা বাসদের আহ্বায়ক নবকুমার কর্মকার বলেন, অতীতের নির্বাচনগুলোতে আগেভাগেই অস্ত্র উদ্ধার অভিযান চললেও এবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। ঢাকায় হত্যাকাণ্ড ও বোমা বিস্ফোরণের পর সিরাজগঞ্জেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজুর রহমান বলেন, একাধিক টিম অস্ত্র উদ্ধারে মাঠে রয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর তালিকা নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ১২২টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র পরিদর্শন করা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ পেলে বৈধ অস্ত্র জমা নেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হবে।
