রাজধানীতে ছয় ঘণ্টায় পাঁচ স্থানে অবরোধ, ভোগান্তি
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১০:৩৭ এএম, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ বৃহস্পতিবার
ছবি: সংগৃহীত
পৃথক দাবিতে পাঁচ স্থানে প্রায় ছয় ঘণ্টায় শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধের ফলে গতকাল বুধবার রাজধানী ঢাকা হয়ে উঠেছিল দুর্ভোগের নগরী। এর মধ্যে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ জারির দাবিতে টেকনিক্যাল মোড়, মহাখালীর আমতলী, সায়েন্স ল্যাব ও তাঁতীবাজার মোড় অবরোধ করেন সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া সহপাঠী হত্যার বিচার চেয়ে তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থীরা ফার্মগেট মোড় অবরোধ করেন।
গুরুত্বপূর্ণ পাঁচ পয়েন্টে অবরোধের ফলে বিভিন্ন সড়কে দেখা দেয় তীব্র যানজট। কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে রাজধানী। অবস্থা এমন আকার ধারণ করে, ১০ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে লেগে যায় কয়েক ঘণ্টা। অফিস শেষে আরও নাজুক হয় পরিস্থিতি। রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সগুলোকেও বেগ পেতে হয়। মেট্রোরেল ব্যবহারকারী ছাড়া কেউ নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছতে পারেননি। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন নারী-শিশু ও বৃদ্ধরা। হেঁটে গন্তব্যে রওনা হন অনেকে।
এদিকে গতকাল বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত অবরোধের পর আজ বৃহস্পতিবার আবারও সায়েন্স ল্যাব, তাঁতীবাজার ও টেকনিক্যাল মোড়ে একই কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থীরা আজ বিকেলে তেজগাঁও থানা ঘেরাওয়ের কথা জানিয়েছেন।
সরেজমিন দেখা যায়, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সায়েন্স ল্যাব এলাকায় অবরোধের ফলে মিরপুর সড়কে (নিউমার্কেট-গাবতলী) যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ ও বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে সড়ক বন্ধ করে দেন। এতে সায়েন্স ল্যাব থেকে নিউমার্কেট, আজিমপুর, শাহবাগ ও ধানমন্ডি সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সড়কের দুপাশে আটকে পড়ে সারি সারি যানবাহন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও অবরোধ তুলে না নেওয়ায় অনেকে বাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও প্রাইভেটকার থেকে নেমে হেঁটেই গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হন।
নিউমার্কেট থেকে কেনাকাটা করে মিরপুর-১ নম্বরে যাওয়ার উদ্দেশে বাসে উঠেছিলেন মো. আলা মিয়া। দুপুর ২টার দিকে তিনি জানান, বাস কিছুদূর এগিয়েই থেমে যায়। পরে জানতে পারেন, সামনে সড়ক অবরোধ করেছেন ছাত্ররা। সঙ্গে মালপত্র থাকায় বাসেই বসেছিলেন প্রায় ২০ মিনিট। পরে হাঁটতে শুরু করেন।
ট্রাফিক পুলিশের দারুস সালাম জোনের সহকারী কমিশনার ইমদাদ হোসেন বিপুল বলেন, বাঙলা কলেজের শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধের কারণে গাবতলী, টেকনিক্যাল মোড় ও মিরপুর সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
দুপুর পৌনে ১২টার দিকে তাঁতীবাজার মোড় অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি ট্রাফিক বিভাগ। ট্রাফিক লালবাগ জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার আমিনুল কবীর তরফদার বলেন, কবি নজরুল কলেজ ও সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থীরা তাঁতীবাজার চৌরাস্তা অবরোধ করেন। অবরোধের ফলে কোনো যানবাহন চলছে না।
দুপুর ১টার দিকে তিতুমীর কলেজের কিছু শিক্ষার্থী মহাখালী এলাকায় ১০-১৫ মিনিট সড়ক অবরোধ করে রাখেন। পরে তারা সড়ক ছেড়ে দেন। এ ছাড়া বিকেল সোয়া ৩টার দিকে তাঁতীবাজার, সাড়ে ৩টার দিকে টেকনিক্যাল মোড় ও বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সায়েন্স ল্যাব এলাকা থেকে সরে যান শিক্ষার্থীরা।
অপরদিকে তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থী সাকিবুল হাসান রানা হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফার্মগেট এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন তাঁর সহপাঠীরা। বিকেল সোয়া ৪টা পর্যন্ত তাদের অবরোধের কারণে ফার্মগেট হয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তীব্র যানজটে দুর্ভোগে পড়েন বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা। রানা হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তার দাবিতে আজ বিকেল ৩টায় তেজগাঁও থানা ঘেরাও করবেন বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
ফার্মগেটে অবরোধের কারণে আটকে পড়া এক নারী আন্দোলনকারীদের ওপর ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তিনি বলেন, ‘তোমরা কেন অবরোধ করেছে? কেন আমাকে কষ্ট দিচ্ছ বলো? এটা অন্যায়, এটা জুলুম। মানুষকে কষ্ট দেওয়ার কোনো অধিকার কারও নেই। কত মানুষের কত রকম কষ্ট। তোমরা বোঝ এগুলা? আগে রাস্তা ছাড়বা তার পর কথা।’
আজও তিন মোড়ে অবরোধ
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ দ্রুত জারির দাবিতে আন্দোলনরত সাত সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা আজও রাজধানীর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। তাদের দাবি– আজই উপদেষ্টা পরিষদের সভায় ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন-২০২৫’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়ে রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে দ্রুত অধ্যাদেশ জারি করতে হবে। শিক্ষার্থীদের হুঁশিয়ারি, সরকারের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট ঘোষণা না আসা পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে।
গত মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, অধ্যাদেশ অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত অন্তর্ভুক্ত করে পরিমার্জিত খসড়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী ধাপে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নীতিগত সম্মতি ও লেজিসলেটিভ বিভাগের ভেটিং শেষে উপদেষ্টা পরিষদে উত্থাপন করা হবে।
