ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৯, জানুয়ারি ২০২৬ ৩:১২:৩৪ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

ভালোবেসে বাংলাদেশিকে বিয়ে করলেন দক্ষিণ আফ্রিকার তরুণী

মাদারীপুর প্রতিনিধি

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৯:৫১ এএম, ৭ জানুয়ারি ২০২৬ বুধবার

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় সাত বছর আগে বাড়ি ছেড়ে প্রবাসে যান সজিব বেপারী। সেখানে পরিচয় হয় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার মাহেরা দত্তএ নামে এক তরুণীর সঙ্গে। গড়ে ওঠে সখ্যতা ও প্রেম। এরপর সেই সম্পর্ক গড়ায় বিয়েতে। মাহেরার কোলজুড়ে আসে কন্যাসন্তান।

দীর্ঘ সাত বছর পর শ্বশুরবাড়ি দেখতে স্বামী সজিবের সঙ্গে সন্তান নিয়ে বাংলাদেশে ছুটে এসেছেন মাহেরা। এ নিয়ে এলাকায় পড়েছে হইচই। নিজ বাড়িতে সজীব ও মাহেরার বিবাহত্তোর অনুষ্ঠান করে পরিবার। গায়ে হলুদ থেকে শুরু করে বৌভাত—ছিল সব আয়োজন। এই আনন্দঘন পরিবেশ দেখে মুগ্ধ আফ্রিকান এই তরুণী।

বিদেশি বৌ দেখতে মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার কাজীবাকাই ইউনিয়নের দক্ষিণ ভাউতলী গ্রামের বাসিন্দা সাবেক ইউপি সদস্য মিন্টু বেপারীর বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছেন এলাকার উৎসুক মানুষ। সজিব ওই গ্রামের মিন্টু বেপারী ও লিপি বেগম দম্পতির বড় ছেলে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাত বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমান সজিব বেপারী। কেপটাউন সিটির আলেকজান্ডার এলাকায় সুপারশপের ব্যবসা শুরু করেন এই বাংলাদেশি যুবক। চার বছর আগে পরিচয় সেখানকার তরুণী সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার মাহেরা দত্তএর সঙ্গে। পরে দুইজনের মধ্যে গড়ে ওঠে সখ্যতা। এরপর প্রেম গড়ায় বিয়েতে। ২০২৩ সালের ১৮ জুন দুজনে পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে করেন।

আফ্রিকান এই তরুণী জানান, বাংলাদেশ ও এই দেশের মানুষের প্রতি ভালো লাগার কথা। এদিকে সজীবের পরিবারও খুশি বিদেশি এমন পুত্রবধূ পেয়ে।

সজীব বেপারী চলতি মাসের শেষে তার স্ত্রীকে নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় ফেরার কথা রয়েছে। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, নেপাল ও ইতালির পর এবার দক্ষিণ আফ্রিকার তরুণী ভালোবেসে বিয়ে করেছে বাংলাদেশিকে। যা নিয়ে পাড়ামহল্লায় পড়েছে হইচই।

দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিক ইঞ্জিনিয়ার মাহেরা দত্তএ বলেন, সজীব খুবই ভালো ছেলে। ওর সঙ্গে কথা বলে আমার বেশ আনন্দ হতো। এরপর প্রেমে পড়ে যাই। পরিবার অনুমতি দিলে দুজনের বিয়ে হয়। আমার সংসার আলোকিত করতে কন্যা সন্তান আসে। এ ছাড়া, বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষই আন্তরিক ও ভালো মনের।

প্রবাসী সজীব বেপারী বলেন, বিদেশে থাকার সুবাধে বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে প্রেম হয়। ভালোলাগা থেকেই তৈরি হয়েছে এমন পরিস্থিতি। মাহেরার বাবা ফ্রান্সপ্রবাসী, আর একটি রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার। সবকিছু মিলিয়ে বিয়ে এবং অনুষ্ঠান খুবই আনন্দে কেটেছে।

সজীবের মা লিপি বেগম বলেন, প্রথমে ভেবেছিলাম পুত্রবধূ কেমন হয়! কিন্তু বাড়িতে আসার পর সেই ধারণা পাল্টে গেছে। অল্প অল্প বাংলা বুঝে, ইশারায় বাকিটা বুঝে নেয় সে। আমাদের সঙ্গে ভালোই আনন্দে আছে।

সজীবের বাবা মিন্টু বেপারী বলেন, পুত্র ও পুত্রবধূর জন্য সবাই দোয়া করবেন। ওরা যেন সারাজীবন ভালো থাকতে পারে।