ঢাকা, মঙ্গলবার ১৭, মার্চ ২০২৬ ৫:২৯:৫১ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ দেশ গড়ার বার্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১০:০০ এএম, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ শুক্রবার

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যে ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে দেশে ফিরে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার ইচ্ছার কথা জানালেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, নারী-পুরুষ-শিশুসহ সব শ্রেণি-পেশা এবং সব ধর্মের মানুষ যাতে নিরাপদে থাকে, সেই চেষ্টা তাঁর ও তাদের দলের থাকবে। 

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকার পূর্বাচলের ৩০০ ফুট এলাকায় গণসংবর্ধনা মঞ্চে দাঁড়িয়ে তারেক রহমান এসব কথা বলেন। তাঁর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে এই সংবর্ধনার আয়োজন করে বিএনপি। এ সময় তিনি শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার প্রত্যয় ব্যক্ত করে যে কোনো উস্কানির মুখে শান্ত থাকতে সবাইকে আহ্বান জানান। 

সবাই মিলে দেশ গড়ার প্রত্যয় জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা দেশের শান্তি চাই। আমরা সবাই মিলে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলব, যা একজন মা দেখেন। যে বাংলাদেশে একজন মানুষ নিরাপদে ঘর থেকে বের হতে পারে এবং নিরাপদে ঘরে ফিরে আসতে পারে।’

‘প্রিয় বাংলাদেশ’ বলে শুরু করা বক্তব্যে তারেক রহমান দেশের মানুষের জন্য, দেশের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য তাঁর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আছে বলে জানান। এ সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কিংবদন্তি কৃষ্ণাঙ্গ নেতা ও মানবাধিকারকর্মী মার্টিন লুথার কিংয়ের বিখ্যাত ‘আই হ্যাভ আ ড্রিম’ ভাষণের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একজন সদস্য হিসেবে আমি বলতে চাই– ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান ফর দ্য পিপল অব মাই কান্ট্রি, ফর মাই কান্ট্রি (দেশের মানুষের জন্য, দেশের জন্য আমার একটি পরিকল্পনা আছে)। এই পরিকল্পনা দেশের মানুষের স্বার্থে, দেশের উন্নয়নের জন্য, দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য।’ 

তারেক রহমান বলেন, ‘যদি সেই কার্যক্রম, সেই পরিকল্পনাকে বাস্তবায়ন করতে হয়, তাহলে এই জনসমুদ্রে যত মানুষ উপস্থিত আছেন এবং সারা বাংলাদেশে গণতন্ত্রের শক্তির যত মানুষ আছেন, প্রত্যেক মানুষের সহযোগিতা আমার লাগবে।’ তিনি বলেন, ‘আধিপত্যবাদী শক্তির গুপ্তচররা এখনও বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। আমাদের ধৈর্যশীল হতে হবে।’ 

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জোর দিয়ে বলেন, ‘যে কোনো মূল্যে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে। আমরা দেশের শান্তি চাই, শান্তি চাই, শান্তি চাই।’ 

বিকেল ৪টার আগে পূর্বাচলে জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়েতে আয়োজিত সংবর্ধনা মঞ্চে ওঠেন তারেক রহমান। লন্ডন থেকে দীর্ঘ পথ ভ্রমণের পর সিলেট হয়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন তিনি। সেখান থেকে বুলেটপ্রুফ বাসে পুরোটা পথ দাঁড়িয়ে তিনি লাখ লাখ নেতাকর্মীর শুভেচ্ছার জবাব দিতে দিতে সংবর্ধনা মঞ্চে পৌঁছান। মঞ্চে ওঠার পর তিনি উপস্থিত জ্যেষ্ঠ নেতা ও জোট শরিকের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এরপর ১৬ মিনিট বক্তব্য দেন। 

এর আগে সকাল ১০টা থেকে মঞ্চ থেকে বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী অ্যানী ও প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন। তারেক রহমানকে বহন করা উড়োজাহাজ যখন ঢাকার মাটি স্পর্শ করে, তখন পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু করা হয়। সকাল থেকে বিরতি দিয়ে জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া, তারেক রহমানের সংগ্রামী জীবন ছাড়াও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হয়।