বুড়িগঙ্গার নিচে গ্যাস লাইনে ফাটল, ভোগান্তিতে অনেকে
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১০:৪৩ এএম, ৮ জানুয়ারি ২০২৬ বৃহস্পতিবার
ছবি: সংগৃহীত
বুড়িগঙ্গা নদীর তলদেশে গ্যাস পাইপলাইনে বড় ধরনের লিকেজের কারণে রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে করে আমিনবাজার, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, আদাবর, আজিমপুর, পুরান ঢাকাসহ আশপাশের এলাকার কয়েক লাখ গ্রাহক ভোগান্তিতে পড়েছেন।
তিতাস গ্যাসের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) প্রকৌশলী কাজী মোহাম্মদ সাইদুল হাসান বুধবার দুপুরে বলেন, আমিনবাজার থেকে আসা গ্যাস পাইপলাইনটি বুড়িগঙ্গা নদীর নিচে লিকেজ হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে আশপাশের এলাকায় গ্যাসের চাপ কমিয়ে রাখা হয়েছে। তিন দিন ধরে তিতাসের লোকজনের সঙ্গে কোস্টগার্ড, ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরি দল একসঙ্গে মেরামতের কাজ করছে।
বুধবার একটি লিক ক্ল্যাম্প বসানো সম্ভব হয়েছে, তবে পুরোপুরি মেরামত এখনও শেষ হয়নি। বিশেষ আকারের নতুন লিক ক্ল্যাম্প তৈরি করে আবার কাজ শুরু করতে হবে। আপাতত লিকেজের পরিমাণ কিছুটা কমানো গেছে। ধাপে ধাপে গ্যাসের চাপ বাড়ানো হবে।
তবে সংস্থাটি গতকাল রাতে এক বার্তায় জানায়, ‘ফায়ার সার্ভিস, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, নৌ-পুলিশ ও বিআইডব্লিউটিএর সহযোগিতায় লাইনের লিকেজে ক্ল্যাম্প স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে ওই লাইন থেকে ঢাকার নেটওয়ার্কে ২৫ পিএসআইজি চাপে গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে। বাহ্যিকভাবে কোনো গ্যাস লিকেজ এখন পরিলক্ষিত হচ্ছে না।’
শীতে নগরজুড়ে এমনিতেই গ্যাস সংকট চলছে। এর সঙ্গে পাইপলাইনজনিত সমস্যার কারণে আমিনবাজার, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, আদাবর, আজিমপুর, পুরান ঢাকার অধিকাংশ বাসাবাড়িতে তিন দিন ধরে চুলা জ্বলছে না। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সারাদিন গ্যাস না থাকায় রান্না বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
আদাবরের বাসিন্দা নাসির উদ্দিন বলেন, গ্যাস না থাকায় পরিবারের সবাইকে বাইরে খেতে হচ্ছে। এলপিজি কিনে রান্না করার কথা ভাবলেও দাম এতটাই বেশি, সেটাও কঠিন হয়ে পড়েছে। আজিমপুরের বাসিন্দা লিমা রহমানের অভিযোগ–আগে থেকে জানানো হলে অন্তত বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া যেত, হঠাৎ সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া মোটেই দায়িত্বশীলতার পরিচয় নয়।
সংকটের প্রভাবে নগরের বিভিন্ন ইলেকট্রনিকস দোকানে ইনডাকশন কুকার ও বৈদ্যুতিক চুলার বিক্রি বেড়েছে। গোপীবাগের বাসিন্দা ঝর্ণা বলেন, দুদিন ধরে বাসায় গ্যাস একদম নেই। ফলে আজ (বুধবার) ইলেক্ট্রিক চুলা কিনছি।
গ্যাসচাপ কম থাকায় সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতেও গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। চালকরা জানান, একবার গ্যাস নিতে দুই তিন ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে, এতে আয় কমে গেছে।
