ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৯, জানুয়ারি ২০২৬ ৩:৪১:৩৩ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

ভেনেজুয়েলার মতো পদক্ষেপ সহ্য করা হবে না, হুঁশিয়ারি মেক্সিকোর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৯:১৮ এএম, ৭ জানুয়ারি ২০২৬ বুধবার

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার পর মেক্সিকোর সরকার ব্যাপক কূটনৈতিক ভারসাম্যের মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর এবারই প্রথম এই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে দেশটি। ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানের তীব্র নিন্দা জানালেও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করছে দেশটি; যাতে মেক্সিকো পরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত না হয়।

গত শনিবার মার্কিন বিশেষ বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মেক্সিকোর ভেতরে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনার কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, মাদক কার্টেলগুলো দেশটি চালাচ্ছে এবং মেক্সিকো নিয়ে কিছু একটা করতেই হবে।

এসব ঘটনায় মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম স্পষ্টতই অস্বস্তিতে পড়েছেন। সোমবার সকালের দিকে দৈনিক সংবাদ সম্মেলন শুরু করেন ভেনেজুয়েলা নিয়ে মেক্সিকোর অবস্থান ব্যাখ্যা করা একটি নথি পড়ে শোনানোর মাধ্যমে।

তিনি বলেন, আমরা অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপকে স্পষ্ট ও দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করি। লাতিন আমেরিকার ইতিহাস পরিষ্কার ও জোরালোভাবে বলে—হস্তক্ষেপ কখনো গণতন্ত্র আনেনি, কল্যাণ সৃষ্টি করেনি কিংবা দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতাও দেয়নি।

ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকে ওয়াশিংটনের প্রতি শেইনবাউমের এসব মন্তব্য নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়েছে এবং মাদুরোর অপসারণের বিরুদ্ধে অঞ্চলজুড়ে সবচেয়ে শক্ত প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলেছেন, এই হামলার কঠোর নিন্দা জানিয়ে শেইনবাউম মেক্সিকোতে মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে একই ধরনের পদক্ষেপ সহ্য করবেন না বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক পাচার, সন্ত্রাসবাদ ও অস্ত্রসংক্রান্ত অপরাধে অভিযোগ এনেছে। সোমবার নিউইয়র্কের একটি আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন এবং যুদ্ধবন্দি বলে ঘোষণা দেন মাদুরো।

তবে পর্দার আড়ালে ভেনেজুয়েলায় হামলার পর মেক্সিকো সিটি সম্ভবত ওয়াশিংটনের আরও কাছাকাছি যাবে—এই আশায় যে দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার হলে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন ঠেকানো যাবে বলে ধারণা করছেন মেক্সিকান কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মেক্সিকোর এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, যৌথ নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং কার্টেলবিরোধী লড়াই আরও শক্তিশালী করাই একতরফা মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ এড়ানোর মূল চাবিকাঠি।